সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

মা নেই ১৫ বছর, এবার বাবাকে হারিয়ে দিশাহারা তাসমিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মা নেই ১৫ বছর, এবার বাবাকে হারিয়ে দিশাহারা তাসমিয়া
মো. মোশাররফ হোসেন

সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। এরপর দুই মেয়েকে নিয়েই ছিল তার সংসার। বড় মেয়ে সারিকা আজমির বিন্দু যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজান শবনমকে নিয়েই রাজধানীর বনানীতে থাকতেন তিনি। চোখেও ভালো দেখতে পান না। সেই বাবাকে হারিয়ে এখন দিশাহারা তাসমিয়া। স্বজনদের সান্ত্বনাও থামাতে পারছে না তার কান্না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোশাররফ হোসেনকে। প্রথমে তাকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোশাররফ হোসেনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ গ্রামে। ভাই মোতাহার হোসেন বলেন, মোশাররফ হোসেনের বড় মেয়ে সারিকা সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশে ফিরবেন।

তাসমিয়া মারজান জানান, সোমবার তার বাবাকে মুন্সিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

তাসমিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। জাকির হোসেন বলেন, বাবাকে হারিয়ে এখন তাসমিয়া দিশাহারা। তার কান্না থামানো যাচ্ছে না। স্বজনদের কোনো সান্ত্বনাই কাজে আসছে না।

তাসমিয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিলেন বাবাই

তাসমিয়ার মামা জাকির হোসেন জানান, তার স্ত্রীর বড় ভাই মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী ১৫ বছর আগে মারা যান। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। কয়েক বছর আগে বড় মেয়ে সারিকা আজমির যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে তাসমিয়াকে নিয়ে দেশে থাকতেন মোশাররফ হোসেন।

জাকির হোসেন বলেন, মোশাররফ হোসেন চোখেও ভালোভাবে দেখতেন না। তাসমিয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তার বাবা।

তাসমিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। জাকির হোসেন বলেন, বাবাকে হারিয়ে এখন তাসমিয়া দিশাহারা। তার কান্না থামানো যাচ্ছে না। স্বজনদের কোনো সান্ত্বনাই কাজে আসছে না।

মোশাররফকে যেভাবে উদ্ধার করা হয়

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মেয়ে তাসমিয়াকে সাঁতার শেখাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে যান মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে যান। এক ঘণ্টা পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনি রক্তাক্ত ছিলেন। পরে তাকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেখান থেকে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন।

রমনা থানার ওসি ইয়াছিন মিয়া বলেন, অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, মোশাররফ হোসেন বারবার ওপরে উঠছিলেন, আবার নিচে নামছিলেন। হয়তো তিনি পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১-এর লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি।

ওসি ইয়াছিন মিয়া আরও বলেন, মোশাররফ হোসেনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত বলে মনে হচ্ছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

/এফসি/