মিরপুরে আবার সড়ক অবরোধে পোশাক শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরে আবার সড়ক অবরোধে পোশাক শ্রমিকরা
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

এর ফলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় যানজট। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে ট্রাফিক পুলিশ।

মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মিরপুরের কয়েকটি স্থান থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে জড়ো হন। তারা মিরপুর-১০ নম্বর মোড় অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

শনিবারও মিরপুরের একাধিক এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় তাদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া কালশী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা

এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কয়েকশ শ্রমিক সড়কে নামেন।

পরে তারা সেখান থেকে সরে গেলেও একই দাবিতে পূরবী সিনেমা হলের সামনে মেট্রোরেলের ১১ নম্বর স্টেশন এলাকায় আবার সড়ক অবরোধ করেন। দুই দফায় প্রায় ৬ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শনিবার শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ জানান, বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে রবিবার নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।

শ্রম আইন অনুযায়ী, সরকার চার সদস্যের একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে থাকে। বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান, একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধি থাকেন।

আর কোনো শিল্পের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই শিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা এ বোর্ডের সঙ্গে কাজ করেন।

শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিল্পের মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ অথবা উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সেই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।

/এফসি/