ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ছাত্রশক্তি নেতাকে ছেড়ে দিল পুলিশ

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ছাত্রশক্তি নেতাকে ছেড়ে দিল পুলিশ
জাতীয় ছাত্রশক্তির বহিষ্কৃত নেতা মো. রাব্বি হোসেন

ফেসবুকে একটি ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর অভিযোগে আটক জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বহিষ্কৃত নেতা মো. রাব্বি হোসেনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাব্বি হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে আশুলিয়া থানা-পুলিশ।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।

ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে কোনো অভিযোগ দেয়নি। এ ছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে রাব্বি হোসেনের কোনো সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি। এ জন্য তাকে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে রাব্বি হোসেনকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মৃন্ময় দাস ফেসবুকে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে লাভের প্রতীক দিয়ে মন্তব্য করেন রাব্বি হোসেন।

পরে ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। রাব্বি হোসেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত, এমন অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, সোমবার বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় গেলে রাব্বি হোসেন কয়েকজন ছাত্রদল নেতার তোপের মুখে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

থানায় নেওয়ার পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাত ২টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাব্বি হোসেন বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি। ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার কখনোই ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ক্যাম্পাসে আমি সবসময় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলাম। এ কারণে মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে সারকাজমও করতাম।

‘গতকালের পোস্টে আমি মূলত ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খোঁচা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখেছিলাম এবং সারকাজম হিসেবে লাভ রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, ক্যাম্পাসের সবাই আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও আন্দোলনে সক্রিয়তার বিষয়টি জানেন। তাই তারা মন্তব্যটিকে সারকাজম হিসেবেই দেখবেন।

‘পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে আমি দ্রুত কমেন্টটি ডিলিট করে আমার অবস্থান পরিষ্কার করি। কিন্তু ক্যাম্পাসে এ নিয়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ আমাকে হেফাজতে নেয় এবং বিস্তারিত তদন্ত করে। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু আমার একটি সারকাজমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনো কিছু বিবেচনা না করেই আমাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। একইভাবে, আমার সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকেও কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে বহিষ্কার করার বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্র থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যই শুধু তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া হয়নি।’

সারকাজম পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কর্তৃক ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দীন বাবরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু পায়নি। তার একটি পরীক্ষা রয়েছে। বিভাগের শিক্ষকেরাও তার বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তাই সব দিক বিবেচনা করে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

/এমআর/