শিরোনাম

জাবি মেডিকেলে বিপুল পরিমাণ ওষুধের গরমিল, তদন্ত দাবি জাকসুর

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাবি মেডিকেলে বিপুল পরিমাণ ওষুধের গরমিল, তদন্ত দাবি জাকসুর
বিকিৎসা কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে ওষুধের মজুত ও বিতরণ সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতাদের দাবি, মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে মেডিকেল সেন্টারের প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের হিসাব মিলছে না। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাকসুর সদস্যদের প্রচারিত এক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যে ওষুধগুলোর হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল, ৯১২ পিস অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ৪২০ পিস সিপ্রোসিন, ৫ হাজার পিস প্যারাসিটামল, ৭০০ পিস টাইমোনিয়াম, ২ হাজার ৫০০ পিস ফ্যামোটিডিন, ২০০ পিস অ্যান্টানিল, ৯৯০ পিস ন্যাপা এবং ৪ হাজার ২০০ পিস ডমপেরিডন।

ওষুধ ক্রয় কমিটির হিসাব অনুযায়ী, মোট ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব যাচাই করতে যান তারা।

তিনি বলেন, ‘গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় দুই লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ২১ দিনের হিসাব পর্যালোচনায় প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্টোরে পাওয়া যায়নি।’

হুসনী মোবারকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল পিংকুর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুর রহমানের সঙ্গে কথা বললেও তিনি বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার মতে, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘স্টোরের চাবি ও মজুদের দায়িত্ব স্টোর অফিসারের অধীনে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন।’

তিনি জানান, ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহের কার্যক্রম একটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত স্বাক্ষর বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘একটি টিমের মাধ্যমে ওষুধের মজুত তদারকি করা হয়। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মহোদয়কে জানিয়েছি। আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে। গরমিলের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওষুধ সংরক্ষণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম, জাকসুর প্রতিনিধি হুসনী মোবারক এবং প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ শেষে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে ওষুধের গরমিলের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করবো। পাশাপাশি ওষুধ কোথা থেকে আসে, কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয় এবং কোন খাতে বিতরণ করা হয়– সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে, অভিযান ও পরিদর্শনের সময় ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য ড. সালেকুল ইসলাম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলাম, জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি, জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবু উবাইদা উসামা, কার্যকরী সদস্য আবু তালহা, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী এবং সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/