পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, উদ্ধার করলো ছাত্রদল

পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, উদ্ধার করলো ছাত্রদল
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ফটকের তালা ভেঙে তাদের মুক্ত করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। এর আগে তারা বিধি অনুযায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন।
এ সময় সিন্ডিকেট সভা শেষে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট সভায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
উপাচার্য এ ঘটনাকে সারা দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ছাত্রলীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের বক্তব্যে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে তকমা দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে বক্তব্যে নমনীয়তা আনেন উপাচার্য। তিনি দাবি করেন, ইনস্টিটিউটের সব শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; গুটিকয়েক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদের প্ররোচনায় এমন কর্মসূচি পালন করছেন। অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ পদক্ষেপ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার কথা জানিয়ে তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ থাকার খবর পেয়ে বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাইরে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হামীম কামরুলের প্ররোচনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন বলে তারা খবর পান। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে মুক্ত করেন তারা। পরে ঢাকায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকায় উপাচার্যকে তাঁর গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নতুন পরিচালক নিয়োগের পর থেকেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার পেছনেও শিক্ষক হামীমের প্ররোচনা রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। মঙ্গলবার সকালে তার মডারেশনের কাজ ছিল। কাজ শেষে বই কেনার জন্য তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
নতুন পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, ইনস্টিটিউটের অর্ডিন্যান্সে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক না থাকলে বাংলা, ইংরেজি কিংবা তুলনামূলক সাহিত্যের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিয়ম অমান্য করে তাকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে। একটি দিনের ঘটনা দিয়ে কাউকে মূল্যায়ন না করে তার অন্যান্য কাজ ও অবদানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ফটকের তালা ভেঙে তাদের মুক্ত করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। এর আগে তারা বিধি অনুযায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন।
এ সময় সিন্ডিকেট সভা শেষে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট সভায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
উপাচার্য এ ঘটনাকে সারা দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ছাত্রলীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের বক্তব্যে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে তকমা দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে বক্তব্যে নমনীয়তা আনেন উপাচার্য। তিনি দাবি করেন, ইনস্টিটিউটের সব শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; গুটিকয়েক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদের প্ররোচনায় এমন কর্মসূচি পালন করছেন। অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ পদক্ষেপ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার কথা জানিয়ে তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ থাকার খবর পেয়ে বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাইরে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হামীম কামরুলের প্ররোচনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন বলে তারা খবর পান। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে মুক্ত করেন তারা। পরে ঢাকায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকায় উপাচার্যকে তাঁর গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নতুন পরিচালক নিয়োগের পর থেকেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার পেছনেও শিক্ষক হামীমের প্ররোচনা রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। মঙ্গলবার সকালে তার মডারেশনের কাজ ছিল। কাজ শেষে বই কেনার জন্য তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
নতুন পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, ইনস্টিটিউটের অর্ডিন্যান্সে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক না থাকলে বাংলা, ইংরেজি কিংবা তুলনামূলক সাহিত্যের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিয়ম অমান্য করে তাকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে। একটি দিনের ঘটনা দিয়ে কাউকে মূল্যায়ন না করে তার অন্যান্য কাজ ও অবদানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ, উদ্ধার করলো ছাত্রদল
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ফটকের তালা ভেঙে তাদের মুক্ত করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। এর আগে তারা বিধি অনুযায়ী পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা ভবনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন।
এ সময় সিন্ডিকেট সভা শেষে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম। ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও সিন্ডিকেট সভায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
উপাচার্য এ ঘটনাকে সারা দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ছাত্রলীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘ফ্যাসিস্টের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের বক্তব্যে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে তকমা দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে বক্তব্যে নমনীয়তা আনেন উপাচার্য। তিনি দাবি করেন, ইনস্টিটিউটের সব শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন; গুটিকয়েক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষকদের প্ররোচনায় এমন কর্মসূচি পালন করছেন। অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ পদক্ষেপ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার কথা জানিয়ে তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ থাকার খবর পেয়ে বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাইরে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হামীম কামরুলের প্ররোচনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন বলে তারা খবর পান। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে মুক্ত করেন তারা। পরে ঢাকায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকায় উপাচার্যকে তাঁর গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে নতুন পরিচালক নিয়োগের পর থেকেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার পেছনেও শিক্ষক হামীমের প্ররোচনা রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। মঙ্গলবার সকালে তার মডারেশনের কাজ ছিল। কাজ শেষে বই কেনার জন্য তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
নতুন পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, ইনস্টিটিউটের অর্ডিন্যান্সে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক না থাকলে বাংলা, ইংরেজি কিংবা তুলনামূলক সাহিত্যের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিয়ম অমান্য করে তাকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সক্রিয় শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে। একটি দিনের ঘটনা দিয়ে কাউকে মূল্যায়ন না করে তার অন্যান্য কাজ ও অবদানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।









