ভর্তার বাহারি আয়োজনে জমজমাট জাবির বটতলা

ভর্তার বাহারি আয়োজনে জমজমাট জাবির বটতলা
মো. রহমাতুল্লাহ

ঢাকার অদূরে সবুজে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে আসেন নানা বয়সী মানুষ। তবে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা। দেশীয় খাবার, বিশেষ করে হরেক রকমের ভর্তা ও ভাতের স্বাদ নিতে এখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই বটতলার খাবারের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। দোকানিদের সাজানো বাহারি ভর্তার পসরা যেন ভোজনরসিকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। বাদাম, সরিষা, কালোজিরা, ধনেপাতা কিংবা আলুর মতো পরিচিত উপকরণের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শুঁটকি, ডিম ও মুরগির মাংসের ভর্তা। স্বাদ ও উপকরণে ভিন্নতা থাকায় খাবারপ্রেমীদের কাছে এসব পদের চাহিদাও বেশ।
দোকানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দামে পাওয়া যায় একেক ধরনের ভর্তা। ফলে অল্প খরচেই একসঙ্গে নানা পদের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। ভর্তার পাশাপাশি মাছ-মাংস, ডিম, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও দেশীয় বিভিন্ন খাবারের আয়োজনও থাকে। সব মিলিয়ে সীমিত খরচে পছন্দমতো খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে বটতলার হোটেলগুলো বেশ জনপ্রিয়।
একসময় বটতলায় চা-নাশতার জন্য হাতে গোনা কয়েকটি দোকান থাকলেও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে খাবারের দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে প্রায় অর্ধশত খাবারের হোটেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাবারের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে এই বটতলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। চলে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান বলেন, বটতলায় খাবার খাওয়ার সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে অল্প টাকায় অনেক ধরনের খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন পদের ভর্তা একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খাওয়ার জন্যও জায়গাটি আমাদের কাছে বেশ পছন্দের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ক্লাসের ব্যস্ততার মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরে খেতে প্রায়ই বটতলায় আসা হয়। এখানকার খাবারের বৈচিত্র্য যেমন ভালো লাগে, তেমনি দামও শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে। বিশেষ করে ভর্তার এত আয়োজন থাকায় প্রতিবারই নতুন কিছু খাওয়ার সুযোগ থাকে।

বটতলার জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছুটির দিনগুলোতে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে। ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি ঘুরে দেখার পাশাপাশি দুপুরের খাবারের তালিকায় তাঁদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বটতলার ভর্তা-ভাত। অনেকের কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণের অন্যতম পরিপূর্ণতা যেন এখানকার খাবারের স্বাদ নেওয়া।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারসহ ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ঢাকার এত কাছে এমন সবুজ ও শান্ত পরিবেশ পাওয়া সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। তার সঙ্গে বটতলায় দুপুরের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও দারুণ। বিয়ের আগে বন্ধুদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আসার সুযোগ হয়েছিল। এখনও পরিবার নিয়ে মাঝেমধ্যে আসা হয়। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এত ধরনের ভর্তার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ কেবল এখানেই হয়।
তবে মানুষের এই বাড়তি আগ্রহের সঙ্গে খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ’ খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নির্ধারণে কাজ করে থাকে।
খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জাবি শিক্ষার্থী মৃদুল বলেন, প্রায় সব হোটেলেই বাসি খাবার বিক্রি হয়। খাবারে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যায়। রান্না করার জায়গা পরিষ্কার থাকে না। খাবারে অস্বাস্থ্যকর মসলা দেওয়া হয়। এগুলো খেয়ে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালায় না। এসব বিষয়ে দোকানি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বটতলার দোকানিরাও এখানকার পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পেরে সন্তুষ্ট। তুলনামূলক কম লাভ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁরা।
বটতলার নামকরণের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস জানা না গেলেও প্রচলিত রয়েছে, একসময় এখানে একটি বড় বটগাছ ছিল। সেই গাছ থেকেই জায়গাটির নাম হয়েছে বটতলা। সময়ের পরিক্রমায় জায়গাটি এখন শুধু খাবারের বাজার নয়, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীজীবন, আড্ডা ও স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ আর দেশীয় খাবারের বৈচিত্র্য, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই বটতলা ধরে রেখেছে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে ওয়েলকাম বা সাভার পরিবহনে চড়ে সরাসরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সায়েন্সল্যাব বা নিউমার্কেট এলাকা থেকে মৌমিতা, ঠিকানা কিংবা নীলাচল পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব। বাসভেদে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে সহজেই বটতলায় পৌঁছানো যায়।

ঢাকার অদূরে সবুজে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে আসেন নানা বয়সী মানুষ। তবে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা। দেশীয় খাবার, বিশেষ করে হরেক রকমের ভর্তা ও ভাতের স্বাদ নিতে এখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই বটতলার খাবারের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। দোকানিদের সাজানো বাহারি ভর্তার পসরা যেন ভোজনরসিকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। বাদাম, সরিষা, কালোজিরা, ধনেপাতা কিংবা আলুর মতো পরিচিত উপকরণের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শুঁটকি, ডিম ও মুরগির মাংসের ভর্তা। স্বাদ ও উপকরণে ভিন্নতা থাকায় খাবারপ্রেমীদের কাছে এসব পদের চাহিদাও বেশ।
দোকানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দামে পাওয়া যায় একেক ধরনের ভর্তা। ফলে অল্প খরচেই একসঙ্গে নানা পদের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। ভর্তার পাশাপাশি মাছ-মাংস, ডিম, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও দেশীয় বিভিন্ন খাবারের আয়োজনও থাকে। সব মিলিয়ে সীমিত খরচে পছন্দমতো খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে বটতলার হোটেলগুলো বেশ জনপ্রিয়।
একসময় বটতলায় চা-নাশতার জন্য হাতে গোনা কয়েকটি দোকান থাকলেও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে খাবারের দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে প্রায় অর্ধশত খাবারের হোটেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাবারের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে এই বটতলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। চলে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান বলেন, বটতলায় খাবার খাওয়ার সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে অল্প টাকায় অনেক ধরনের খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন পদের ভর্তা একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খাওয়ার জন্যও জায়গাটি আমাদের কাছে বেশ পছন্দের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ক্লাসের ব্যস্ততার মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরে খেতে প্রায়ই বটতলায় আসা হয়। এখানকার খাবারের বৈচিত্র্য যেমন ভালো লাগে, তেমনি দামও শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে। বিশেষ করে ভর্তার এত আয়োজন থাকায় প্রতিবারই নতুন কিছু খাওয়ার সুযোগ থাকে।

বটতলার জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছুটির দিনগুলোতে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে। ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি ঘুরে দেখার পাশাপাশি দুপুরের খাবারের তালিকায় তাঁদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বটতলার ভর্তা-ভাত। অনেকের কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণের অন্যতম পরিপূর্ণতা যেন এখানকার খাবারের স্বাদ নেওয়া।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারসহ ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ঢাকার এত কাছে এমন সবুজ ও শান্ত পরিবেশ পাওয়া সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। তার সঙ্গে বটতলায় দুপুরের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও দারুণ। বিয়ের আগে বন্ধুদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আসার সুযোগ হয়েছিল। এখনও পরিবার নিয়ে মাঝেমধ্যে আসা হয়। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এত ধরনের ভর্তার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ কেবল এখানেই হয়।
তবে মানুষের এই বাড়তি আগ্রহের সঙ্গে খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ’ খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নির্ধারণে কাজ করে থাকে।
খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জাবি শিক্ষার্থী মৃদুল বলেন, প্রায় সব হোটেলেই বাসি খাবার বিক্রি হয়। খাবারে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যায়। রান্না করার জায়গা পরিষ্কার থাকে না। খাবারে অস্বাস্থ্যকর মসলা দেওয়া হয়। এগুলো খেয়ে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালায় না। এসব বিষয়ে দোকানি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বটতলার দোকানিরাও এখানকার পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পেরে সন্তুষ্ট। তুলনামূলক কম লাভ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁরা।
বটতলার নামকরণের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস জানা না গেলেও প্রচলিত রয়েছে, একসময় এখানে একটি বড় বটগাছ ছিল। সেই গাছ থেকেই জায়গাটির নাম হয়েছে বটতলা। সময়ের পরিক্রমায় জায়গাটি এখন শুধু খাবারের বাজার নয়, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীজীবন, আড্ডা ও স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ আর দেশীয় খাবারের বৈচিত্র্য, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই বটতলা ধরে রেখেছে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে ওয়েলকাম বা সাভার পরিবহনে চড়ে সরাসরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সায়েন্সল্যাব বা নিউমার্কেট এলাকা থেকে মৌমিতা, ঠিকানা কিংবা নীলাচল পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব। বাসভেদে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে সহজেই বটতলায় পৌঁছানো যায়।

ভর্তার বাহারি আয়োজনে জমজমাট জাবির বটতলা
মো. রহমাতুল্লাহ

ঢাকার অদূরে সবুজে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে আসেন নানা বয়সী মানুষ। তবে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা। দেশীয় খাবার, বিশেষ করে হরেক রকমের ভর্তা ও ভাতের স্বাদ নিতে এখানে প্রতিদিনই ভিড় করেন শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই বটতলার খাবারের দোকানগুলোতে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। দোকানিদের সাজানো বাহারি ভর্তার পসরা যেন ভোজনরসিকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। বাদাম, সরিষা, কালোজিরা, ধনেপাতা কিংবা আলুর মতো পরিচিত উপকরণের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শুঁটকি, ডিম ও মুরগির মাংসের ভর্তা। স্বাদ ও উপকরণে ভিন্নতা থাকায় খাবারপ্রেমীদের কাছে এসব পদের চাহিদাও বেশ।
দোকানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দামে পাওয়া যায় একেক ধরনের ভর্তা। ফলে অল্প খরচেই একসঙ্গে নানা পদের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। ভর্তার পাশাপাশি মাছ-মাংস, ডিম, খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও দেশীয় বিভিন্ন খাবারের আয়োজনও থাকে। সব মিলিয়ে সীমিত খরচে পছন্দমতো খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে বটতলার হোটেলগুলো বেশ জনপ্রিয়।
একসময় বটতলায় চা-নাশতার জন্য হাতে গোনা কয়েকটি দোকান থাকলেও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে খাবারের দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে প্রায় অর্ধশত খাবারের হোটেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাবারের অন্যতম নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে এই বটতলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। চলে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান বলেন, বটতলায় খাবার খাওয়ার সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে অল্প টাকায় অনেক ধরনের খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন পদের ভর্তা একসঙ্গে পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও সচরাচর দেখা যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খাওয়ার জন্যও জায়গাটি আমাদের কাছে বেশ পছন্দের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ক্লাসের ব্যস্ততার মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে দুপুরে খেতে প্রায়ই বটতলায় আসা হয়। এখানকার খাবারের বৈচিত্র্য যেমন ভালো লাগে, তেমনি দামও শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে। বিশেষ করে ভর্তার এত আয়োজন থাকায় প্রতিবারই নতুন কিছু খাওয়ার সুযোগ থাকে।

বটতলার জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছুটির দিনগুলোতে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে। ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি ঘুরে দেখার পাশাপাশি দুপুরের খাবারের তালিকায় তাঁদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বটতলার ভর্তা-ভাত। অনেকের কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণের অন্যতম পরিপূর্ণতা যেন এখানকার খাবারের স্বাদ নেওয়া।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারসহ ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ঢাকার এত কাছে এমন সবুজ ও শান্ত পরিবেশ পাওয়া সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। তার সঙ্গে বটতলায় দুপুরের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও দারুণ। বিয়ের আগে বন্ধুদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আসার সুযোগ হয়েছিল। এখনও পরিবার নিয়ে মাঝেমধ্যে আসা হয়। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এত ধরনের ভর্তার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ কেবল এখানেই হয়।
তবে মানুষের এই বাড়তি আগ্রহের সঙ্গে খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদারকির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কনজ্যুমার ইয়ুথ’ খাবারের মান, পরিবেশ ও মূল্য নির্ধারণে কাজ করে থাকে।
খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জাবি শিক্ষার্থী মৃদুল বলেন, প্রায় সব হোটেলেই বাসি খাবার বিক্রি হয়। খাবারে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যায়। রান্না করার জায়গা পরিষ্কার থাকে না। খাবারে অস্বাস্থ্যকর মসলা দেওয়া হয়। এগুলো খেয়ে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালায় না। এসব বিষয়ে দোকানি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বটতলার দোকানিরাও এখানকার পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পেরে সন্তুষ্ট। তুলনামূলক কম লাভ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁরা।
বটতলার নামকরণের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস জানা না গেলেও প্রচলিত রয়েছে, একসময় এখানে একটি বড় বটগাছ ছিল। সেই গাছ থেকেই জায়গাটির নাম হয়েছে বটতলা। সময়ের পরিক্রমায় জায়গাটি এখন শুধু খাবারের বাজার নয়, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীজীবন, আড্ডা ও স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ আর দেশীয় খাবারের বৈচিত্র্য, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই বটতলা ধরে রেখেছে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে ওয়েলকাম বা সাভার পরিবহনে চড়ে সরাসরি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সায়েন্সল্যাব বা নিউমার্কেট এলাকা থেকে মৌমিতা, ঠিকানা কিংবা নীলাচল পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব। বাসভেদে জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে সহজেই বটতলায় পৌঁছানো যায়।









