খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালেই জবি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছিলেন: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালেই জবি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছিলেন: শিক্ষামন্ত্রী
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ স্লোগানে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশমাতা খালেদা জিয়ার সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় দেরি হয়েছে। আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় এটি প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দিচ্ছেন  শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দিচ্ছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা তোমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, তোমরা যে স্বাধীন-এই স্বাধীনতাকে কতটুকু ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদের আজ নিজেদের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। ভেবো না, তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেবো। আজ নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই।’

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।’

শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সংযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চীনের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

এসময় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তোমরা, তোমরাই আমার দেশের ভবিষ্যৎ। সুতরাং তোমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শন ধারণ করতে হবে। সত্যিকারের দেশপ্রেম যদি কেউ শিখিয়ে থাকেন, সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষণা, রণাঙ্গনে নেতৃত্ব এবং শাহাদতের মাধ্যমেও তিনি দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আমাদের মঞ্জিল একটাই, বাংলাদেশ। তাই আমাদের স্লোগান, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন, ট্রেজারার সাবিনা শারমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/