অজু আছে কি না সন্দেহ হলে করণীয় কী?

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
অজু আছে কি না সন্দেহ হলে করণীয় কী?
ছবি: এআই

ইসলামী শরিয়তে, পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো অজু। ফরজ ইবাদত, ঈমান গ্রহণ, নামাজ, হজ, কোরআন তেলাওয়াতসহ অনেক ইবাদতে অজু করা আবশ্যক। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। এছাড়া বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনেরা! তোমরা যখন নামাযে দাঁড়াও, তখন (তার পূর্বে) তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দু’টো কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, অতঃপর মাথা মাসেহ কর এবং উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত কর।’ (সূরা মায়িদা, আয়াত ৬)।

অর্থাৎ, সালাত আদায়ের পূর্বে ওজু সম্পন্ন কর। এ হলো ওযূর বিষয়ে কুরআন কারীমের নির্দেশ।

ইসলামে ওজুকারীর জন্য পুরস্কারও রয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে, যে সময় তাদের হাত, পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে।’ (বুখারী: ১৩৬, মুসলিম: ২৪৬)

অজু করার জন্য যেমন পুরস্কার রয়েছে, তেমনি শাস্তিও রয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।

অজু ভেঙে গেলে আবার নতুন করে অজু করতে হয়। তবে অজু করার ক্ষেত্রে অনেকের সন্দেহ হয় তার অজু ঠিক আছে কি না? এক্ষেত্রে তিনি কী করবেন?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এক্ষেত্রে বাস্তবেই অজু ভঙ্গের মতো কোনো কারণ না ঘটেছে কি না সেটা দেখতে হবে। শুধু সন্দেহ, ধারণা বা ওয়াসওয়াসার কারণে অজু নষ্ট হবে না। ইসলামের মূলনীতি হলো, ‘নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।’

এমন ব্যক্তির ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে নামাজে মনে করে তার বায়ু বের হয়েছে, সে নামাজ ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৭)

অর্থাৎ শুধু অনুভূতি, সন্দেহ, চাপ বা ধারণার কারণে অজু ভাঙে না। তাই যদি অজুর পর কারো শুধু মনে হয় যে বায়ুর চাপ আসছে, কিন্তু বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিতভাবে বুঝা বা জানা না যায়, তাহলে তার অজু ভাঙেনি। তিনি অজু অবস্থাতেই আছেন বলে গণ্য হবেন এবং সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তবে যদি বাস্তবেই এমন অবস্থা হয় যে প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তে বায়ু বের হয় এবং এত ঘনঘন হয় যে সম্পূর্ণ একটি ওয়াক্তের মধ্যে অজু করে ফরজ নামাজ পড়ার মতো সময়ও পাওয়া যায় না, তাহলে তিনি মাযূর (শরয়ীভাবে ওযরগ্রস্ত বা অসুস্থ) ব্যক্তির হুকুমে গণ্য হতে পারেন।

মাযূর ব্যক্তির বিধান হলো- ১. প্রত্যেক ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর একবার অজু করবেন। ২. সেই অজু দিয়ে ওই ওয়াক্তে ফরজ, সুন্নত, নফল সব নামাজ পড়তে পারবেন। ৩. মাঝখানে বায়ু বের হলেও অজু ভাঙবে না। ৪. পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হলে নতুন অজু করতে হবে।

তবে কাউকে মাযূর (শরয়ীভাবে ওযরগ্রস্ত বা অসুস্থ) সাব্যস্ত করার জন্য বিস্তারিত অবস্থা জানা প্রয়োজন। কারণ শুধু কষ্ট হওয়া বা মাঝে মাঝে বায়ু বের হওয়ার মাধ্যমে মাযূর হওয়া প্রমাণিত হয় না।

/জেএইচ/

বিষয়:

ধর্মঅজু