নিউমুরিং টার্মিনাল কেন গুরুত্বপূর্ণ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে গেলে কী হবে

নিউমুরিং টার্মিনাল কেন গুরুত্বপূর্ণ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে গেলে কী হবে
মোসাদ্দেকুর রহমান

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কনসেশন চুক্তি সই হওয়ার কথা আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য আপত্তি উঠেছে। বন্দর রক্ষা কমিটি বলছে, জাতীয় সম্পদ নিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে চুক্তি করা হলে সেটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
চুক্তি কখন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর আগে ১ অক্টোবর এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তি নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এখন চুক্তি সইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির মাধ্যমে হ্যান্ডল হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ, যা মোটের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এনসিটিতে। ফলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে টার্মিনালটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
এখন কে পরিচালনা করছে
এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত তারাই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্য তিনটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবি এবং চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল বা সিসিটি দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বা আরএসজিটিআই।
কেন ডিপি ওয়ার্ল্ড
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
পরবর্তী সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি গিয়েছিল। তবে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উদ্যোগটি স্থগিত হয়।
এপ্রিল মাসে দুবাইয়ে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের চতুর্থ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের বৈঠকেও এনসিটি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর জুনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি নিয়ে আলোচনা কমিটিকে সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে।
আপত্তি কোথায়
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মূল আপত্তি হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর স্থাপনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের চাকরি এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণে কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলু কবির মিন্টু বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ নিয়ে একতরফাভাবে চুক্তি করা হলে তা ইতিহাসে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কমিটির দাবি, চুক্তির শর্ত, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাই চুক্তি সইয়ের আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া উচিত।
আয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে কী বলছে বিরোধীরা
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির দাবি, এনসিটির বর্তমান সরঞ্জাম নিয়ে যে দুর্বলতার কথা বলা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় করেছে। বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের আয় কমতে পারে এবং বন্দরের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে এসব দাবির বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আর্থিক হিসাব বা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
চুক্তি হলে কী বদলাবে
চুক্তি সই হলে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে। এর আওতায় এনসিটির ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড বা ওসিওয়াইও থাকবে।
বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পক্ষে যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো। এতে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ হতে পারে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।
তবে এর বিপরীতে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিচালনা ব্যবস্থায় সরকারের আয় কত হবে, অপারেটর কী ধরনের সুবিধা পাবে, শ্রমিকদের চাকরি ও অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং বন্দরের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকবে।
এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের বড় একটি অংশ সামলায়। তাই এর পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন শুধু একটি টার্মিনালের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও জড়িত।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে একদিকে আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনসিটির সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির আর্থিক শর্ত, রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্পষ্ট জবাবও প্রয়োজন।
এ কারণে আগামীকালের চুক্তি সইয়ের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে চুক্তির শর্তগুলো কতটা স্বচ্ছ, সরকারের আর্থিক লাভ কী এবং এনসিটির পরিচালনায় রাষ্ট্রের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কনসেশন চুক্তি সই হওয়ার কথা আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য আপত্তি উঠেছে। বন্দর রক্ষা কমিটি বলছে, জাতীয় সম্পদ নিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে চুক্তি করা হলে সেটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
চুক্তি কখন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর আগে ১ অক্টোবর এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তি নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এখন চুক্তি সইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির মাধ্যমে হ্যান্ডল হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ, যা মোটের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এনসিটিতে। ফলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে টার্মিনালটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
এখন কে পরিচালনা করছে
এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত তারাই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্য তিনটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবি এবং চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল বা সিসিটি দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বা আরএসজিটিআই।
কেন ডিপি ওয়ার্ল্ড
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
পরবর্তী সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি গিয়েছিল। তবে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উদ্যোগটি স্থগিত হয়।
এপ্রিল মাসে দুবাইয়ে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের চতুর্থ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের বৈঠকেও এনসিটি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর জুনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি নিয়ে আলোচনা কমিটিকে সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে।
আপত্তি কোথায়
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মূল আপত্তি হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর স্থাপনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের চাকরি এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণে কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলু কবির মিন্টু বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ নিয়ে একতরফাভাবে চুক্তি করা হলে তা ইতিহাসে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কমিটির দাবি, চুক্তির শর্ত, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাই চুক্তি সইয়ের আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া উচিত।
আয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে কী বলছে বিরোধীরা
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির দাবি, এনসিটির বর্তমান সরঞ্জাম নিয়ে যে দুর্বলতার কথা বলা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় করেছে। বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের আয় কমতে পারে এবং বন্দরের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে এসব দাবির বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আর্থিক হিসাব বা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
চুক্তি হলে কী বদলাবে
চুক্তি সই হলে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে। এর আওতায় এনসিটির ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড বা ওসিওয়াইও থাকবে।
বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পক্ষে যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো। এতে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ হতে পারে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।
তবে এর বিপরীতে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিচালনা ব্যবস্থায় সরকারের আয় কত হবে, অপারেটর কী ধরনের সুবিধা পাবে, শ্রমিকদের চাকরি ও অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং বন্দরের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকবে।
এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের বড় একটি অংশ সামলায়। তাই এর পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন শুধু একটি টার্মিনালের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও জড়িত।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে একদিকে আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনসিটির সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির আর্থিক শর্ত, রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্পষ্ট জবাবও প্রয়োজন।
এ কারণে আগামীকালের চুক্তি সইয়ের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে চুক্তির শর্তগুলো কতটা স্বচ্ছ, সরকারের আর্থিক লাভ কী এবং এনসিটির পরিচালনায় রাষ্ট্রের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউমুরিং টার্মিনাল কেন গুরুত্বপূর্ণ, ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে গেলে কী হবে
মোসাদ্দেকুর রহমান

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কনসেশন চুক্তি সই হওয়ার কথা আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য আপত্তি উঠেছে। বন্দর রক্ষা কমিটি বলছে, জাতীয় সম্পদ নিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে চুক্তি করা হলে সেটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
চুক্তি কখন
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর আগে ১ অক্টোবর এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তি নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এখন চুক্তি সইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির মাধ্যমে হ্যান্ডল হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ, যা মোটের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এনসিটি নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এনসিটিতে। ফলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে টার্মিনালটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
এখন কে পরিচালনা করছে
এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত তারাই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্য তিনটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবি এবং চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল বা সিসিটি দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বা আরএসজিটিআই।
কেন ডিপি ওয়ার্ল্ড
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
পরবর্তী সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি গিয়েছিল। তবে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উদ্যোগটি স্থগিত হয়।
এপ্রিল মাসে দুবাইয়ে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের চতুর্থ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের বৈঠকেও এনসিটি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর জুনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি নিয়ে আলোচনা কমিটিকে সহায়তার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে।
আপত্তি কোথায়
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মূল আপত্তি হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর স্থাপনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের চাকরি এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণে কী প্রভাব পড়বে, তা স্পষ্ট নয়।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলু কবির মিন্টু বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ নিয়ে একতরফাভাবে চুক্তি করা হলে তা ইতিহাসে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কমিটির দাবি, চুক্তির শর্ত, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাই চুক্তি সইয়ের আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া উচিত।
আয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে কী বলছে বিরোধীরা
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির দাবি, এনসিটির বর্তমান সরঞ্জাম নিয়ে যে দুর্বলতার কথা বলা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব এবং আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট আয় করেছে। বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের আয় কমতে পারে এবং বন্দরের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে এসব দাবির বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আর্থিক হিসাব বা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
চুক্তি হলে কী বদলাবে
চুক্তি সই হলে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবে। এর আওতায় এনসিটির ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড বা ওসিওয়াইও থাকবে।
বিদেশি অপারেটর নিয়োগের পক্ষে যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো। এতে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ হতে পারে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে।
তবে এর বিপরীতে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিচালনা ব্যবস্থায় সরকারের আয় কত হবে, অপারেটর কী ধরনের সুবিধা পাবে, শ্রমিকদের চাকরি ও অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং বন্দরের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকবে।
এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের বড় একটি অংশ সামলায়। তাই এর পরিচালনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন শুধু একটি টার্মিনালের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও জড়িত।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হলে একদিকে আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনসিটির সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির আর্থিক শর্ত, রাষ্ট্রের আয়, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং বন্দরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্পষ্ট জবাবও প্রয়োজন।
এ কারণে আগামীকালের চুক্তি সইয়ের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে চুক্তির শর্তগুলো কতটা স্বচ্ছ, সরকারের আর্থিক লাভ কী এবং এনসিটির পরিচালনায় রাষ্ট্রের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর, খসড়া চুক্তি অনুমোদন
এনসিটি-সিসিটি ইজারা দিলে অর্থনীতি-জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকির শঙ্কা






