একদিনে সড়কে ঝরল ১৮ প্রাণ

একদিনে সড়কে ঝরল ১৮ প্রাণ
সিটিজেন ডেস্ক

সারাদেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেটে ৯ জন, বগুড়ায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪১ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। দুপুরে হাসপাতালের করিডোর জুড়ে ছিল কান্না, আর্তনাদ আর স্বজন হারানোর আহাজারি। একের পর এক মরদেহ দেখে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশে থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সান্ত্বনাই যেন তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিলো না।
সিলেট সংবাদদাতা:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মারু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রিতম, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাসিন্দা জাইফা আক্তার এবং সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবী।
নিহত আবুল হোসেনের চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ইউনিক পরিবহনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই আমরা মৃত্যুর খবর জানতে পারি। প্রতিনিয়ত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারাচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিহত সপ্তম রায় প্রিতমের স্বজন হৈমন্তী রায় বলেন, ফোনে জানতে পারি, আমার খালাতো ভাই সপ্তম আর বেঁচে নেই। সে ঢাকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সুনামগঞ্জে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সে সিলেট শহরের একটি দোকানে চাকরি করত। এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৮ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামের আবু সাইদ, বইল্লাগ্রামের নুর আলম, জয়পুরহাটের কালাইয়ের আনারুল, পাঁচবিবির আমিরুল, দিনাজপুররের পার্বতীপুরের তাজিমুল, বগুড়া সদরের ফাঁপোড়ের বেল্লাল হোসেন এবং কাহালুর নারহট্ট গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে অবস্থানরত কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘নিহত ৭ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের লাশ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছেন। বাকি ৫ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর বাসটিকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত করা হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিহতের পরিবারও পাঁচ লাখ টাকা করে পাবেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী পাবেন তারা।
এদিকে, বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী ও স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় তাদের নাতি আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- বগুড়া মহানগরীর আটাপাড়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যবসায়ী বাবুল হাসান স্ত্রী জেসমিন বিবি ও শিশু নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এরুলিয়া বিমান বন্দর এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে বাবুল হাসান মারা যান।
স্থানীয়রা স্ত্রী জেসমিন ও নাতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জেসমিনকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সারাদেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেটে ৯ জন, বগুড়ায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪১ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। দুপুরে হাসপাতালের করিডোর জুড়ে ছিল কান্না, আর্তনাদ আর স্বজন হারানোর আহাজারি। একের পর এক মরদেহ দেখে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশে থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সান্ত্বনাই যেন তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিলো না।
সিলেট সংবাদদাতা:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মারু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রিতম, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাসিন্দা জাইফা আক্তার এবং সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবী।
নিহত আবুল হোসেনের চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ইউনিক পরিবহনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই আমরা মৃত্যুর খবর জানতে পারি। প্রতিনিয়ত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারাচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিহত সপ্তম রায় প্রিতমের স্বজন হৈমন্তী রায় বলেন, ফোনে জানতে পারি, আমার খালাতো ভাই সপ্তম আর বেঁচে নেই। সে ঢাকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সুনামগঞ্জে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সে সিলেট শহরের একটি দোকানে চাকরি করত। এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৮ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামের আবু সাইদ, বইল্লাগ্রামের নুর আলম, জয়পুরহাটের কালাইয়ের আনারুল, পাঁচবিবির আমিরুল, দিনাজপুররের পার্বতীপুরের তাজিমুল, বগুড়া সদরের ফাঁপোড়ের বেল্লাল হোসেন এবং কাহালুর নারহট্ট গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে অবস্থানরত কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘নিহত ৭ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের লাশ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছেন। বাকি ৫ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর বাসটিকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত করা হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিহতের পরিবারও পাঁচ লাখ টাকা করে পাবেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী পাবেন তারা।
এদিকে, বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী ও স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় তাদের নাতি আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- বগুড়া মহানগরীর আটাপাড়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যবসায়ী বাবুল হাসান স্ত্রী জেসমিন বিবি ও শিশু নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এরুলিয়া বিমান বন্দর এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে বাবুল হাসান মারা যান।
স্থানীয়রা স্ত্রী জেসমিন ও নাতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জেসমিনকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

একদিনে সড়কে ঝরল ১৮ প্রাণ
সিটিজেন ডেস্ক

সারাদেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেটে ৯ জন, বগুড়ায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪১ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। দুপুরে হাসপাতালের করিডোর জুড়ে ছিল কান্না, আর্তনাদ আর স্বজন হারানোর আহাজারি। একের পর এক মরদেহ দেখে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশে থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সান্ত্বনাই যেন তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিলো না।
সিলেট সংবাদদাতা:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মারু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রিতম, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাসিন্দা জাইফা আক্তার এবং সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবী।
নিহত আবুল হোসেনের চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই ইউনিক পরিবহনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই আমরা মৃত্যুর খবর জানতে পারি। প্রতিনিয়ত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারাচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিহত সপ্তম রায় প্রিতমের স্বজন হৈমন্তী রায় বলেন, ফোনে জানতে পারি, আমার খালাতো ভাই সপ্তম আর বেঁচে নেই। সে ঢাকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সুনামগঞ্জে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সে সিলেট শহরের একটি দোকানে চাকরি করত। এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৮ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামের আবু সাইদ, বইল্লাগ্রামের নুর আলম, জয়পুরহাটের কালাইয়ের আনারুল, পাঁচবিবির আমিরুল, দিনাজপুররের পার্বতীপুরের তাজিমুল, বগুড়া সদরের ফাঁপোড়ের বেল্লাল হোসেন এবং কাহালুর নারহট্ট গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে অবস্থানরত কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘নিহত ৭ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের লাশ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছেন। বাকি ৫ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর বাসটিকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত করা হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিহতের পরিবারও পাঁচ লাখ টাকা করে পাবেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের পর নিয়ম অনুযায়ী পাবেন তারা।
এদিকে, বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী ও স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় তাদের নাতি আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- বগুড়া মহানগরীর আটাপাড়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল হাসান ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যবসায়ী বাবুল হাসান স্ত্রী জেসমিন বিবি ও শিশু নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এরুলিয়া বিমান বন্দর এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে বাবুল হাসান মারা যান।
স্থানীয়রা স্ত্রী জেসমিন ও নাতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জেসমিনকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।








