শিরোনাম

‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ-নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ-নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’
‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আজ দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কিছু লোক অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে যে, জেনে বা না জেনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরাস্ত, অপসারিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ প্রত্যাশা করে যে, জাদুঘরটি কোনো একক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রচারের কেন্দ্র না হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একজন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের ছিল না। এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা মানুষদের সাহস ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি স্বৈরাচারী শাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে এবং জাতির সংগ্রাম, ত্যাগ, কষ্ট, বীরত্ব ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন পর্যায়ক্রমে অবশই প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য। সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্যাতন নিপীড়ন হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র জনতা নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা-এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।

সরকার প্রধান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে যথানিয়মে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়ায়সহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/