শিরোনাম

জানুয়ারি মাসেই সড়কে ঝড়লো ৪৮৭ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি মাসেই সড়কে ঝড়লো ৪৮৭ প্রাণ
রোড সেফটি ফাইন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি মাসে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। কোলাজ: সিটিজেন জার্নাল

নতুন বছরের প্রথম মাসেই দেশের সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮৭ জন। জানুয়ারি মাসে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজপোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন এবং শিশু ৫৭ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৮টি ঘটনায় ১৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন। রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৪১টি ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন, বাসের যাত্রী ২১ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২১৭টি, বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, পিকআপ ৩২টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, ট্রাক্টর ২১টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে ১৪৩টিতে ১১৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে ২৪টি ঘটনায় ১৮ জন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতন না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ–এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

/এসএ/