শিরোনাম

চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রস্তুতি, তারিখ নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রস্তুতি, তারিখ নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে নিতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করেছে দেশটি। তবে ওই তারিখের পরিবর্তে কাছাকাছি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্ধারণের কথা ভাবছে ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সমাধানে জোর তাগিদ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার বিষয়ে আগ্রহী।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভারতের পক্ষ থেকে ২০ ও ২১ আগস্ট সফর আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সফরটি ২২ ও ২৩ আগস্ট করা যায় কি না সে বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

যদিও সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার পর হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত শুক্রবার ঢাকায় ফিরেছেন। এ সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের বার্তা তুলে ধরেছেন। নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে নিজের কাজের নির্দেশনা আর বাংলাদেশের জন্য বার্তা নিয়ে ফিরেছেন ত্রিবেদী। আজ এই বার্তা সম্পর্কে জানা যেতে পারে।

জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সমাধানে জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ইস্যু রয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বা বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো যাতে বন্ধ করা হয় সে বিষয়েও দিল্লির কাছে নিশ্চয়তা চাইতে পারে ঢাকা।

এছাড়া দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এ বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

/জেএইচ/