একটি এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা, সোমবার থেকে নিবন্ধন শুরু

একটি এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা, সোমবার থেকে নিবন্ধন শুরু
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে নিবন্ধন। তবে বর্তমানে চলাচলরত রিকশা মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলের ওপর কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক
বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে চলন্ত ও নতুন– উভয় ধরনের ই-রিকশার ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য মেনে চলতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ছাড়া রাস্তায় ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ (বারো) বছর, যা শেষ হলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট রুট, জোন ও গতিসীমা
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক বিভক্তিকরণ, রুট, ই-রিকশার সংখ্যা এবং রিকশার নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
সাধারণ গতিসীমা: যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।
সংবেদনশীল এলাকা: স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
নিষিদ্ধ সড়ক: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক (বিআরটি), ফুটপাত এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ
চালকের ব্যাতীত আকারভেদে ২ অথবা ৪ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। যাত্রী ব্যাতীত অন্য কোনো মালামাল বহনে অনিয়ম করা যাবে না।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি (তফিসল অনুযায়ী)
ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন ও ফিটনেস ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৪,০০০ টাকা। ২৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৫,০০০ টাকা। এছাড়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ফি ১,০০০ টাকা।
নিবন্ধন ও নবায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও বৈধ চার্জিং স্টেশন ব্যবস্থা
অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং বন্ধ করতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বৈধ রেজিস্টার্ড চার্জিং স্টেশনে সোলার প্যানেল ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ তৈরি করে ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। দিনে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার বিধান রাখা হয়েছে।
অননুমোদিত চার্জিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিদ্যমান আইনে দণ্ড দেওয়া হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও পুরাতন ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
ব্যাটারি বর্জ্য পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রয়ের সময় বিক্রেতাকে অবশ্যই পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খোলা স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে বা সাধারণ বর্জ্যে অকার্যকর ব্যাটারি ফেলা বা পোড়ানো যাবে না।
অপরাধ ও আইনি ব্যবস্থা
অননুমোদিত গতি বা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে চালানো, উল্টোপথে চলা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-রিকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এই খাতে নিয়ম মেনে ব্যাটারিচালিত রিকশা উৎপাদন ও চালকদের সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে পারবে।

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে নিবন্ধন। তবে বর্তমানে চলাচলরত রিকশা মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলের ওপর কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক
বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে চলন্ত ও নতুন– উভয় ধরনের ই-রিকশার ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য মেনে চলতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ছাড়া রাস্তায় ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ (বারো) বছর, যা শেষ হলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট রুট, জোন ও গতিসীমা
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক বিভক্তিকরণ, রুট, ই-রিকশার সংখ্যা এবং রিকশার নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
সাধারণ গতিসীমা: যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।
সংবেদনশীল এলাকা: স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
নিষিদ্ধ সড়ক: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক (বিআরটি), ফুটপাত এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ
চালকের ব্যাতীত আকারভেদে ২ অথবা ৪ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। যাত্রী ব্যাতীত অন্য কোনো মালামাল বহনে অনিয়ম করা যাবে না।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি (তফিসল অনুযায়ী)
ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন ও ফিটনেস ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৪,০০০ টাকা। ২৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৫,০০০ টাকা। এছাড়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ফি ১,০০০ টাকা।
নিবন্ধন ও নবায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও বৈধ চার্জিং স্টেশন ব্যবস্থা
অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং বন্ধ করতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বৈধ রেজিস্টার্ড চার্জিং স্টেশনে সোলার প্যানেল ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ তৈরি করে ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। দিনে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার বিধান রাখা হয়েছে।
অননুমোদিত চার্জিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিদ্যমান আইনে দণ্ড দেওয়া হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও পুরাতন ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
ব্যাটারি বর্জ্য পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রয়ের সময় বিক্রেতাকে অবশ্যই পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খোলা স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে বা সাধারণ বর্জ্যে অকার্যকর ব্যাটারি ফেলা বা পোড়ানো যাবে না।
অপরাধ ও আইনি ব্যবস্থা
অননুমোদিত গতি বা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে চালানো, উল্টোপথে চলা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-রিকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এই খাতে নিয়ম মেনে ব্যাটারিচালিত রিকশা উৎপাদন ও চালকদের সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে পারবে।

একটি এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা, সোমবার থেকে নিবন্ধন শুরু
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে নিবন্ধন। তবে বর্তমানে চলাচলরত রিকশা মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলের ওপর কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার ক্ষমতাবলে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক
বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে চলন্ত ও নতুন– উভয় ধরনের ই-রিকশার ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য মেনে চলতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ছাড়া রাস্তায় ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ (বারো) বছর, যা শেষ হলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট রুট, জোন ও গতিসীমা
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক বিভক্তিকরণ, রুট, ই-রিকশার সংখ্যা এবং রিকশার নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
সাধারণ গতিসীমা: যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।
সংবেদনশীল এলাকা: স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
নিষিদ্ধ সড়ক: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক (বিআরটি), ফুটপাত এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ
চালকের ব্যাতীত আকারভেদে ২ অথবা ৪ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। যাত্রী ব্যাতীত অন্য কোনো মালামাল বহনে অনিয়ম করা যাবে না।
নিবন্ধন ও নবায়ন ফি (তফিসল অনুযায়ী)
ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন ও ফিটনেস ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৪,০০০ টাকা। ২৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০,০০০ টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৫,০০০ টাকা। এছাড়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ফি ১,০০০ টাকা।
নিবন্ধন ও নবায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ও বৈধ চার্জিং স্টেশন ব্যবস্থা
অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং বন্ধ করতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বৈধ রেজিস্টার্ড চার্জিং স্টেশনে সোলার প্যানেল ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ তৈরি করে ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। দিনে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার বিধান রাখা হয়েছে।
অননুমোদিত চার্জিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিদ্যমান আইনে দণ্ড দেওয়া হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও পুরাতন ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
ব্যাটারি বর্জ্য পরিচ্ছন্ন রাখতে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রয়ের সময় বিক্রেতাকে অবশ্যই পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খোলা স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে বা সাধারণ বর্জ্যে অকার্যকর ব্যাটারি ফেলা বা পোড়ানো যাবে না।
অপরাধ ও আইনি ব্যবস্থা
অননুমোদিত গতি বা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে চালানো, উল্টোপথে চলা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-রিকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, বুয়েট, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এই খাতে নিয়ম মেনে ব্যাটারিচালিত রিকশা উৎপাদন ও চালকদের সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে পারবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা, গেজেট প্রকাশ






