গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ পুশইন চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ পুশইন চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির
সিটিজেন ডেস্ক

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন অপচেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব অপচেষ্টা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
শনিবার (৬ জুন)এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তিস্তা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে। বিজিবি সেখানে সতর্কতামূলক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া নেত্রকোনা কচুগড়া সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন এলাকায় ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য নিয়ে আসে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকায়ও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এছাড়াও ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদেরকে বাধা প্রদান করে। এছাড়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় আরও ১৭ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।
প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরপরই ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে এসে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে, তাদের আর থাকতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তাদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার বা আটক কেন্দ্র’ তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই একাধিক কথিত বাংলাদেশি সীমান্তে ভিড় জমিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের অপচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। দেশটির মতে, অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সদিচ্ছার কথা জানান।
তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ভারতে আটক ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়, যেন তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এমন বেশ কিছু আবেদন পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
সীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূন রেখায় অবস্থানসীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূ্ন্য রেখায় অবস্থান
সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ভারতে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দেশটির নিজস্ব আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ীই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তবে আন্তর্জাতিক ও আইনি নিয়ম মেনে অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন অপচেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব অপচেষ্টা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
শনিবার (৬ জুন)এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তিস্তা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে। বিজিবি সেখানে সতর্কতামূলক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া নেত্রকোনা কচুগড়া সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন এলাকায় ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য নিয়ে আসে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকায়ও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এছাড়াও ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদেরকে বাধা প্রদান করে। এছাড়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় আরও ১৭ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।
প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরপরই ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে এসে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে, তাদের আর থাকতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তাদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার বা আটক কেন্দ্র’ তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই একাধিক কথিত বাংলাদেশি সীমান্তে ভিড় জমিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের অপচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। দেশটির মতে, অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সদিচ্ছার কথা জানান।
তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ভারতে আটক ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়, যেন তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এমন বেশ কিছু আবেদন পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
সীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূন রেখায় অবস্থানসীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূ্ন্য রেখায় অবস্থান
সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ভারতে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দেশটির নিজস্ব আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ীই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তবে আন্তর্জাতিক ও আইনি নিয়ম মেনে অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ পুশইন চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির
সিটিজেন ডেস্ক

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন অপচেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব অপচেষ্টা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
শনিবার (৬ জুন)এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তিস্তা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে। বিজিবি সেখানে সতর্কতামূলক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া নেত্রকোনা কচুগড়া সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন এলাকায় ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য নিয়ে আসে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকায়ও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এছাড়াও ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদেরকে বাধা প্রদান করে। এছাড়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় আরও ১৭ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।
প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এর পরপরই ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে এসে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন পশ্চিমবঙ্গে, তাদের আর থাকতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তাদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার বা আটক কেন্দ্র’ তৈরিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকেই একাধিক কথিত বাংলাদেশি সীমান্তে ভিড় জমিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের অপচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। দেশটির মতে, অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সদিচ্ছার কথা জানান।
তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ভারতে আটক ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়, যেন তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই এমন বেশ কিছু আবেদন পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
সীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূন রেখায় অবস্থানসীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাল বিজিবি, শূ্ন্য রেখায় অবস্থান
সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ভারতে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দেশটির নিজস্ব আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ীই সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তবে আন্তর্জাতিক ও আইনি নিয়ম মেনে অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধা
২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের ১০ পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
সীমান্ত দিয়ে ৩০ জনকে পুশইন বিএসএফের


