মেট্রোরেলের লাইন ১ ও ৫-এর ডিপো, স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মেট্রোরেলের লাইন ১ ও ৫-এর ডিপো, স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর
মেট্রোরেলের লাইন ১ ও ৫-এর ডিপো, স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ডিএমটিসিএল, জাপান দূতাবাস, জাইকা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর ডিপো, স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণে চারটি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এসব কাজের আওতায় দুই লাইনে মোট ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়ালপথ ও ৮টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি দুই লাইনের ডিপোতে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপোতে গাড়ি মেরামতের কর্মশালা, ট্রেন রাখার ছাউনি ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজ করা হবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ও বাংলাদেশের এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগ।

এ ছাড়া এমআরটি লাইন-১-এর পাতালপথ থেকে উড়ালপথে ওঠার সংযোগস্থল থেকে বালু নদের শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুলে তিনটি স্টেশন তৈরি করা হবে। যৌথ উদ্যোগ এ কাজ করবে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, এমআইএল ও এমবিইসি।

এমআরটি লাইন-৫-এর ডিপোতে প্রশাসনিক ভবন, ট্রেন রাখার জায়গা, গুদাম ও মেরামতকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। যৌথভাবে এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে চীনের সিপিসি ও বাংলাদেশের হানিলে।

এমআরটি লাইন-৫-এর হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। এ পথে হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারায় ৫টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজও যৌথভাবে করবে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, এমআইএল ও এমবিইসি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো ও যাতায়াতের সময় বাঁচানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একইসঙ্গে নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/এফসি/