অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে ‘ফায়ার সেফটি ম্যানুয়াল-২০২৬’ করছে সরকার

অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে ‘ফায়ার সেফটি ম্যানুয়াল-২০২৬’ করছে সরকার
ফায়ার সার্ভিসের লোগো

দেশে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। শিল্পায়নের কারণে দেশে বিপজ্জনক পদার্থের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নানা ধরণের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এই অবস্থায় জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এজন্য ফায়ার প্রোটাকশন প্ল্যান ও ফায়ার সেফটি প্ল্যানের সমন্বিত বাস্তবায়নে খসড়া ‘ফায়ার সেফটি ম্যানুয়াল-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার।

খসড়া সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘ফায়ার প্রোটাকশন প্ল্যান’ এবং ‘ফায়ার সেফটি প্ল্যান’ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। দেশের ক্রমাগত বাড়তে থাকা বহুতল ভবন ও শিল্প-কারখানার অগ্নিঝুঁকি কমাতে ম্যানুয়ালটির কার্যকর ও সমন্বিত প্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

‘ফায়ার সেফটি ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী, আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো— ফায়ার প্রোটেকশন প্ল্যান এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান। এই দুটি পরিকল্পনা আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফায়ার প্রোটেকশন ও ফায়ার সেফটি প্ল্যানের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ও শিল্প কারখানায় অগ্নিঝুঁকি হ্রাস করা এবং সাধারণ মানুষসহ সার্বিক জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই খসড়া ম্যানুয়ালটি অধিকতর পর্যালোচনা ও পরিবর্তন–পরিমার্জনের জন্য খাতসংশ্লিষ্ট ছাড়াও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সভার আয়োজন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নং-২০৮, ভবন নং-৮) এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নি শাখা-১ এর নোটিশে বলা হয়েছে, অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদারকরণ, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সেফটি ম্যানুয়ালের প্রধান লক্ষ্য। অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ভূমিকা সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, শিক্ষা, অর্থ, আইন, শ্রম, বাণিজ্য, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বুয়েটের উপাচার্য, রাজউক চেয়ারম্যান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক এবং প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের যুক্ত করতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতিদেরও এই পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে তৈরিকৃত ভবনগুলোতে অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। কী কী ব্যবস্থা থাকলে একটি ভবনে মানুষ নিরাপদে কাজকর্ম করতে পারবে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–রিহ্যাব বাড়ি নির্মাণ করে থাকে। এসব বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে তা সহজীকরণের জন্য সেফটি ম্যানুয়াল তৈরি করা হচ্ছে। এই ম্যানুয়ালের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটি চূড়ান্ত করতে স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে দুই তলা থেকে ২০ পর্যন্ত ভবন রয়েছে। এসব ভবন কোনটি আবাসিক, আবার কোনোটি বাণিজ্যিক কিংবা কারখানা। দেশে নির্মিত ভবনগুলোতে যেসব অব্যবস্থাপনা রয়েছে এগুলো কীভাবে দূর করা যায়? তা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করেই ফায়ার সেফটি ম্যানুয়ালটি তৈরি করা হবে।

/এসবি/