শিরোনাম

ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয় নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয় নাকচ যুক্তরাষ্ট্রের
হোয়াইট হাউস। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস। তাদের দাবি, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে কোথাও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত ছিল না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটাম কার্যকরের প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো এখনো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা তৈরি হলে হোয়াইট হাউস এক্স-এ এক প্রতিক্রিয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করে। এক পোস্টে বলা হয়, ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ‘আক্ষরিক অর্থেই’ পারমাণবিক হামলার কোনো ইঙ্গিত নেই।

এই প্রতিক্রিয়া আসে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যাকাউন্টের দাবির জবাবে, যেখানে বলা হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হুমকিতে ‘মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা’ প্রতিফলিত হচ্ছে

এদিকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড জনসন মনে করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের হুমকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হয়েছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ইরানের অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎ গ্রিড—লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে।

তবে তার মতে, পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এই সংঘাত আমাদের দেখাচ্ছে, অঞ্চলে মার্কিন শক্তিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইরানের সাবেক সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী আব্বাস আখুন্দী হোয়াইট হাউসের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ওখানে বসবাসকারী গুণ্ডারা’ ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা কতটা কঠিন, তা তিনি নিজে জানেন।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে রেল ও যোগাযোগ অবকাঠামো এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। পাশাপাশি তিনি ইসরায়েলের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) এর লক্ষ্যবস্তু ছিল।

আহভাজ সেতুতে পতাকা মিছিল

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আহভাজের একটি সেতুতে কয়েক ডজন মানুষ ইরানের পতাকা নিয়ে সমাবেশ করছেন। তাসনিম জানায়, সমাবেশটি শহরের পল সেফিদ (সাদা সেতু)-তে অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

বেসামরিক স্থাপনায় হামলা না করার আহ্বান

অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। তার ভাষায়, এর অর্থ হলো বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করা।

/এমআর/