ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কি আবারও শুরু হবে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কি আবারও শুরু হবে
সিজেডএন ডেস্ক

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনুক। অন্যদিকে তেহরান বলছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। এ বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ প্রায় আট মাস ধরে চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট। যুদ্ধ বন্ধে একাধিকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যদিকে ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার। মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশও তারা দেশের বাইরে নিতে দেবে না।
এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দুই পক্ষের শর্তের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক।
ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ কেন
ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে ইউরেনিয়ামকে কতটা সমৃদ্ধ করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ব্যবহার ও ঝুঁকি।
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ খুব কম থাকে। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি তৈরির জন্য সাধারণত এই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। আবার অনেক বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তেহরানের যুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারে।
এ কারণেই ওয়াশিংটন শুধু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতাও কমানো হোক এবং এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি, যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্র কী চাইছে
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। এখন তার প্রশাসন চাইছে, ইরান যেন এসব স্থাপনা আবার গড়ে তুলতে না পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। তার মতে, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং এ বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বক্তব্য, এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের আলাদা উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, এই উপাদানের পরিমাণ ও ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো হোক। প্রয়োজনে মজুতের কিছু অংশ ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে ইরানের সব শর্ত মেনে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করার মতো সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
ইরান কেন রাজি হচ্ছে না
ইরানের অবস্থান হলো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করে তেহরান।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি কণাও দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। তার মতে, এই মজুত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এটি দেশের ভেতরেই থাকবে।
ইরানের আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দিও বলেছেন, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তেহরানের আপত্তির পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হবে। দ্বিতীয়ত, মজুতের উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোকে ইরান তার দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখতে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও তেহরানের সন্দেহ রয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আগে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিক। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
অর্থাৎ, ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চাপ থেকেও মুক্তি চায়।
আগের সমঝোতা কেন টেকেনি
চলতি বছরের ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করা।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ বা চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে।
সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরির বিরোধিতা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনার কথা ছিল।
একটি প্রস্তাব ছিল, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা অন্য উপযুক্ত উপাদান মিশিয়ে এর সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডাউনব্লেন্ডিং। এতে ইউরেনিয়ামকে দ্রুত অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানে রূপান্তর করার ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে কতটা ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো হবে, কোন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা হবে এবং কত দিনে কাজটি শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আগস্টের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এবারও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরান কি তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে রাজি হবে? আর যুক্তরাষ্ট্র কি এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মতো বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানের জন্য কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সম্মত হলে ইরানের জন্য কিছু সুবিধা তৈরি হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ কমলে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুলতে পারে। এর ফলে বন্দর অবরোধ, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার ঝুঁকি কমার সুযোগ তৈরি হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ইরানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি রপ্তানিও উপকৃত হতে পারে।
কিন্তু এসব সুবিধা নিশ্চিত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিশ্চয়তা দেবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি আগে থেকেই তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কিন্তু বিনিময়ে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা না পায়, তাহলে দেশটির জন্য তা বড় ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পুরোপুরি মেনে নিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার স্বাধীনতা কমবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানোর মতো পদক্ষেপকে তেহরান কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবেও দেখতে পারে।
তাই ইরানের কাছে মূল প্রশ্ন শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা নয়। বরং কী ছাড় দিলে তার বিনিময়ে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সেই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কি ইরান মেনে নেবে
এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থান দেখে বোঝা যায়, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে এমন প্রতিশ্রুতি দিক, যা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে না।
অন্যদিকে ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পদক্ষেপ নিক। তেহরানের দৃষ্টিতে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ছাড় দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি।
এখানে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও কাতার দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে শুধু আলোচনা চালু রাখলেই হবে না। ইউরেনিয়ামের মজুত, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।
ইরান যদি মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তার লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি, তাহলে সেই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আবার যুক্তরাষ্ট্রও যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে।
আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে
আবারও যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হবেই, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে, ইরান আবার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাহলে সামরিক চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে ইরান যদি অবরোধ ও হামলার আশঙ্কাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করে, তাহলে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে হামলার ধরন, দুই দেশের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর। সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইসরায়েলসহ অন্য দেশ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও আরও সক্রিয় হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরু হলে কী হতে পারে
প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা থাকবে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার খরচে।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও কঠিন হতে পারে।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলে কাজ করেন। সংঘাত বাড়লে তাদের কর্মসংস্থান, চলাচল ও দেশে ফেরার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চতুর্থত, যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়বে। তখন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাধান কোথায়
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ আসলে শুধু পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। ইরান চাইছে, নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে।
দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার জায়গা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কতটা কমবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কীভাবে চলবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ছাড় দেবে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট সমঝোতা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হবে, নাকি মতবিরোধ আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা কাটবে না। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনুক। অন্যদিকে তেহরান বলছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। এ বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ প্রায় আট মাস ধরে চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট। যুদ্ধ বন্ধে একাধিকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যদিকে ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার। মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশও তারা দেশের বাইরে নিতে দেবে না।
এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দুই পক্ষের শর্তের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক।
ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ কেন
ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে ইউরেনিয়ামকে কতটা সমৃদ্ধ করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ব্যবহার ও ঝুঁকি।
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ খুব কম থাকে। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি তৈরির জন্য সাধারণত এই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। আবার অনেক বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তেহরানের যুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারে।
এ কারণেই ওয়াশিংটন শুধু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতাও কমানো হোক এবং এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি, যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্র কী চাইছে
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। এখন তার প্রশাসন চাইছে, ইরান যেন এসব স্থাপনা আবার গড়ে তুলতে না পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। তার মতে, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং এ বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বক্তব্য, এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের আলাদা উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, এই উপাদানের পরিমাণ ও ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো হোক। প্রয়োজনে মজুতের কিছু অংশ ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে ইরানের সব শর্ত মেনে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করার মতো সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
ইরান কেন রাজি হচ্ছে না
ইরানের অবস্থান হলো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করে তেহরান।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি কণাও দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। তার মতে, এই মজুত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এটি দেশের ভেতরেই থাকবে।
ইরানের আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দিও বলেছেন, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তেহরানের আপত্তির পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হবে। দ্বিতীয়ত, মজুতের উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোকে ইরান তার দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখতে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও তেহরানের সন্দেহ রয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আগে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিক। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
অর্থাৎ, ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চাপ থেকেও মুক্তি চায়।
আগের সমঝোতা কেন টেকেনি
চলতি বছরের ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করা।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ বা চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে।
সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরির বিরোধিতা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনার কথা ছিল।
একটি প্রস্তাব ছিল, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা অন্য উপযুক্ত উপাদান মিশিয়ে এর সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডাউনব্লেন্ডিং। এতে ইউরেনিয়ামকে দ্রুত অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানে রূপান্তর করার ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে কতটা ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো হবে, কোন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা হবে এবং কত দিনে কাজটি শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আগস্টের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এবারও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরান কি তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে রাজি হবে? আর যুক্তরাষ্ট্র কি এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মতো বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানের জন্য কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সম্মত হলে ইরানের জন্য কিছু সুবিধা তৈরি হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ কমলে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুলতে পারে। এর ফলে বন্দর অবরোধ, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার ঝুঁকি কমার সুযোগ তৈরি হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ইরানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি রপ্তানিও উপকৃত হতে পারে।
কিন্তু এসব সুবিধা নিশ্চিত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিশ্চয়তা দেবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি আগে থেকেই তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কিন্তু বিনিময়ে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা না পায়, তাহলে দেশটির জন্য তা বড় ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পুরোপুরি মেনে নিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার স্বাধীনতা কমবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানোর মতো পদক্ষেপকে তেহরান কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবেও দেখতে পারে।
তাই ইরানের কাছে মূল প্রশ্ন শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা নয়। বরং কী ছাড় দিলে তার বিনিময়ে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সেই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কি ইরান মেনে নেবে
এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থান দেখে বোঝা যায়, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে এমন প্রতিশ্রুতি দিক, যা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে না।
অন্যদিকে ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পদক্ষেপ নিক। তেহরানের দৃষ্টিতে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ছাড় দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি।
এখানে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও কাতার দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে শুধু আলোচনা চালু রাখলেই হবে না। ইউরেনিয়ামের মজুত, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।
ইরান যদি মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তার লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি, তাহলে সেই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আবার যুক্তরাষ্ট্রও যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে।
আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে
আবারও যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হবেই, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে, ইরান আবার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাহলে সামরিক চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে ইরান যদি অবরোধ ও হামলার আশঙ্কাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করে, তাহলে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে হামলার ধরন, দুই দেশের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর। সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইসরায়েলসহ অন্য দেশ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও আরও সক্রিয় হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরু হলে কী হতে পারে
প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা থাকবে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার খরচে।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও কঠিন হতে পারে।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলে কাজ করেন। সংঘাত বাড়লে তাদের কর্মসংস্থান, চলাচল ও দেশে ফেরার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চতুর্থত, যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়বে। তখন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাধান কোথায়
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ আসলে শুধু পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। ইরান চাইছে, নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে।
দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার জায়গা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কতটা কমবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কীভাবে চলবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ছাড় দেবে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট সমঝোতা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হবে, নাকি মতবিরোধ আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা কাটবে না। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কি আবারও শুরু হবে
সিজেডএন ডেস্ক

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনুক। অন্যদিকে তেহরান বলছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। এ বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ প্রায় আট মাস ধরে চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট। যুদ্ধ বন্ধে একাধিকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যদিকে ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার। মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশও তারা দেশের বাইরে নিতে দেবে না।
এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দুই পক্ষের শর্তের মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক।
ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ কেন
ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে ইউরেনিয়ামকে কতটা সমৃদ্ধ করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ব্যবহার ও ঝুঁকি।
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ খুব কম থাকে। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি তৈরির জন্য সাধারণত এই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। আবার অনেক বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। তেহরানের যুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে পারে।
এ কারণেই ওয়াশিংটন শুধু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতাও কমানো হোক এবং এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি, যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্র কী চাইছে
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। এখন তার প্রশাসন চাইছে, ইরান যেন এসব স্থাপনা আবার গড়ে তুলতে না পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। তার মতে, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তাহলে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং এ বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার বক্তব্য, এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের আলাদা উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, এই উপাদানের পরিমাণ ও ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো হোক। প্রয়োজনে মজুতের কিছু অংশ ইরানের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে ইরানের সব শর্ত মেনে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করার মতো সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
ইরান কেন রাজি হচ্ছে না
ইরানের অবস্থান হলো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করে তেহরান।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি কণাও দেশের বাইরে নেওয়া হবে না। তার মতে, এই মজুত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এটি দেশের ভেতরেই থাকবে।
ইরানের আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দিও বলেছেন, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
তেহরানের আপত্তির পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের সুযোগ সীমিত হবে। দ্বিতীয়ত, মজুতের উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোকে ইরান তার দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে দেখতে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কোনো চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়েও তেহরানের সন্দেহ রয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আগে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিক। দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
অর্থাৎ, ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চাপ থেকেও মুক্তি চায়।
আগের সমঝোতা কেন টেকেনি
চলতি বছরের ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করা।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এটি বন্ধ বা চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম বেড়ে যেতে পারে।
সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরির বিরোধিতা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনার কথা ছিল।
একটি প্রস্তাব ছিল, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঙ্গে কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা অন্য উপযুক্ত উপাদান মিশিয়ে এর সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডাউনব্লেন্ডিং। এতে ইউরেনিয়ামকে দ্রুত অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানে রূপান্তর করার ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে কতটা ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো হবে, কোন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করা হবে এবং কত দিনে কাজটি শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আগস্টের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এবারও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ইরান কি তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে রাজি হবে? আর যুক্তরাষ্ট্র কি এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মতো বিষয়ে ছাড় দিতে প্রস্তুত?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানের জন্য কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সম্মত হলে ইরানের জন্য কিছু সুবিধা তৈরি হতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ কমলে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুলতে পারে। এর ফলে বন্দর অবরোধ, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার ঝুঁকি কমার সুযোগ তৈরি হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ইরানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি রপ্তানিও উপকৃত হতে পারে।
কিন্তু এসব সুবিধা নিশ্চিত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিশ্চয়তা দেবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি আগে থেকেই তার পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, কিন্তু বিনিময়ে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা না পায়, তাহলে দেশটির জন্য তা বড় ক্ষতি হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পুরোপুরি মেনে নিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার স্বাধীনতা কমবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানোর মতো পদক্ষেপকে তেহরান কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবেও দেখতে পারে।
তাই ইরানের কাছে মূল প্রশ্ন শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা নয়। বরং কী ছাড় দিলে তার বিনিময়ে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সেই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কি ইরান মেনে নেবে
এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থান দেখে বোঝা যায়, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে এমন প্রতিশ্রুতি দিক, যা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে না।
অন্যদিকে ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পদক্ষেপ নিক। তেহরানের দৃষ্টিতে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ছাড় দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি।
এখানে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও কাতার দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে শুধু আলোচনা চালু রাখলেই হবে না। ইউরেনিয়ামের মজুত, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।
ইরান যদি মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তার লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি, তাহলে সেই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আবার যুক্তরাষ্ট্রও যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হবে।
আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে
আবারও যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যে যুদ্ধ আবার শুরু হবেই, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে, ইরান আবার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাহলে সামরিক চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে ইরান যদি অবরোধ ও হামলার আশঙ্কাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করে, তাহলে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করবে হামলার ধরন, দুই দেশের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর। সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইসরায়েলসহ অন্য দেশ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও আরও সক্রিয় হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরু হলে কী হতে পারে
প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা থাকবে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার খরচে।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও কঠিন হতে পারে।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ও কর্মরত লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলে কাজ করেন। সংঘাত বাড়লে তাদের কর্মসংস্থান, চলাচল ও দেশে ফেরার সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চতুর্থত, যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়বে। তখন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাধান কোথায়
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ আসলে শুধু পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। ইরান চাইছে, নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে।
দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার জায়গা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কতটা কমবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কীভাবে চলবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ছাড় দেবে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট সমঝোতা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হবে, নাকি মতবিরোধ আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই বিরোধের সমাধান না হলে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা কাটবে না। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।








