
সিটিজেন ডেস্ক


পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। এই প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন বার্তা বহন করছে এবং সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও ‘চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে’ ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আলোচনাকে ফলপ্রসূ করতে পাকিস্তান একাধিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
ইরানও নিশ্চিত করেছে যে, সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর, উভয় পক্ষ পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময় চলছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে ‘অসাধারণ দুটি দিনের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এর একদিন আগেই ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, সেনাপ্রধান আসিম মুনির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ‘চমৎকার কাজ’ করছেন। তার এই ভূয়সী প্রশংসার পরপরই তেহরানে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এই সময়সীমার মধ্যেই একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহল চাপ বাড়াচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারীরা বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যুতে সমঝোতা আনতে কাজ করছেন। এগুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাতকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ। এই তিনটি বিষয়ই গত সপ্তাহান্তে সরাসরি আলোচনায় অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল।

লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে চালানো হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২,১৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোর ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৭,০৬১ জন।
ক্রমবর্ধমান এই হতাহতের সংখ্যা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে চীন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে কাজ করছে।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ায় চীন খুব খুশি। আমি এটি শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের স্বার্থেই করেছি। এই পরিস্থিতি আর কখনো ঘটবে না।’
তার এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল, এই পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলটি ওয়াশিংটন থেকে একটি নতুন বার্তা নিয়ে আসছে।
একই সঙ্গে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের বিষয়েও এই সফরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সফর আলোচনায় গতি আনা এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ জানিয়েছে, সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা লেবাননে ইসরায়েলের চালানো ‘অবৈধ আগ্রাসন ও নির্বিচার বোমা হামলার’ কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিষদের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল যে হামলাগুলো চালিয়েছে, তার মধ্যে ৮ এপ্রিলের হামলাটি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘এটি আত্মরক্ষার অংশ নয়; বরং এটি জাতিসংঘ সনদের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তারা আরও উল্লেখ করেন, এই হামলা শান্তির সম্ভাবনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করছে এবং বহুজাতিকতা ও জাতিসংঘভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করছে।

দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিল জানিয়েছে, বৈরুত থেকে রওনা হওয়া তাদের একটি নিয়মিত গাড়িবহরকে ইসরায়েলি বাহিনী পথেই থামিয়ে দিয়েছে। কনভয়টিতে সামরিক ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীরা ছিলেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) গাড়িবহরটি নাকোরায় অবস্থিত ইউনিফিলের সদর দপ্তর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, কনভয়ের যেসব যানবাহনে জাতিসংঘের চিহ্ন ছিল, সেগুলোকে সামনে এগোতে দেওয়া হলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের বহনকারী যানগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এসব যানের যাত্রাপথ ও সময়সূচি আগেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
ইউনিফিল জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা কিংবা পূর্বে দেওয়া অনুমতি হঠাৎ বাতিল করার মতো পদক্ষেপ শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং তাদের সহায়তাকারী কর্মীদের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে ‘ব্লু লাইন’ সংলগ্ন ইউনিফিলের বিভিন্ন অবস্থানে খাদ্য, জ্বালানি ও পানিসহ জরুরি সরবরাহ সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এ ধরনের বাধা অব্যাহত থাকলে মিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।’
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দুই পক্ষকে আলোচনায় ফেরাতে সক্রিয়ভাবে চাপ দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। তার মতে, দ্রুত সংলাপ শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

কাতার সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে—অঞ্চলে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে পুনরায় উন্মুক্ত রাখা।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও তাদের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেন তিনি।
কোস্টা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ইইউ। তার মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এছাড়া, লেবাননের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান কোস্টা। তিনি বলেন, দেশটির সরকারকে সহায়তা করে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিতে কাজ করছে ইইউ।

ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর দাবি করেছে, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির কমান্ডার বলেন, এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে। তার ভাষায়, ‘নৌ অবরোধ চলতে থাকলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগর দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক চলাচল করতে দেবে না।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর অঞ্চলেও কোনো ধরনের রপ্তানি বা আমদানি কার্যক্রম চালু থাকতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
কমান্ডার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই নৌ অবরোধ বজায় রাখে, তাহলে সেটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বেইজিং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও শি জিনপিং তাকে জানিয়েছেন।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম যে চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে—মানে, বিষয়টি তো বিভিন্ন জায়গায় আলোচিত হচ্ছিল।’ এই প্রেক্ষিতে তিনি শি জিনপিংকে একটি চিঠি লিখে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এর জবাবে শি জিনপিংও একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে, চীন মূলত ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করছে না।
অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কিছু মূল্যায়নে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, চীন ইরানে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা পুরোপুরি সফল না হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা কার্যত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এক ধরনের ‘সন্ত্রাসমূলক আচরণ’ হিসেবে কাজ করছে।
বাঘাই জানান, গত রবিবার থেকে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান একাধিক বার্তা পেয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে তেহরান।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় ইরান পুনরায় উল্লেখ করেছে যে, সংলাপ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তান থেকে একটি প্রতিনিধিদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে কোনোভাবেই বিঘ্ন ঘটাতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করার যেকোনো প্রচেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এরদোয়ান উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার অসন্তুষ্ট—এটি আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত। তার ভাষায়, এই অসন্তোষ থেকেই সম্ভাব্য নাশকতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা প্রতিরোধ করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং পাকিস্তানে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া সচল রাখতে তুরস্ক সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে। আঙ্কারার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এরদোয়ান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত থাকবে। তার মতে, যুদ্ধবিরতির ফলে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে এগোনো উচিত।
আঞ্চলিক শান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হলে তা ইসরায়েলি সরকারের বাধা সত্ত্বেও সম্ভব হবে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি হারানো ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে তুরস্ক তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এছাড়া লেবাননে সংঘাতে নিহত নিরীহ শিশুদের পক্ষেও তুরস্ক সোচ্চার থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোসাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা অভিযানে মোট ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, অস্ত্র চোরাচালান ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-র বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের ছয়টি ভিন্ন প্রদেশে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন নেটওয়ার্ক ও কার্যক্রম শনাক্ত করে তা ভেঙে দেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। এর মধ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, অবৈধ অস্ত্র লেনদেন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এসব অভিযান দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।