বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্ম কেন রাজপথে নামছে

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্ম কেন রাজপথে নামছে
সিজেডএন ডেস্ক

ইউরোপ থেকে এশিয়া- বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের এক নতুন হাওয়া।রাজপথ কাঁপাচ্ছে একঝাঁক ক্ষুব্ধ তরুণ। যাদের বলা হচ্ছে ‘জেন জি’। শিক্ষা, আবাসন, বেকারত্ব কিংবা সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত যেসব সংকট সরাসরি তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে, সেসবের বিরুদ্ধেই এখন সোচ্চার এ নতুন প্রজন্ম।

প্যারিস থেকে দিল্লি: রাজপথে বিক্ষোভের আগুন
বিক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে বেশি লেগেছে ফ্রান্সে। মারাত্মক অর্থসংকটে ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলোর দৈন্যদশা দূর করার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ আগে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দিনে দিনে সেই আন্দোলনের ধার এতটাই বেড়েছে যে, গত সপ্তাহের শেষে দেশজুড়ে ৫ থেকে ৮ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
অন্যদিকে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনপদ্ধতির বিরুদ্ধে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্দোলন। ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার খবরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। সেই অসন্তোষের আগুন বাড়ে যখন গত সপ্তাহে আন্দোলনের মূল নেতা সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সময়ে স্পেনের চিত্রটাও বেশ উত্তপ্ত। দেশটিতে চরম আবাসন সংকট এবং আইনি জটিলতায় একের পর এক পরিবার উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে। ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মারিক্যারমেনকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর দেশটির সরকার পরিবারগুলোকে রক্ষার একটি প্রস্তাবিত আইন বাতিল করে দেয়। এতে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম নির্বাচন ডাকতে বাধ্য হন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘরছাড়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় মারা যান বৃদ্ধা মারিক্যারমেন।

শ্রেণি আর বয়সের কারণে বেড়েছে বৈষম্য
দেশগুলোর পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আন্দোলনের মূল সুর কিন্তু এক- বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এ বৈষম্য যেমন সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক, তেমনই আবার দুই প্রজন্মের মাঝের দেওয়াল নিয়েও।
২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে ইউরোপজুড়ে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বহুগুণ বেড়েছে। একসময় ইউরোপের যেসব কল্যাণমুখী রাষ্ট্র সাধারণ মানুষকে বিনাখরচে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিল, কৃচ্ছ্রসাধনের নামে রাষ্ট্র এখন সেসব খাত থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। ফলে যারা বাড়তি টাকা ঢালতে পারছে তারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ তলিয়ে যাচ্ছে আরও গভীরে।
শিক্ষা, প্রযুক্তি আর কাজের সংকট
প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে তরুণদের ওপর। সাম্প্রতিক পিসা (PISA) ফলাফলে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পঠন ও গণিত দক্ষতায় বড় ধস নেমেছে। একদিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও স্কুলে অনুপস্থিতি যেমন একটা কারণ, অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহারও কম দায়ী নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঢিলেঢালা নীতি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লবিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুধু পড়ালেখাতেই নয়, তরুণদের কাজের বাজারেও আঘাত করেছে এআই প্রযুক্তি। প্রাথমিক বা শিক্ষানবিশ স্তরের যে কাজগুলো দিয়ে তরুণরা ক্যারিয়ার শুরু করত, সেগুলোতে এখন দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
আবাসন সংকট ও অনিশ্চিত জলবায়ু ভবিষ্যৎ
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ের মাঝে আবাসন সংকট যেন বাড়তি এক বোঝা। আজকের তরুণরা তাদের উপার্জনের সিংহভাগই ঢেলে দিচ্ছে বাসা ভাড়ায়, যা আগের কোনো প্রজন্মকে করতে হয়নি।
এর ওপর তো মাথার ওপর ঝুলছে জলবায়ু সংকট। আইপিসিসি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, ২০২০ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জীবন তার বাবা-মা বা দাদা-দাদিদের চেয়ে কতটা বেশি অনিশ্চিত ও চরম ঝুঁকির হতে যাচ্ছে। বৈষম্যহীন সমাজ যেখানে সবাই মিলে দুর্যোগ সামলে নেওয়ার পথ খোঁজে, সেখানে বর্তমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সব দায়ভার এসে পড়ছে একেকটি একক পরিবারের ওপর।

দমনপীড়নে কি ক্ষোভ কমবে
প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম কিংবা মাদ্রিদ- সব জায়গায় তরুণদের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে শাসনব্যবস্থার একের পর এক ব্যর্থতা। অথচ এসব ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারগুলোর প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠোর দমনপীড়ন। প্রতিবাদ দমন আইন তৈরি, ঢালাও গ্রেপ্তার আর পুলিশের লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে।
তবে ইতিহাস বলে, দমনপীড়ন দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো আন্দোলন দমানো গেলেও ভেতরে ভেতরে তা আরও বড় আন্দোলনের বীজ বুনতে থাকে। ফ্রান্স ও ভারতে এখন ঠিক সেটাই ঘটছে। সমস্যাগুলোর মূল উপড়ে না ফেলে শুধু পুলিশের জোরে তরুণদের রাজপথ থেকে ঘরে ফেরানো যাবে না। তরুণদের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তাকে নেভাতে হলে সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা দরকার। তা না হলে এ রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর রূপ নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইউরোপ থেকে এশিয়া- বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের এক নতুন হাওয়া।রাজপথ কাঁপাচ্ছে একঝাঁক ক্ষুব্ধ তরুণ। যাদের বলা হচ্ছে ‘জেন জি’। শিক্ষা, আবাসন, বেকারত্ব কিংবা সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত যেসব সংকট সরাসরি তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে, সেসবের বিরুদ্ধেই এখন সোচ্চার এ নতুন প্রজন্ম।

প্যারিস থেকে দিল্লি: রাজপথে বিক্ষোভের আগুন
বিক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে বেশি লেগেছে ফ্রান্সে। মারাত্মক অর্থসংকটে ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলোর দৈন্যদশা দূর করার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ আগে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দিনে দিনে সেই আন্দোলনের ধার এতটাই বেড়েছে যে, গত সপ্তাহের শেষে দেশজুড়ে ৫ থেকে ৮ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
অন্যদিকে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনপদ্ধতির বিরুদ্ধে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্দোলন। ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার খবরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। সেই অসন্তোষের আগুন বাড়ে যখন গত সপ্তাহে আন্দোলনের মূল নেতা সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সময়ে স্পেনের চিত্রটাও বেশ উত্তপ্ত। দেশটিতে চরম আবাসন সংকট এবং আইনি জটিলতায় একের পর এক পরিবার উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে। ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মারিক্যারমেনকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর দেশটির সরকার পরিবারগুলোকে রক্ষার একটি প্রস্তাবিত আইন বাতিল করে দেয়। এতে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম নির্বাচন ডাকতে বাধ্য হন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘরছাড়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় মারা যান বৃদ্ধা মারিক্যারমেন।

শ্রেণি আর বয়সের কারণে বেড়েছে বৈষম্য
দেশগুলোর পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আন্দোলনের মূল সুর কিন্তু এক- বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এ বৈষম্য যেমন সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক, তেমনই আবার দুই প্রজন্মের মাঝের দেওয়াল নিয়েও।
২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে ইউরোপজুড়ে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বহুগুণ বেড়েছে। একসময় ইউরোপের যেসব কল্যাণমুখী রাষ্ট্র সাধারণ মানুষকে বিনাখরচে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিল, কৃচ্ছ্রসাধনের নামে রাষ্ট্র এখন সেসব খাত থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। ফলে যারা বাড়তি টাকা ঢালতে পারছে তারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ তলিয়ে যাচ্ছে আরও গভীরে।
শিক্ষা, প্রযুক্তি আর কাজের সংকট
প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে তরুণদের ওপর। সাম্প্রতিক পিসা (PISA) ফলাফলে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পঠন ও গণিত দক্ষতায় বড় ধস নেমেছে। একদিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও স্কুলে অনুপস্থিতি যেমন একটা কারণ, অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহারও কম দায়ী নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঢিলেঢালা নীতি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লবিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুধু পড়ালেখাতেই নয়, তরুণদের কাজের বাজারেও আঘাত করেছে এআই প্রযুক্তি। প্রাথমিক বা শিক্ষানবিশ স্তরের যে কাজগুলো দিয়ে তরুণরা ক্যারিয়ার শুরু করত, সেগুলোতে এখন দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
আবাসন সংকট ও অনিশ্চিত জলবায়ু ভবিষ্যৎ
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ের মাঝে আবাসন সংকট যেন বাড়তি এক বোঝা। আজকের তরুণরা তাদের উপার্জনের সিংহভাগই ঢেলে দিচ্ছে বাসা ভাড়ায়, যা আগের কোনো প্রজন্মকে করতে হয়নি।
এর ওপর তো মাথার ওপর ঝুলছে জলবায়ু সংকট। আইপিসিসি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, ২০২০ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জীবন তার বাবা-মা বা দাদা-দাদিদের চেয়ে কতটা বেশি অনিশ্চিত ও চরম ঝুঁকির হতে যাচ্ছে। বৈষম্যহীন সমাজ যেখানে সবাই মিলে দুর্যোগ সামলে নেওয়ার পথ খোঁজে, সেখানে বর্তমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সব দায়ভার এসে পড়ছে একেকটি একক পরিবারের ওপর।

দমনপীড়নে কি ক্ষোভ কমবে
প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম কিংবা মাদ্রিদ- সব জায়গায় তরুণদের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে শাসনব্যবস্থার একের পর এক ব্যর্থতা। অথচ এসব ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারগুলোর প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠোর দমনপীড়ন। প্রতিবাদ দমন আইন তৈরি, ঢালাও গ্রেপ্তার আর পুলিশের লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে।
তবে ইতিহাস বলে, দমনপীড়ন দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো আন্দোলন দমানো গেলেও ভেতরে ভেতরে তা আরও বড় আন্দোলনের বীজ বুনতে থাকে। ফ্রান্স ও ভারতে এখন ঠিক সেটাই ঘটছে। সমস্যাগুলোর মূল উপড়ে না ফেলে শুধু পুলিশের জোরে তরুণদের রাজপথ থেকে ঘরে ফেরানো যাবে না। তরুণদের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তাকে নেভাতে হলে সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা দরকার। তা না হলে এ রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর রূপ নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্ম কেন রাজপথে নামছে
সিজেডএন ডেস্ক

ইউরোপ থেকে এশিয়া- বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের এক নতুন হাওয়া।রাজপথ কাঁপাচ্ছে একঝাঁক ক্ষুব্ধ তরুণ। যাদের বলা হচ্ছে ‘জেন জি’। শিক্ষা, আবাসন, বেকারত্ব কিংবা সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত যেসব সংকট সরাসরি তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে, সেসবের বিরুদ্ধেই এখন সোচ্চার এ নতুন প্রজন্ম।

প্যারিস থেকে দিল্লি: রাজপথে বিক্ষোভের আগুন
বিক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে বেশি লেগেছে ফ্রান্সে। মারাত্মক অর্থসংকটে ধুঁকতে থাকা স্কুলগুলোর দৈন্যদশা দূর করার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ আগে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দিনে দিনে সেই আন্দোলনের ধার এতটাই বেড়েছে যে, গত সপ্তাহের শেষে দেশজুড়ে ৫ থেকে ৮ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
অন্যদিকে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনপদ্ধতির বিরুদ্ধে বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্দোলন। ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার খবরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। সেই অসন্তোষের আগুন বাড়ে যখন গত সপ্তাহে আন্দোলনের মূল নেতা সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সময়ে স্পেনের চিত্রটাও বেশ উত্তপ্ত। দেশটিতে চরম আবাসন সংকট এবং আইনি জটিলতায় একের পর এক পরিবার উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে। ৮৭ বছরের বৃদ্ধা মারিক্যারমেনকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর দেশটির সরকার পরিবারগুলোকে রক্ষার একটি প্রস্তাবিত আইন বাতিল করে দেয়। এতে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম নির্বাচন ডাকতে বাধ্য হন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘরছাড়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় মারা যান বৃদ্ধা মারিক্যারমেন।

শ্রেণি আর বয়সের কারণে বেড়েছে বৈষম্য
দেশগুলোর পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আন্দোলনের মূল সুর কিন্তু এক- বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এ বৈষম্য যেমন সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক, তেমনই আবার দুই প্রজন্মের মাঝের দেওয়াল নিয়েও।
২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে ইউরোপজুড়ে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বহুগুণ বেড়েছে। একসময় ইউরোপের যেসব কল্যাণমুখী রাষ্ট্র সাধারণ মানুষকে বিনাখরচে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিল, কৃচ্ছ্রসাধনের নামে রাষ্ট্র এখন সেসব খাত থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। ফলে যারা বাড়তি টাকা ঢালতে পারছে তারা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ তলিয়ে যাচ্ছে আরও গভীরে।
শিক্ষা, প্রযুক্তি আর কাজের সংকট
প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসছে তরুণদের ওপর। সাম্প্রতিক পিসা (PISA) ফলাফলে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের পঠন ও গণিত দক্ষতায় বড় ধস নেমেছে। একদিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও স্কুলে অনুপস্থিতি যেমন একটা কারণ, অন্যদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহারও কম দায়ী নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঢিলেঢালা নীতি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লবিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুধু পড়ালেখাতেই নয়, তরুণদের কাজের বাজারেও আঘাত করেছে এআই প্রযুক্তি। প্রাথমিক বা শিক্ষানবিশ স্তরের যে কাজগুলো দিয়ে তরুণরা ক্যারিয়ার শুরু করত, সেগুলোতে এখন দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
আবাসন সংকট ও অনিশ্চিত জলবায়ু ভবিষ্যৎ
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ের মাঝে আবাসন সংকট যেন বাড়তি এক বোঝা। আজকের তরুণরা তাদের উপার্জনের সিংহভাগই ঢেলে দিচ্ছে বাসা ভাড়ায়, যা আগের কোনো প্রজন্মকে করতে হয়নি।
এর ওপর তো মাথার ওপর ঝুলছে জলবায়ু সংকট। আইপিসিসি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, ২০২০ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জীবন তার বাবা-মা বা দাদা-দাদিদের চেয়ে কতটা বেশি অনিশ্চিত ও চরম ঝুঁকির হতে যাচ্ছে। বৈষম্যহীন সমাজ যেখানে সবাই মিলে দুর্যোগ সামলে নেওয়ার পথ খোঁজে, সেখানে বর্তমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সব দায়ভার এসে পড়ছে একেকটি একক পরিবারের ওপর।

দমনপীড়নে কি ক্ষোভ কমবে
প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম কিংবা মাদ্রিদ- সব জায়গায় তরুণদের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে শাসনব্যবস্থার একের পর এক ব্যর্থতা। অথচ এসব ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারগুলোর প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠোর দমনপীড়ন। প্রতিবাদ দমন আইন তৈরি, ঢালাও গ্রেপ্তার আর পুলিশের লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলন বন্ধের চেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে।
তবে ইতিহাস বলে, দমনপীড়ন দিয়ে সাময়িকভাবে কোনো আন্দোলন দমানো গেলেও ভেতরে ভেতরে তা আরও বড় আন্দোলনের বীজ বুনতে থাকে। ফ্রান্স ও ভারতে এখন ঠিক সেটাই ঘটছে। সমস্যাগুলোর মূল উপড়ে না ফেলে শুধু পুলিশের জোরে তরুণদের রাজপথ থেকে ঘরে ফেরানো যাবে না। তরুণদের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তাকে নেভাতে হলে সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা দরকার। তা না হলে এ রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর রূপ নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা









