পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আইএইএর প্রস্তাব নাকচ উত্তর কোরিয়ার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আইএইএর প্রস্তাব নাকচ উত্তর কোরিয়ার
অস্ত্রের মহড়া পরিদর্শনে কিম জং উন

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করে পাস হওয়া ও প্রস্তাবকে পিয়ংইয়ং কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব পরমাণু প্রতিরোধ সক্ষমতাই যথেষ্ট। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্ররোচনায় আনা প্রস্তাব পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্রধারী দেশের মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারবে না।

উত্তর কোরিয়ার দাবি, চলতি সপ্তাহে আইএইএর সাধারণ সম্মেলনকে হাতিয়ার করে ‘শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো’ তাদের পরমাণু কর্মসূচি থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি অন্ধ পক্ষপাত দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তার মতে, আইএইএর ‘পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বৈত নীতি’ই আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রকাশ্য পরমাণু বিস্তার কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এবং দক্ষিণ কোরিয়া পরমাণু-চালিত সাবমেরিন চালুর পরিকল্পনা করলেও সংস্থাটি সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেঅ। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক হুমকি থেকে বাঁচতেই পরমাণু অস্ত্র তাদের দেশের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে পিয়ংইয়ং।

পরমাণু কূটনীতির উত্তাপের মাঝেই তিন দিন ধরে দেশটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন কিম জং উন। সামরিক উৎপাদন বাড়াতে পিয়ংইয়ং কতটা তৎপর, এই সফরগুলো তারই প্রমাণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে মস্কোর সহায়তায় নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করে তুলছে উত্তর কোরিয়া। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া উত্তর কোরিয়ান সেনাদের বাস্তব যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাও দেশের সামরিক সংস্কারে কাজে লাগাচ্ছে তারা, যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু সামরিক ময়দানই নয়, আদর্শিক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমেও নতুন কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন কিম জং উন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারকর্মীদের এক প্রশিক্ষণ সভায় তিনি পুরোনো ধারা ভেঙে আরও আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল প্রচার চালানোর তাগিদ দেন। সরকারের নীতি ও সামরিক শক্তির পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করতে এ বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির প্রশাসন।

এমন কঠোর অবস্থানের বাইরেও অবশ্য কূটনীতির দুয়ার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপে বসতে আগ্রহী। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প এর আগে চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/