রুশ সম্পদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ওয়াশিংটন-মস্কোর আলোচনা

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
রুশ সম্পদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ওয়াশিংটন-মস্কোর আলোচনা
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে মস্কোর বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে ক্রেমলিনের এক শীর্ষ উপদেষ্টা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই কথাবার্তা চলছে। উশাকভ জানান, এ তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখছেন।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর বাইডেন প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তহবিলটিকে পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠদের একটি অবৈধ অর্থের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস খবর প্রকাশ করে, ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞাটি শিথিল বা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। রাশিয়ার প্রতি এ নমনীয় মনোভাবের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে- দুই জায়গাতেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নেতারা যেমন এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তেমনি ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। একইসঙ্গে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির ওপর সদ্য কার্যকর হওয়া এক আইনে কিছু ছাড় দেন তিনি। স্থগিত হওয়া আইনটি বহাল থাকলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের শীর্ষ ৫ আমদানিকারক দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক বসত। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সমঝোতার আওতায় বিশ্ববাজারে স্বাভাবিক দামে ডিজেল পৌঁছাতে আপাতত ছয় মাসের জন্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেল ও ডিজেলের দাম সামাল দিতেই মূলত হোয়াইট হাউস এমন কৌশল নিয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়াকে যেন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শান্তি আলোচনায় টিকিয়ে রাখা যায়, সেজন্যই এ শিথিলতার পথ বেছে নিয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/