অনেক কিছু করেছি, তবুও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প

অনেক কিছু করেছি, তবুও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

নিউইয়র্কে এক সমাবেশে নিজের জমে থাকা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য ‘মুছে ফেলা যায় না এমন কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, পিল্লাই কী করেছেন, তা তিনি জানেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কার দেননি, তা আমরা ভুলব না।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন,
‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি, আরও দুটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো বা মীমাংসা করার কাছাকাছি রয়েছে। ইসরায়েলের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি, যার মধ্যে শেষ ২৮ জনও রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং দেশটিকে নির্মমভাবে শাসন করা সহিংস স্বৈরশাসককে আটক করেছি। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছি। আরও অনেক কিছু করেছি। তারপরও আমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। বাহ!’
অবশ্য ট্রাম্পের দাবি করা আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে, কিংবা শান্তি ফেরানোর নেপথ্য কারিগর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পক্ষগুলো। প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, নরওয়ে ও এর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য এ অবমূল্যায়ন অত্যন্ত ‘কলঙ্কজনক ও বিব্রতকর’।
নোবেল কমিটির অবস্থান
এদিকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মানিত করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো এমন একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো, যিনি সাহস ও সততার সঙ্গে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাইলে আমাদের সমাজ ও বিশ্বকে সেই দিকেই এগোতে হবে।’
কে এই নাভি পিল্লাই
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞ ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের আইনি লড়াকু হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করা পিল্লাই ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার তদন্ত ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের একটি কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত গণহত্যার মামলার বিচারক হিসেবে কাজ করছেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর হাস্য রসাত্মকভাবে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি করতালি দেন, তাহলে হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’ পরে তিনি এ সম্মাননা উৎসর্গ করেন যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিদের উদ্দেশে। কমিটি তার সাহসের প্রশংসা করায় তিনি বলেন, ‘সত্য কথা বলতে সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’ এছাড়া তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বিশ্ব বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার হীনচেষ্টা মাত্র।
আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য এ আদালত যে হুমকি তৈরি করেছে, তা রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অসলোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো মনে করেন, একই দিনে আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নোবেল পুরস্কারের ওজন ও গুরুত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নোবেল কমিটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন এবং তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অপরিহার্য ভিত্তি। কমিটির সিদ্ধান্তটি সাহসী এবং এর জবাবে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা উদ্বেগজনকভাবে দাদাগিরিমূলক।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের পাশাপাশি অতীতেও বিভিন্ন ব্যক্তি বা দেশ তাকে নোবেল দেওয়ার পক্ষে নানা প্রচারণা চালিয়েছে। এমনকি গত বছর পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পদকটি ট্রাম্পকে দিয়ে দিয়েছিলেন, যার কসয় সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

নিউইয়র্কে এক সমাবেশে নিজের জমে থাকা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য ‘মুছে ফেলা যায় না এমন কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, পিল্লাই কী করেছেন, তা তিনি জানেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কার দেননি, তা আমরা ভুলব না।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন,
‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি, আরও দুটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো বা মীমাংসা করার কাছাকাছি রয়েছে। ইসরায়েলের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি, যার মধ্যে শেষ ২৮ জনও রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং দেশটিকে নির্মমভাবে শাসন করা সহিংস স্বৈরশাসককে আটক করেছি। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছি। আরও অনেক কিছু করেছি। তারপরও আমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। বাহ!’
অবশ্য ট্রাম্পের দাবি করা আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে, কিংবা শান্তি ফেরানোর নেপথ্য কারিগর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পক্ষগুলো। প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, নরওয়ে ও এর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য এ অবমূল্যায়ন অত্যন্ত ‘কলঙ্কজনক ও বিব্রতকর’।
নোবেল কমিটির অবস্থান
এদিকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মানিত করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো এমন একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো, যিনি সাহস ও সততার সঙ্গে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাইলে আমাদের সমাজ ও বিশ্বকে সেই দিকেই এগোতে হবে।’
কে এই নাভি পিল্লাই
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞ ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের আইনি লড়াকু হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করা পিল্লাই ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার তদন্ত ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের একটি কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত গণহত্যার মামলার বিচারক হিসেবে কাজ করছেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর হাস্য রসাত্মকভাবে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি করতালি দেন, তাহলে হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’ পরে তিনি এ সম্মাননা উৎসর্গ করেন যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিদের উদ্দেশে। কমিটি তার সাহসের প্রশংসা করায় তিনি বলেন, ‘সত্য কথা বলতে সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’ এছাড়া তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বিশ্ব বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার হীনচেষ্টা মাত্র।
আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য এ আদালত যে হুমকি তৈরি করেছে, তা রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অসলোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো মনে করেন, একই দিনে আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নোবেল পুরস্কারের ওজন ও গুরুত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নোবেল কমিটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন এবং তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অপরিহার্য ভিত্তি। কমিটির সিদ্ধান্তটি সাহসী এবং এর জবাবে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা উদ্বেগজনকভাবে দাদাগিরিমূলক।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের পাশাপাশি অতীতেও বিভিন্ন ব্যক্তি বা দেশ তাকে নোবেল দেওয়ার পক্ষে নানা প্রচারণা চালিয়েছে। এমনকি গত বছর পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পদকটি ট্রাম্পকে দিয়ে দিয়েছিলেন, যার কসয় সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

অনেক কিছু করেছি, তবুও নোবেল পেলাম না: ট্রাম্প
সিজেডএন ডেস্ক

নিউইয়র্কে এক সমাবেশে নিজের জমে থাকা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম নাভি পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য ‘মুছে ফেলা যায় না এমন কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, পিল্লাই কী করেছেন, তা তিনি জানেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কার দেননি, তা আমরা ভুলব না।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন,
‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি, আরও দুটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো বা মীমাংসা করার কাছাকাছি রয়েছে। ইসরায়েলের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি, যার মধ্যে শেষ ২৮ জনও রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি এবং দেশটিকে নির্মমভাবে শাসন করা সহিংস স্বৈরশাসককে আটক করেছি। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছি। আরও অনেক কিছু করেছি। তারপরও আমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। বাহ!’
অবশ্য ট্রাম্পের দাবি করা আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে, কিংবা শান্তি ফেরানোর নেপথ্য কারিগর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পক্ষগুলো। প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, নরওয়ে ও এর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য এ অবমূল্যায়ন অত্যন্ত ‘কলঙ্কজনক ও বিব্রতকর’।
নোবেল কমিটির অবস্থান
এদিকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে সম্মানিত করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো এমন একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো, যিনি সাহস ও সততার সঙ্গে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাইলে আমাদের সমাজ ও বিশ্বকে সেই দিকেই এগোতে হবে।’
কে এই নাভি পিল্লাই
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞ ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজীবন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের আইনি লড়াকু হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করা পিল্লাই ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার তদন্ত ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা জাতিসংঘের একটি কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত গণহত্যার মামলার বিচারক হিসেবে কাজ করছেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর হাস্য রসাত্মকভাবে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি করতালি দেন, তাহলে হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’ পরে তিনি এ সম্মাননা উৎসর্গ করেন যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিদের উদ্দেশে। কমিটি তার সাহসের প্রশংসা করায় তিনি বলেন, ‘সত্য কথা বলতে সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’ এছাড়া তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বিশ্ব বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার হীনচেষ্টা মাত্র।
আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য এ আদালত যে হুমকি তৈরি করেছে, তা রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অসলোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলো মনে করেন, একই দিনে আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নোবেল পুরস্কারের ওজন ও গুরুত্ব আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নোবেল কমিটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন এবং তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অপরিহার্য ভিত্তি। কমিটির সিদ্ধান্তটি সাহসী এবং এর জবাবে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা উদ্বেগজনকভাবে দাদাগিরিমূলক।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের পাশাপাশি অতীতেও বিভিন্ন ব্যক্তি বা দেশ তাকে নোবেল দেওয়ার পক্ষে নানা প্রচারণা চালিয়েছে। এমনকি গত বছর পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পদকটি ট্রাম্পকে দিয়ে দিয়েছিলেন, যার কসয় সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমার পাওয়া উচিত: ট্রাম্প







