বিরল সৌজন্য দেখিয়ে শিকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিরল সৌজন্য দেখিয়ে শিকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
বিমানবন্দরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে এক বিরল ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা শিকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বিমানের সিড়ির কাছে গিয়ে স্বাগত জানান তিনি। মেরিল্যান্ডে অবস্থিত এই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস থেকে ১৩ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সফররত কোনো বিদেশি নেতাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান না। হোয়াইট হাউসেই চলে এই আনুষ্ঠানিকতা। তবে রীতি ভেঙে বিমানবন্দরে গিয়ে শি-র জন্য ট্রাম্পের এই অভিবাদনকে নজিরবিহীন কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সফর শুরুর সময় ট্রাম্প তাকে ওয়েস্ট উইংয়ের প্রবেশপথে স্বাগত জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে হোয়াইট হাউসের সাউথ পোর্টিকোতে রাজা তৃতীয় চার্লসকে স্বাগত জানানো হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা মাঝেমধ্যে ওয়াশিংটন এলাকার বিমানবন্দরে সফররত পোপদের স্বাগত জানিয়েছেন। তবে অন্য বিদেশি নেতাদের ক্ষেত্রে এমন রীতি খুব একটা দেখা যায়নি।

প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬২ সালে ওয়াশিংটন এলাকার বিমানবন্দরে ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স উফুয়ে-বোয়িনি। সাম্প্রতিক সময়ে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অ্যান্ড্রুজে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টকে এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিসকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে প্রেসিডেন্ট শি এক ঐতিহাসিক সম্মেলনের জন্য চীনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আতিথ্য দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চীনা প্রতিনিধিদলকে পাল্টা সফরে স্বাগত জানিয়ে তার আতিথেয়তার প্রতিদান দিচ্ছেন।’

যদিও গত মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় এমন অভ্যর্থনা পাননি।

আনা কেলি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নিতে এবং আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো চুক্তি করতে প্রেসিডেন্ট যে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।’

বিমানবন্দরের রানওয়েতে ট্রাম্পের এই স্বাগত জানানো এমন একটি প্রেসিডেন্টীয় রীতিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে, যা পোপদের সফর ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে খুবই বিরল হয়ে গেছে।

সূত্র: এক্সিওস, ন্যাশনাল হেরার্ল্ড

/জেএইচ/