মার-এ-লাগো: ট্রাম্পের বিলাসী রাজপ্রাসাদ

মার-এ-লাগো: ট্রাম্পের বিলাসী রাজপ্রাসাদ
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে রূপকথার কোনো রাজপ্রাসাদ। চারদিকে সমুদ্র, বিশাল বাগান, চোখধাঁধানো স্থাপত্য আর বিলাসিতা। কিন্তু ফ্লোরিডার এ প্রাসাদ শুধু ধনীদের অবকাশ যাপনের জায়গা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঠিকানা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আবাস ও ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগো। যে বাড়িতে একসময় থাকতেন এক ধনকুবের সমাজসেবী। সময়ের পরিক্রমায় সেটিই হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির ক্ষমতাবলয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সমুদ্রের পাশে এক স্বপ্নের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগো। একদিকে আটলান্টিক মহাসাগর, অন্যদিকে লেক ও সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ জমি। নামটির মধ্যেও লুকিয়ে আছে এ অবস্থানের পরিচয়। স্প্যানিশ ভাষায় মার-এ-লাগো অর্থ ‘সমুদ্র থেকে হ্রদ’।
এ জায়গাটির গল্প শুরু হয়েছিল মার্জোরি মেরিওয়েদার পোস্ট নামে এক ধনকুবের নারীর স্বপ্ন থেকে। তার বাবা সিডব্লিউ পোস্ট ছিলেন ব্যবসায়ী।
১৯২০-এর দশকে মার্জোরি পাম বিচে নিজের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বাড়ি খুঁজছিলেন। তখনকার পাম বিচ আজকের মতো ঝলমলে ছিল না। অনেক জায়গাজুড়েই ছিল ঝোপঝাড়, জলাভূমি আর অনাবাদি জমি। তবু নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজতে তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অবশেষে সমুদ্র ও হ্রদের মাঝে এক টুকরো জমি তার পছন্দ হয়। সেখানেই শুরু হয় মার-এ-লাগোর নির্মাণ।
১১৫ কক্ষের প্রাসাদ, নির্মাণে খরচ ৮০ লাখ ডলার
১৯২৭ সালে নির্মাণ শেষ হয় মার-এ-লাগোর মূল ভবনের। সে সময় প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরির সময় প্রাসাদটির কক্ষ ছিল ১১৫টি। বর্তমান সময়ের হিসাবে সেই অর্থের মূল্য আরও অনেক বেশি।বাড়িটির প্রতিটি অংশে ছিল আভিজাত্যের ছাপ। বসার ঘরে সোনার পাতের সাজসজ্জা, খাবার ঘরে হাতে আঁকা ফ্রেস্কো এবং প্রবেশপথে পঞ্চদশ শতাব্দীর টাইলস। ইউরোপীয় শিল্প ও স্থাপত্যের নানা নিদর্শন দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো বাড়ি।
মজার বিষয় হলো, এসব জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা নয়। এগুলোর বড় অংশই তৈরি করেছিলেন মার্জোরি পোস্ট। ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সঙ্গে এ সাজসজ্জা মানানসই হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় শতাব্দীর পুরোনো ইতিহাস।
শীতকালীন হোয়াইট হাউস হওয়ার কথা ছিল
মার্জোরি পোস্ট শুধু নিজের বিলাসিতার জন্য বাড়িটি তৈরি করেননি। ১৯৭৩ সালে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে তিনি মার-এ-লাগো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে উইল করে যান। তার ইচ্ছা ছিল, বাড়িটি যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশি অতিথিদের জন্য শীতকালীন অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হয়ে উঠতে পারত আরেকটি হোয়াইট হাউস, যেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথিরা সময় কাটাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এত বড় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচের বিষয়টি সরকারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে পরিকল্পনাটি এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্পত্তিটিকে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৩ সালে এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
যেভাবে ট্রাম্পের হাতে এলো মার-এ-লাগো
মার্জোরি পোস্টের মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় সম্পত্তিটি সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার-এ-লাগো কিনে নেন। সে সময় তিনি এর জন্য প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি ডলার খরচ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সম্পত্তিটি কেনার পর ট্রাম্প এর পরিধি আরও বাড়ান। মূল ভবনে যুক্ত হয় আরও ১১টি কক্ষ। ফলে কক্ষের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬। তবে এত বড় বাড়ি শুধু নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল এ বাড়িকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ১৯৯৫ সালে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত ক্লাবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নিজের বসবাসের অংশটি আলাদা রেখেছিলেন তিনি। বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হয় সদস্যদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা।
সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু প্রবেশ মূল্য লাখ ডলার
মার-এ-লাগোকে ট্রাম্প প্রায়ই নিজের অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ক্লাবটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কথাটি শুনতে বেশ উদার মনে হলেও বাস্তবতা একটু ভিন্ন। কারণ এখানে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ।
ক্লাবটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী সহসভাপতি বার্নড লেম্বকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদস্য হতে এক লাখ ডলার ফেরত-অযোগ্য ফি দিতে হয়। এর বাইরে প্রতিবছর ১৪ হাজার ডলার সদস্যপদ ফি এবং খাবারের জন্য আরও দুই হাজার ডলার খরচ করতে হয়।
সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ কঠিন। আগ্রহীদের ক্লাবের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে তাতে প্রয়োজন হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর। ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানানো না হলেও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি ৫০০ সদস্যের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আভিজাত্যের আড়ালে সমতা নিয়ে প্রশ্ন
মার-এ-লাগোর সদস্যপদ নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর সদস্যদের পরিচয় ও বৈচিত্র্য। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদস্য হওয়ার আবেদনপত্রে কারও জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয় না।
তবে এক লাখ ডলারের সদস্য ফি এবং নিয়মিত উচ্চ চাঁদার কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সাধারণ মানুষের জন্য এ ক্লাব কতটা সহজলভ্য? ট্রাম্পের কাছে মার-এ-লাগো হয়তো সবার জন্য উন্মুক্ত একটি ক্লাব। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রবেশের সামর্থ্য সবার নেই।
প্রাসাদ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র
মার-এ-লাগোর পরিচয় এখন আর শুধু বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা অভিজাতদের ক্লাবে সীমাবদ্ধ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেও জায়গাটি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার নির্বাচনি প্রচারণার সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বৈঠক এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও মার-এ-লাগো ছিল তার পরিচিত অবকাশযাপনের ঠিকানা।
একসময় যে বাড়ি তৈরি হয়েছিল একজন ধনকুবের নারীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য, সেটিই আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, ব্যবসা ও অভিজাত সমাজের এক মিলনস্থল।
সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মার-এ-লাগো তাই শুধু একটি প্রাসাদের গল্প নয়। এটি সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর রাজনৈতিক ক্ষমতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে রূপকথার কোনো রাজপ্রাসাদ। চারদিকে সমুদ্র, বিশাল বাগান, চোখধাঁধানো স্থাপত্য আর বিলাসিতা। কিন্তু ফ্লোরিডার এ প্রাসাদ শুধু ধনীদের অবকাশ যাপনের জায়গা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঠিকানা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আবাস ও ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগো। যে বাড়িতে একসময় থাকতেন এক ধনকুবের সমাজসেবী। সময়ের পরিক্রমায় সেটিই হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির ক্ষমতাবলয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সমুদ্রের পাশে এক স্বপ্নের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগো। একদিকে আটলান্টিক মহাসাগর, অন্যদিকে লেক ও সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ জমি। নামটির মধ্যেও লুকিয়ে আছে এ অবস্থানের পরিচয়। স্প্যানিশ ভাষায় মার-এ-লাগো অর্থ ‘সমুদ্র থেকে হ্রদ’।
এ জায়গাটির গল্প শুরু হয়েছিল মার্জোরি মেরিওয়েদার পোস্ট নামে এক ধনকুবের নারীর স্বপ্ন থেকে। তার বাবা সিডব্লিউ পোস্ট ছিলেন ব্যবসায়ী।
১৯২০-এর দশকে মার্জোরি পাম বিচে নিজের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বাড়ি খুঁজছিলেন। তখনকার পাম বিচ আজকের মতো ঝলমলে ছিল না। অনেক জায়গাজুড়েই ছিল ঝোপঝাড়, জলাভূমি আর অনাবাদি জমি। তবু নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজতে তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অবশেষে সমুদ্র ও হ্রদের মাঝে এক টুকরো জমি তার পছন্দ হয়। সেখানেই শুরু হয় মার-এ-লাগোর নির্মাণ।
১১৫ কক্ষের প্রাসাদ, নির্মাণে খরচ ৮০ লাখ ডলার
১৯২৭ সালে নির্মাণ শেষ হয় মার-এ-লাগোর মূল ভবনের। সে সময় প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরির সময় প্রাসাদটির কক্ষ ছিল ১১৫টি। বর্তমান সময়ের হিসাবে সেই অর্থের মূল্য আরও অনেক বেশি।বাড়িটির প্রতিটি অংশে ছিল আভিজাত্যের ছাপ। বসার ঘরে সোনার পাতের সাজসজ্জা, খাবার ঘরে হাতে আঁকা ফ্রেস্কো এবং প্রবেশপথে পঞ্চদশ শতাব্দীর টাইলস। ইউরোপীয় শিল্প ও স্থাপত্যের নানা নিদর্শন দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো বাড়ি।
মজার বিষয় হলো, এসব জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা নয়। এগুলোর বড় অংশই তৈরি করেছিলেন মার্জোরি পোস্ট। ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সঙ্গে এ সাজসজ্জা মানানসই হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় শতাব্দীর পুরোনো ইতিহাস।
শীতকালীন হোয়াইট হাউস হওয়ার কথা ছিল
মার্জোরি পোস্ট শুধু নিজের বিলাসিতার জন্য বাড়িটি তৈরি করেননি। ১৯৭৩ সালে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে তিনি মার-এ-লাগো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে উইল করে যান। তার ইচ্ছা ছিল, বাড়িটি যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশি অতিথিদের জন্য শীতকালীন অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হয়ে উঠতে পারত আরেকটি হোয়াইট হাউস, যেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথিরা সময় কাটাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এত বড় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচের বিষয়টি সরকারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে পরিকল্পনাটি এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্পত্তিটিকে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৩ সালে এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
যেভাবে ট্রাম্পের হাতে এলো মার-এ-লাগো
মার্জোরি পোস্টের মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় সম্পত্তিটি সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার-এ-লাগো কিনে নেন। সে সময় তিনি এর জন্য প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি ডলার খরচ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সম্পত্তিটি কেনার পর ট্রাম্প এর পরিধি আরও বাড়ান। মূল ভবনে যুক্ত হয় আরও ১১টি কক্ষ। ফলে কক্ষের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬। তবে এত বড় বাড়ি শুধু নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল এ বাড়িকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ১৯৯৫ সালে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত ক্লাবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নিজের বসবাসের অংশটি আলাদা রেখেছিলেন তিনি। বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হয় সদস্যদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা।
সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু প্রবেশ মূল্য লাখ ডলার
মার-এ-লাগোকে ট্রাম্প প্রায়ই নিজের অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ক্লাবটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কথাটি শুনতে বেশ উদার মনে হলেও বাস্তবতা একটু ভিন্ন। কারণ এখানে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ।
ক্লাবটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী সহসভাপতি বার্নড লেম্বকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদস্য হতে এক লাখ ডলার ফেরত-অযোগ্য ফি দিতে হয়। এর বাইরে প্রতিবছর ১৪ হাজার ডলার সদস্যপদ ফি এবং খাবারের জন্য আরও দুই হাজার ডলার খরচ করতে হয়।
সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ কঠিন। আগ্রহীদের ক্লাবের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে তাতে প্রয়োজন হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর। ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানানো না হলেও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি ৫০০ সদস্যের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আভিজাত্যের আড়ালে সমতা নিয়ে প্রশ্ন
মার-এ-লাগোর সদস্যপদ নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর সদস্যদের পরিচয় ও বৈচিত্র্য। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদস্য হওয়ার আবেদনপত্রে কারও জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয় না।
তবে এক লাখ ডলারের সদস্য ফি এবং নিয়মিত উচ্চ চাঁদার কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সাধারণ মানুষের জন্য এ ক্লাব কতটা সহজলভ্য? ট্রাম্পের কাছে মার-এ-লাগো হয়তো সবার জন্য উন্মুক্ত একটি ক্লাব। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রবেশের সামর্থ্য সবার নেই।
প্রাসাদ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র
মার-এ-লাগোর পরিচয় এখন আর শুধু বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা অভিজাতদের ক্লাবে সীমাবদ্ধ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেও জায়গাটি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার নির্বাচনি প্রচারণার সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বৈঠক এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও মার-এ-লাগো ছিল তার পরিচিত অবকাশযাপনের ঠিকানা।
একসময় যে বাড়ি তৈরি হয়েছিল একজন ধনকুবের নারীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য, সেটিই আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, ব্যবসা ও অভিজাত সমাজের এক মিলনস্থল।
সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মার-এ-লাগো তাই শুধু একটি প্রাসাদের গল্প নয়। এটি সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর রাজনৈতিক ক্ষমতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার-এ-লাগো: ট্রাম্পের বিলাসী রাজপ্রাসাদ
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে রূপকথার কোনো রাজপ্রাসাদ। চারদিকে সমুদ্র, বিশাল বাগান, চোখধাঁধানো স্থাপত্য আর বিলাসিতা। কিন্তু ফ্লোরিডার এ প্রাসাদ শুধু ধনীদের অবকাশ যাপনের জায়গা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঠিকানা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আবাস ও ব্যক্তিগত ক্লাব মার-এ-লাগো। যে বাড়িতে একসময় থাকতেন এক ধনকুবের সমাজসেবী। সময়ের পরিক্রমায় সেটিই হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির ক্ষমতাবলয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সমুদ্রের পাশে এক স্বপ্নের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগো। একদিকে আটলান্টিক মহাসাগর, অন্যদিকে লেক ও সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ জমি। নামটির মধ্যেও লুকিয়ে আছে এ অবস্থানের পরিচয়। স্প্যানিশ ভাষায় মার-এ-লাগো অর্থ ‘সমুদ্র থেকে হ্রদ’।
এ জায়গাটির গল্প শুরু হয়েছিল মার্জোরি মেরিওয়েদার পোস্ট নামে এক ধনকুবের নারীর স্বপ্ন থেকে। তার বাবা সিডব্লিউ পোস্ট ছিলেন ব্যবসায়ী।
১৯২০-এর দশকে মার্জোরি পাম বিচে নিজের জন্য একটি ব্যতিক্রমী বাড়ি খুঁজছিলেন। তখনকার পাম বিচ আজকের মতো ঝলমলে ছিল না। অনেক জায়গাজুড়েই ছিল ঝোপঝাড়, জলাভূমি আর অনাবাদি জমি। তবু নিজের পছন্দের জায়গা খুঁজতে তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অবশেষে সমুদ্র ও হ্রদের মাঝে এক টুকরো জমি তার পছন্দ হয়। সেখানেই শুরু হয় মার-এ-লাগোর নির্মাণ।
১১৫ কক্ষের প্রাসাদ, নির্মাণে খরচ ৮০ লাখ ডলার
১৯২৭ সালে নির্মাণ শেষ হয় মার-এ-লাগোর মূল ভবনের। সে সময় প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরির সময় প্রাসাদটির কক্ষ ছিল ১১৫টি। বর্তমান সময়ের হিসাবে সেই অর্থের মূল্য আরও অনেক বেশি।বাড়িটির প্রতিটি অংশে ছিল আভিজাত্যের ছাপ। বসার ঘরে সোনার পাতের সাজসজ্জা, খাবার ঘরে হাতে আঁকা ফ্রেস্কো এবং প্রবেশপথে পঞ্চদশ শতাব্দীর টাইলস। ইউরোপীয় শিল্প ও স্থাপত্যের নানা নিদর্শন দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো বাড়ি।
মজার বিষয় হলো, এসব জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা নয়। এগুলোর বড় অংশই তৈরি করেছিলেন মার্জোরি পোস্ট। ট্রাম্পের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সঙ্গে এ সাজসজ্জা মানানসই হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় শতাব্দীর পুরোনো ইতিহাস।
শীতকালীন হোয়াইট হাউস হওয়ার কথা ছিল
মার্জোরি পোস্ট শুধু নিজের বিলাসিতার জন্য বাড়িটি তৈরি করেননি। ১৯৭৩ সালে ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে তিনি মার-এ-লাগো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে উইল করে যান। তার ইচ্ছা ছিল, বাড়িটি যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশি অতিথিদের জন্য শীতকালীন অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি হয়ে উঠতে পারত আরেকটি হোয়াইট হাউস, যেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথিরা সময় কাটাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এত বড় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচের বিষয়টি সরকারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে পরিকল্পনাটি এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্পত্তিটিকে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৩ সালে এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
যেভাবে ট্রাম্পের হাতে এলো মার-এ-লাগো
মার্জোরি পোস্টের মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় সম্পত্তিটি সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার-এ-লাগো কিনে নেন। সে সময় তিনি এর জন্য প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি ডলার খরচ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সম্পত্তিটি কেনার পর ট্রাম্প এর পরিধি আরও বাড়ান। মূল ভবনে যুক্ত হয় আরও ১১টি কক্ষ। ফলে কক্ষের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬। তবে এত বড় বাড়ি শুধু নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল এ বাড়িকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই ১৯৯৫ সালে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত ক্লাবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নিজের বসবাসের অংশটি আলাদা রেখেছিলেন তিনি। বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হয় সদস্যদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা।
সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু প্রবেশ মূল্য লাখ ডলার
মার-এ-লাগোকে ট্রাম্প প্রায়ই নিজের অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ক্লাবটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কথাটি শুনতে বেশ উদার মনে হলেও বাস্তবতা একটু ভিন্ন। কারণ এখানে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ।
ক্লাবটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী সহসভাপতি বার্নড লেম্বকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদস্য হতে এক লাখ ডলার ফেরত-অযোগ্য ফি দিতে হয়। এর বাইরে প্রতিবছর ১৪ হাজার ডলার সদস্যপদ ফি এবং খাবারের জন্য আরও দুই হাজার ডলার খরচ করতে হয়।
সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়াটিও বেশ কঠিন। আগ্রহীদের ক্লাবের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে তাতে প্রয়োজন হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর। ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানানো না হলেও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি ৫০০ সদস্যের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আভিজাত্যের আড়ালে সমতা নিয়ে প্রশ্ন
মার-এ-লাগোর সদস্যপদ নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর সদস্যদের পরিচয় ও বৈচিত্র্য। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদস্য হওয়ার আবেদনপত্রে কারও জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয় না।
তবে এক লাখ ডলারের সদস্য ফি এবং নিয়মিত উচ্চ চাঁদার কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সাধারণ মানুষের জন্য এ ক্লাব কতটা সহজলভ্য? ট্রাম্পের কাছে মার-এ-লাগো হয়তো সবার জন্য উন্মুক্ত একটি ক্লাব। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রবেশের সামর্থ্য সবার নেই।
প্রাসাদ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র
মার-এ-লাগোর পরিচয় এখন আর শুধু বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা অভিজাতদের ক্লাবে সীমাবদ্ধ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেও জায়গাটি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার নির্বাচনি প্রচারণার সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক বৈঠক এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও মার-এ-লাগো ছিল তার পরিচিত অবকাশযাপনের ঠিকানা।
একসময় যে বাড়ি তৈরি হয়েছিল একজন ধনকুবের নারীর ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য, সেটিই আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, ব্যবসা ও অভিজাত সমাজের এক মিলনস্থল।
সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মার-এ-লাগো তাই শুধু একটি প্রাসাদের গল্প নয়। এটি সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর রাজনৈতিক ক্ষমতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।









