‘তুই আমার গায়ে হাত দিছোস কেন’ সাংবাদিককে পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
‘তুই আমার গায়ে হাত দিছোস কেন’ সাংবাদিককে পরীমণি
আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকের ওপর চড়াও পরীমণি

জামিন নিতে আদালতে গিয়ে ‘ব্যাড টাচের’ শিকার হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। এ সময় এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন তিনি।

মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরীমণির পক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)।

সাংবাদিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় পরীমণি
সাংবাদিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় পরীমণি

এদিকে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা পরীমণিকে ঘিরে ধরে। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং এক সাংবাদিকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায়ও জড়ান।

ওই সাংবাদিক পরীমণির সামনে গিয়ে ভিডিও করতে যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে নায়িকা বলেন, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিছোস কেন?’ এ সময় পরীমণি তাকে গালি দেন।

তখন ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি আপনার গায়ে হাত দি নাই।’ তখন পরীমণি আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এই তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন?’ এরপর ওই সাংবাদিক আবারও বলেন তিনি হাত দেননি।

এসময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন পরীমণির সঙ্গে থাকা ১০ ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী।

এর আগে, গতকাল বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আসামি পরীর পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এ ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যান পরীমণি। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তার পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

পরে ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। একই সঙ্গে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তারা ২০২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

পরবর্তীতে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

এরপর ২৭ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন দায়ের করেন এ চিত্রনায়িকা। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদন খারিজ করে দিয়ে মামলা চলতে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন।

/জেএইচ/