এইচএসসিতে ফলের অবনতি, বাড়ছে উদ্বেগ

এইচএসসিতে ফলের অবনতি, বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি বছর এই হার কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেননি ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১।
ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ব্যানবেইসের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সেই হিসাবে ৮ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখায় যে ঘাটতি ছিল, সেটা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানতে অনুমাননির্ভর বিশ্লেষণের পরিবর্তে গবেষণা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি অতীতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত উদারতা দেখানো হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা জরুরি।
তিনি বলেন, এসএসসিতে ভালো ফল করেও এইচএসসিতে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শিক্ষাগত ঘাটতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যেসব কলেজে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো চর্চাগুলো চিহ্নিত করে অন্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণের আগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনাও শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য বড় ভূমিকা রাখছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো সুযোগ পেলেও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা নির্ণয়ে স্বাধীন গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
থাইল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে দুর্বল ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রেখে এক থেকে দুই বছর ধরে তাদের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও পিছিয়ে পড়া কলেজগুলোর জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্যও কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। পরীক্ষায় ব্যর্থতা যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি বছর এই হার কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেননি ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১।
ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ব্যানবেইসের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সেই হিসাবে ৮ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখায় যে ঘাটতি ছিল, সেটা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানতে অনুমাননির্ভর বিশ্লেষণের পরিবর্তে গবেষণা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি অতীতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত উদারতা দেখানো হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা জরুরি।
তিনি বলেন, এসএসসিতে ভালো ফল করেও এইচএসসিতে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শিক্ষাগত ঘাটতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যেসব কলেজে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো চর্চাগুলো চিহ্নিত করে অন্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণের আগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনাও শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য বড় ভূমিকা রাখছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো সুযোগ পেলেও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা নির্ণয়ে স্বাধীন গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
থাইল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে দুর্বল ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রেখে এক থেকে দুই বছর ধরে তাদের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও পিছিয়ে পড়া কলেজগুলোর জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্যও কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। পরীক্ষায় ব্যর্থতা যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

এইচএসসিতে ফলের অবনতি, বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছায়। চলতি বছর এই হার কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পারেননি ৫ লাখ ৭ হাজার ২৮১ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ ১১টি বোর্ডে মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১।
ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ব্যানবেইসের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সেই হিসাবে ৮ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্নসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখায় যে ঘাটতি ছিল, সেটা পরিলক্ষিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানতে অনুমাননির্ভর বিশ্লেষণের পরিবর্তে গবেষণা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি অতীতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অতিরিক্ত উদারতা দেখানো হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা জরুরি।
তিনি বলেন, এসএসসিতে ভালো ফল করেও এইচএসসিতে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী শিক্ষাগত ঘাটতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যেসব কলেজে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো চর্চাগুলো চিহ্নিত করে অন্য কলেজে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণের আগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনাও শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব সমস্যার সম্মিলিত প্রভাব এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য বড় ভূমিকা রাখছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো সুযোগ পেলেও গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা নির্ণয়ে স্বাধীন গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
থাইল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে দুর্বল ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রেখে এক থেকে দুই বছর ধরে তাদের ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশেও পিছিয়ে পড়া কলেজগুলোর জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্যও কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। পরীক্ষায় ব্যর্থতা যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি







