সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা কেন লাগাতার আন্দোলনে

সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেকৃবির 
শিক্ষার্থীরা কেন লাগাতার আন্দোলনে
রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলক কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে আগারগাঁও-মিরপুর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের দাবি, ১৯৮৮ সালে বাণিজ্য মেলার জন্য নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিনেও ফেরত দেওয়া হয়নি। এবার সেখানে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। ওই মাঠ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেকৃবির সম্পত্তি। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিব সরকারের সময় বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য ওই জমি নেওয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাণিজ্য মেলা স্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হলেও ওই জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও জমি ফেরত পাওয়ার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর
রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

আন্দোলনকারীরা জানান, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল ছিল। মাঠটি গবেষণার কাজেও ব্যবহার করা হতো। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ফেরত না দিয়ে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, জমি ফেরত ও সংকট নিরসনের দাবিতে এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করেছেন তারা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এরপরও তাদের দাবি বিবেচনায় না নিয়ে সচিবালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সবুজে ঘেরা আগারগাঁও এলাকায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যানযটের ফলে আশপাশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁরা কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে সচিবালয় স্থানান্তরের এখতিয়ার গণপূর্ত অধিদপ্তরের নেই। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ পদ্ধতিতে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে বুধবার সকালে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যুব মেলা ও বাণিজ্য মেলার জন্য নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিবৃত্ত করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

/বিবি/