প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ, বিমানবন্দরের কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত শুল্ক, কর ও আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদল এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ সাত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবগুলো হলো-
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ: কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা এবং সঠিক সময়ে পণ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জোর দাবি জানান বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ।
কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা বন্ড কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন অডিটের জটিলতা দূর করতে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার অডিট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বার্ষিক কাস্টমস অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালার প্রস্তাব করা হয়।
বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতার স্বল্পতায় লিড টাইম বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘অস্থায়ী কার্গো শেড’ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ: দেশের বৃহত্তম পোশাক শিল্প হাব গাজীপুরে লাখ লাখ শ্রমিকের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিজিএমইএ কর্তৃক একটি আধুনিক ‘শ্রমিক বিশেষায়িত হাসপাতাল’ নির্মাণের লক্ষ্যে উপযুক্ত খাস জমি বরাদ্দের আহবান জানানো হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণ: কারখানার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড পরিপালন সহজ করার প্রস্তাব করা হয়।
বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজীকরণ: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ এর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র/ডেস্ক স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়।
‘বাটেক্সপো ২০২৬’ আয়োজন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি: আগামী নভেম্বর ২০২৬ এ আয়োজিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুযায়ী পোশাক খাতে শতভাগ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের (সার্কুলারিটি) অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সংগঠনের চলমান বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ইইউ এর পরিবেশবান্ধব নীতি পরিপালন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশীয় পোশাক শিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজিএমইএ কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ, বিমানবন্দরের কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত শুল্ক, কর ও আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদল এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ সাত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবগুলো হলো-
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ: কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা এবং সঠিক সময়ে পণ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জোর দাবি জানান বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ।
কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা বন্ড কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন অডিটের জটিলতা দূর করতে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার অডিট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বার্ষিক কাস্টমস অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালার প্রস্তাব করা হয়।
বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতার স্বল্পতায় লিড টাইম বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘অস্থায়ী কার্গো শেড’ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ: দেশের বৃহত্তম পোশাক শিল্প হাব গাজীপুরে লাখ লাখ শ্রমিকের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিজিএমইএ কর্তৃক একটি আধুনিক ‘শ্রমিক বিশেষায়িত হাসপাতাল’ নির্মাণের লক্ষ্যে উপযুক্ত খাস জমি বরাদ্দের আহবান জানানো হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণ: কারখানার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড পরিপালন সহজ করার প্রস্তাব করা হয়।
বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজীকরণ: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ এর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র/ডেস্ক স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়।
‘বাটেক্সপো ২০২৬’ আয়োজন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি: আগামী নভেম্বর ২০২৬ এ আয়োজিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুযায়ী পোশাক খাতে শতভাগ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের (সার্কুলারিটি) অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সংগঠনের চলমান বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ইইউ এর পরিবেশবান্ধব নীতি পরিপালন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশীয় পোশাক শিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজিএমইএ কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ, বিমানবন্দরের কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত শুল্ক, কর ও আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদল এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ সাত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবগুলো হলো-
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ: কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখা এবং সঠিক সময়ে পণ্য শিপমেন্ট নিশ্চিত করতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরা হয়। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জোর দাবি জানান বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ।
কাস্টমস বন্ড অডিট সহজীকরণ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা বন্ড কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন অডিটের জটিলতা দূর করতে শীর্ষস্থানীয় পেশাদার অডিট ফার্মগুলোর মাধ্যমে বার্ষিক কাস্টমস অডিট সম্পন্ন করার স্থায়ী নীতিমালার প্রস্তাব করা হয়।
বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ধারণক্ষমতার স্বল্পতায় লিড টাইম বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘অস্থায়ী কার্গো শেড’ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ: দেশের বৃহত্তম পোশাক শিল্প হাব গাজীপুরে লাখ লাখ শ্রমিকের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিজিএমইএ কর্তৃক একটি আধুনিক ‘শ্রমিক বিশেষায়িত হাসপাতাল’ নির্মাণের লক্ষ্যে উপযুক্ত খাস জমি বরাদ্দের আহবান জানানো হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণ: কারখানার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড পরিপালন সহজ করার প্রস্তাব করা হয়।
বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজীকরণ: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ এর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র/ডেস্ক স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়।
‘বাটেক্সপো ২০২৬’ আয়োজন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি: আগামী নভেম্বর ২০২৬ এ আয়োজিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুযায়ী পোশাক খাতে শতভাগ বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের (সার্কুলারিটি) অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সংগঠনের চলমান বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ইইউ এর পরিবেশবান্ধব নীতি পরিপালন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশীয় পোশাক শিল্পের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজিএমইএ কাজ করে যাচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ এবং বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বস্ত্রশিল্পের সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর




