রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে যা জানা গেলো

রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে যা জানা গেলো
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতি করেন। প্রথমে তারা তাদের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীদের জড়ো ও এক্সকাভেটর সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকে দলবল নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। তারা ওই কেন্দ্রের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই সময় এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফেরদৌসী আহমেদ অবশ্য এই হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তিন দিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যারা নেপথ্যে ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
অবশ্য এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল রোববার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হামলার আগে লোক সমবেত করা ও অস্ত্র সংগ্রহ
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা লেলিন, বিএনপি নেতা হানিফ ও যুবদল নেতা পাপেলের বক্তব্য জানার জন্য তাঁদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলো সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তমুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল কালাম ও হানিফের কার্যালয়ের সামনে থেকে এসে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে লাঠিসোঁটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় মুখোশ পরে। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর ও লুটপাটের নেতৃত্ব দেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস।
সমিতি ও স্থানীয় নেতাদের যোগসূত্র
হানিফ মিয়া, আবুল কালাম ও মোস্তফা জগলুল পাশা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের মধ্যে আবুল কালামকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার দেখা গেছে। আর হানিফ সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের আত্মীয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে অনেক দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সমিতিতে যুক্ত গাজী শাহ আলম, আবদুর রহিম হাজরাসহ অনেকে একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হন।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হানিফের নির্দেশেই সমিতিটি চলছিল। শাহ আলী থানা এলাকার অন্য সমিতিও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমিতির ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বৈশাখী সুপার মার্কেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। গতকাল বিকেলে মার্কেটের চতুর্থ তলায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত না। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারকে প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’
গ্রেপ্তার ১০, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের কলওয়ালা পাড়ায় থাকতেন। অন্য তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে শাহ আলম সমমনা সমিতির সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ প্রকারের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং নেতৃত্বে কে বা কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।
ধ্বংসস্তূপের সামনে সেবা
গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেভাবে ভাঙচুর হয়েছে, এটা অপ্রত্যাশিত। যারাই এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা চাচ্ছি দ্রুত সংস্কার কাজটা করতে, যাতে আপনারা ভেতরে বসে চলমান কাজগুলো করতে পারেন।’
সকালে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে হামলাকারীদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। আজ সোমবার সকালে এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নিজস্ব সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এখন বিভিন্ন অংশে চলছে সংস্কারকাজ।

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতি করেন। প্রথমে তারা তাদের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীদের জড়ো ও এক্সকাভেটর সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকে দলবল নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। তারা ওই কেন্দ্রের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই সময় এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফেরদৌসী আহমেদ অবশ্য এই হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তিন দিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যারা নেপথ্যে ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
অবশ্য এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল রোববার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হামলার আগে লোক সমবেত করা ও অস্ত্র সংগ্রহ
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা লেলিন, বিএনপি নেতা হানিফ ও যুবদল নেতা পাপেলের বক্তব্য জানার জন্য তাঁদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলো সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তমুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল কালাম ও হানিফের কার্যালয়ের সামনে থেকে এসে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে লাঠিসোঁটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় মুখোশ পরে। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর ও লুটপাটের নেতৃত্ব দেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস।
সমিতি ও স্থানীয় নেতাদের যোগসূত্র
হানিফ মিয়া, আবুল কালাম ও মোস্তফা জগলুল পাশা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের মধ্যে আবুল কালামকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার দেখা গেছে। আর হানিফ সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের আত্মীয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে অনেক দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সমিতিতে যুক্ত গাজী শাহ আলম, আবদুর রহিম হাজরাসহ অনেকে একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হন।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হানিফের নির্দেশেই সমিতিটি চলছিল। শাহ আলী থানা এলাকার অন্য সমিতিও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমিতির ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বৈশাখী সুপার মার্কেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। গতকাল বিকেলে মার্কেটের চতুর্থ তলায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত না। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারকে প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’
গ্রেপ্তার ১০, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের কলওয়ালা পাড়ায় থাকতেন। অন্য তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে শাহ আলম সমমনা সমিতির সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ প্রকারের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং নেতৃত্বে কে বা কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।
ধ্বংসস্তূপের সামনে সেবা
গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেভাবে ভাঙচুর হয়েছে, এটা অপ্রত্যাশিত। যারাই এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা চাচ্ছি দ্রুত সংস্কার কাজটা করতে, যাতে আপনারা ভেতরে বসে চলমান কাজগুলো করতে পারেন।’
সকালে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে হামলাকারীদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। আজ সোমবার সকালে এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নিজস্ব সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এখন বিভিন্ন অংশে চলছে সংস্কারকাজ।

রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে যা জানা গেলো
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতি করেন। প্রথমে তারা তাদের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীদের জড়ো ও এক্সকাভেটর সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকে দলবল নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। তারা ওই কেন্দ্রের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই সময় এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফেরদৌসী আহমেদ অবশ্য এই হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তিন দিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যারা নেপথ্যে ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
অবশ্য এই ঘটনায় নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় গতকাল রোববার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হামলার আগে লোক সমবেত করা ও অস্ত্র সংগ্রহ
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা লেলিন, বিএনপি নেতা হানিফ ও যুবদল নেতা পাপেলের বক্তব্য জানার জন্য তাঁদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলো সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে তমুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল কালাম ও হানিফের কার্যালয়ের সামনে থেকে এসে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে লাঠিসোঁটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় মুখোশ পরে। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর ও লুটপাটের নেতৃত্ব দেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস।
সমিতি ও স্থানীয় নেতাদের যোগসূত্র
হানিফ মিয়া, আবুল কালাম ও মোস্তফা জগলুল পাশা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের মধ্যে আবুল কালামকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার দেখা গেছে। আর হানিফ সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের আত্মীয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে অনেক দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছিল। সমিতিতে যুক্ত গাজী শাহ আলম, আবদুর রহিম হাজরাসহ অনেকে একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হন।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে হানিফের নির্দেশেই সমিতিটি চলছিল। শাহ আলী থানা এলাকার অন্য সমিতিও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমিতির ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বৈশাখী সুপার মার্কেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। গতকাল বিকেলে মার্কেটের চতুর্থ তলায় সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত না। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারকে প্রতিবেদন দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’
গ্রেপ্তার ১০, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের কলওয়ালা পাড়ায় থাকতেন। অন্য তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে শাহ আলম সমমনা সমিতির সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ প্রকারের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং নেতৃত্বে কে বা কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।
ধ্বংসস্তূপের সামনে সেবা
গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেভাবে ভাঙচুর হয়েছে, এটা অপ্রত্যাশিত। যারাই এই ঘটনায় জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা চাচ্ছি দ্রুত সংস্কার কাজটা করতে, যাতে আপনারা ভেতরে বসে চলমান কাজগুলো করতে পারেন।’
সকালে সেখানে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে হামলাকারীদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। আজ সোমবার সকালে এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নিজস্ব সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এখন বিভিন্ন অংশে চলছে সংস্কারকাজ।









