তাহসিফ হত্যা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, দাবি পুলিশের

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
তাহসিফ হত্যা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, দাবি পুলিশের
তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় দুই দফায় রিমান্ড শেষে আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় দুই দফায় রিমান্ড শেষে আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিশাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। এ সময় তিনি দিশাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দিশার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন কৌশলে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানান, ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে সন্ধ্যায়ও তারা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের মোটরসাইকেলে ঘোরার কথাও জানিয়েছেন দিশা।

আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত কৌশলী হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকা মামলার আরেক আসামি ও তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিশাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আত্মগোপনে গিয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।

এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। এরপর বুধবার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এ মামলায় আরেক আসামি দীপকেও কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। নিজের মোটরসাইকেল নিয়েই বেরিয়েছিলেন তিনি।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাতে একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।

লাশ উদ্ধারের তিন দিন পরও মামলা না হওয়ায় দীপকে নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করলে ওই মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মাদক কেনাবেচার স্থান হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন দীপ। পরে গত শুক্রবার তাকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা।

/এমআর/