শিরোনাম

দুবাইয়ে জামিন পেয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় বেনজীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুবাইয়ে জামিন পেয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় বেনজীর
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ

দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ইউরোপের একটি দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুবাই কারাগার থেকে মুক্তি পান বেনজীর আহমেদ। এর আগে গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

এদিকে, আমিরাতের আদালতের শর্ত অনুযায়ী জানা যায়, বেনজীরের দুবাই ত্যাগের কোনো আইনি অনুমতি নেই এবং তার পাসপোর্টও বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য আইনি বিষয় নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর আদালত বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার রায় দেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২ আগস্ট) বিকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানা তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পলাতক আসামির (বেনজীর) জামিন বাতিল করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনগত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। আমরা দুবাইয়ে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি। সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুত জামিন বাতিল করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলায় চলতি বছরের জুনে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল দুবাই পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই সময় তিনি দেশ ছাড়েন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।

এর আগে, ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

/এফআর/