সাতক্ষীরায় কৃষক দল নেতার সরকারি জমি বিক্রির মহোৎসব

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরায় কৃষক দল নেতার সরকারি জমি বিক্রির মহোৎসব
সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে আবাসিক স্থাপনা। (ইনসেটে) অভিযুক্ত জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি খাস জমি বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রায় ২৬ একর সরকারি জমি দখলে নিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় মৌখিকভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনে পর উপজেলার খালিসাবনিয়া মৌজার ৪৪৫ খতিয়ানের ১০০৪নং থেকে ১৭৮৬ দাগের ২৬ দশমিক ৪৪ একর সরকারি এনিমি জমি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নেন কৃষক দল নেতা লিটন। সম্প্রতি গাবুরার পার্শ্বেমারি গ্রামের টুকু মোড়ল, মো. বায়জিদ মালি, আবুল হোসেন, লক্ষীখালি গ্রামের শফি ঢালি, আমজেদ শেখ, ১০নং সোরা গ্রামের গফুর গাজী ও মাকছু মোড়লের কাছে বিঘা প্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা দরে মৌখিকভাবে বিক্রি করেন তিনি। ক্রয়ের পর ক্রেতারা এসব জমিতে বাড়িঘরও নির্মাণ করেছেন।

গাবুরার গাগড়ামারি গ্রামের সাত্তার খাঁ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি এনিমিভুক্ত ২৬ একর জমি দখল করে নেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটন। দখল নেওয়ার পর থেকে লিটনের সন্ত্রাসী বাহিনী এই জায়গাটা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিঘা প্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। নাম জানাতে অনিচ্ছুক আমার এক আত্মীয় তার কাছ থেকে ওই জায়গা কিনেছে।

গাবুরার লক্ষীখালি গ্রামের ইয়াছিন সরদার বলেন, সরকারি খাস জায়গা দখল করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করছেন কৃষক দল নেতা লিটন। ওখানে আমার ইজারা নেওয়া ৩ বিঘা জমি ছিল। সেই জমি গফুরের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা সালাউদ্দিন লিটন। তিনি বলেন, ‘৪৪৫ খতিয়ানে মালিকানা জমি আছে ৮০ বিঘার মতো। আর খাস জমি আছে ৪০ কি ৩০ বিঘার মতো। খাস জমি বিক্রি করলে লিখে দেবো কি করে। খাস জমি বিক্রির বিষয়ে আমার জানা নেই।

লিটন আরও বলেন, আমি জানি, মালিকানা জমি বিক্রি হচ্ছে। ওখানে যারা ঘরবাড়ি করছে, তারা সব মালিকানা জায়গায় করছে।

এদিকে, দখল করা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা কোন কিছু বলতে পারবো না। টাকা দিয়ে কিনেছি, এতটুকুই বলতে পারি।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জিএম মাসুদুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক চেয়ারম্যান লেলিন জায়গাটা দখল করে রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে সাতক্ষীরা জেলার কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটন জায়গাটা দখলে নিয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা দরে স্থানীয় লোকজনের কাছে বিক্রির করছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সরেজমিনে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসব বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না। যদি সরকারি জমি হয়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফআর/