পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার অর্থ দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী সংবাদদাতা
রাজশাহী সংবাদদাতা
পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার অর্থ দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
রাজশাহীতে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পেছনে কারা রয়েছে সে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে- যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা দেশের মধ্যে ভ্রান্তি ছড়ায়। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাবো, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

তিনি বলেন, গতকাল ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা গতকাল ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। ২৪-এ যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। অনুষ্ঠানে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় আমরা শান্তিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একইসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ চায় কর্মসংস্থানসহ শান্তিতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে। অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একইসঙ্গে চায়।

তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও তাহলে দেশের জনগণকে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যাতে সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী তিস্তা ও পদ্মায় ব্যারাজ তৈরি করব। যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা দূর করতে পারি।

তারেক রহমান বলেন, এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব ততদূর যেতে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।

/জেএইচ/