শিরোনাম

তরুণের সঙ্গে গাছে বেঁধে নির্যাতন, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
তরুণের সঙ্গে গাছে বেঁধে নির্যাতন, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা
তরুণের সঙ্গে গাছে বেঁধে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলায় একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ওই ছাত্রী মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ে এবং বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গত ২৭ জুলাই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে এক তরুণের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। এ ঘটনার পরদিন ২৮ জুলাই ছাত্রীকে স্কুলের বাইরে থেকে এবং ওই তরুণকে তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে প্রথমে দুজনকে গামছা দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের সামনে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এসব ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নয়ন বাড়ৈ।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তবে তিনি বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সভাপতি ফিরে এলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, এসব ঘটনায় এখনো কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

/এফআর/