কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন ৭৩৯ জনের চাকরি নেই

গাজীপুর সংবাদদাতা
গাজীপুর সংবাদদাতা
কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন ৭৩৯ জনের চাকরি নেই
ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখছেন শ্রমিকরা

গাজীপুর নগরের জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি পোশাক কারখানার ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার কাজ যোগ দিতে এসে এমন নোটিশ পেয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় এসব কারখানা থেকে ৬ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। দুই দফা মিলিয়ে কেয়া গ্রুপে ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেল।

ছাঁটাই করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে চাকরিহারা কর্মীরা কারখানার ফটকে এসে ভিড় জমান। তাদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিদায়ের নোটিশ দেখে অনেকে কারখানার ফটকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ২০ অক্টোবর থেকে ছাঁটাই করা হবে। তাদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে।

ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ না থাকায় গত ৬ জুন থেকেই কেয়া গ্রুপের এই কারখানাগুলো দফায় দফায় 'লে-অফ' (সাময়িক কর্মবিরতি) ঘোষণা করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা ৫ বার লে-অফের মেয়াদ বাড়ানোর পর অবশেষে এই গণছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হঠাৎ এই ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেখে কারখানার দীর্ঘদিনের পুরোনো শ্রমিকদের অনেকেই ফটকের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের মধ্যে ১৮-১৯ বছর ধরে কাজ করছেন এমন অনেকে রয়েছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল আছে, তারা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।

প্রায় ১৯ বছর ধরে কারখানাটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে আসা আবেদা বেগম কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এত বছর চাকরি করে শেষপর্যন্ত খালি হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে।’

কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এ কারখানায় কাজ করছেন। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন ভেবে দিশেহারা।’

এদিকে পাঁচ দফায় লে-অফের পর এক নোটিশেই ৭৩৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তারা এটাকে অন্যায্য উল্লেখ করে অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনানুগ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানান।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করার আশ্বাস দেন।

/জেএইচ/