যুবদল ছেড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগ দেওয়ায় হত্যাচেষ্টা, কেটে ফেলা হলো পা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
যুবদল ছেড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগ দেওয়ায় হত্যাচেষ্টা, কেটে ফেলা হলো পা
আহত আবু ইউসুফ ওরফে জীবন

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীতে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পায়ে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত জীবনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি দল জীবনকে প্রথমে মারধর করে, পরে ছুরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে তার পা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

জীবনের পরিবারের দাবি, প্রায় ২ বছর মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেছেন জীবন। সম্প্রতি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকেই জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিলো।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, গুলির ঘটনা অস্বীকার করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, জীবনকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, গুলি করার ঘটনা ঘটেনি। পূর্ববিরোধের জেরে মেহেদী নামে এক যুবকের সঙ্গে এ হামলা হয়েছে। ঘটনার আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে , জুয়েলের ভাগনে মেহেদী ও তার কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জীবনের বিরোধ চলছিলো। হামলার আগের দিন জীবনের ছোট ভাই ইমনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় । এ নিয়ে মেহেদীর সঙ্গে জীবনের কথা-কাটাকাটিও হয়েছিলো।

জীবনের মা মোছাম্মৎ শামসুন্নাহার নাহার বলেন, ইমনকে মারধরের পর জুয়েল তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইমন বাসায় ফিরতে পারবে, কিন্তু জীবনকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। কুঞ্জছায়া ছেড়ে না গেলে জীবনকে হত্যা করা হবে। এসব হুমকির পরই তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

জীবনের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, কাউকে আমার সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য চাপ দেওয়া হয় নি। হামলাকারী ও আহত জীবন সবাই আমার ভাগনে এবং পাশের এলাকার বাসিন্দা। নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই।

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। কোনো পক্ষ হয়তো জীবনের মাকে দিয়ে এসব কথা বলিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়।

/এসবি/