শিরোনাম

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু
বাংলা কিউআর সেবার উদ্বোধন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ‘বাংলা কিউআর’ সেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীরা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে নগদবিহীন আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ এই সেবার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ.এন.এম. মইনুল কবির, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২-এর পরিচালক মো. শরাফাত উল্লাহ খান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গভর্নর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বাংলা কিউআর, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

এই উদ্যোগের আওতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের টিউশন ও অন্যান্য একাডেমিক ফি, ক্যাফেটেরিয়া ও খুচরা দোকানের বিলসহ দৈনন্দিন সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বাংলা কিউআর এবং অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাতীয় ক্যাশলেস পেমেন্ট কৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চালু হওয়া বাংলা কিউআর দেশের একটি সমন্বিত কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর গ্রাহক একটি মাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে পারে, এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। দেশের প্রথম ক্যাশলেস ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার যাত্রায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়োজকরা জানান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

তাদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ডিজিটাল ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সেবায় ব্র্যাক ব্যাংকের নেতৃত্বকেই আরও সুদৃঢ় করেনি, বরং একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

/এসবি/