ঢাকাকে সবুজ ও বসবাসযোগ্য করতে দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী

ঢাকাকে সবুজ ও বসবাসযোগ্য করতে দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে আরও সবুজ এবং বসবাসযোগ্য করতে কোথায় কী ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন, কীভাবে সবুজায়ন বাড়ানো যায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়– এসব বিষয় নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হয়তো আজ ছোট পরিসরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর পরিধি, গুরুত্ব ও গভীরতা অনেক বেশি। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ঢাকা শহরকে আরও বসবাসযোগ্য করতে পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার শেকড় এবং গ্রীনওয়াচ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে উন্নতমানের গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, শিশু গাছ বা নিম্নমানের গাছ বড় হওয়ার পর মূলত জ্বালানি কাঠ কিংবা সীমিত পরিসরে কমমূল্যের আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভালো ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ লাগানো হলে সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি থাকে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আজকের আলোচনায় গাছ ও বৃক্ষরোপণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরের সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হ্যান্ডবিল, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো যেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। এমন ধরনের বৃক্ষ ও কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ে সাধারণত কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এর পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য চাষের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। এসব পণ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে না, রপ্তানির মাধ্যমেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।
মন্ত্রী বলেন, নরসিংদী থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লটকন উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। পাহাড়েও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পাহাড়ে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো উচ্চমূল্যের প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। এগুলো খামারভিত্তিক কিংবা উন্মুক্ত– দুইভাবেই করা সম্ভব। পাশাপাশি মশলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মশলা আমদানি করতে হয়। পাহাড়ে মশলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং তাদের জীবনযাত্রারও উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি জানান, পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাহাড়ে কোন ধরনের বৃক্ষ, কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, সারা বিশ্বে বিভিন্ন খাতের মধ্যে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের লেখনী, গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও উপস্থাপনা কোনো একটি উদ্যোগকে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। পাহাড়ের সম্ভাবনা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাহাড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনের সঙ্গে বৃক্ষ ও ফুলের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন ফুলের প্রয়োজন হয়। তাই সারা বছর ফুল দেয়– এমন গাছ ও ফুলের চাষের বিষয়েও পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বৃক্ষের গুরুত্ব অনেক। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষ মানুষের জন্য শুধু দিয়ে যায়, কিন্তু প্রতিদানে কিছু নেয় না। প্রত্যেক ধর্মেই প্রকৃতি ও বৃক্ষ সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়ে আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়াঁ, কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ প্রমুখ।

পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে আরও সবুজ এবং বসবাসযোগ্য করতে কোথায় কী ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন, কীভাবে সবুজায়ন বাড়ানো যায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়– এসব বিষয় নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হয়তো আজ ছোট পরিসরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর পরিধি, গুরুত্ব ও গভীরতা অনেক বেশি। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ঢাকা শহরকে আরও বসবাসযোগ্য করতে পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার শেকড় এবং গ্রীনওয়াচ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে উন্নতমানের গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, শিশু গাছ বা নিম্নমানের গাছ বড় হওয়ার পর মূলত জ্বালানি কাঠ কিংবা সীমিত পরিসরে কমমূল্যের আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভালো ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ লাগানো হলে সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি থাকে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আজকের আলোচনায় গাছ ও বৃক্ষরোপণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরের সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হ্যান্ডবিল, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো যেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। এমন ধরনের বৃক্ষ ও কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ে সাধারণত কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এর পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য চাষের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। এসব পণ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে না, রপ্তানির মাধ্যমেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।
মন্ত্রী বলেন, নরসিংদী থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লটকন উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। পাহাড়েও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পাহাড়ে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো উচ্চমূল্যের প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। এগুলো খামারভিত্তিক কিংবা উন্মুক্ত– দুইভাবেই করা সম্ভব। পাশাপাশি মশলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মশলা আমদানি করতে হয়। পাহাড়ে মশলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং তাদের জীবনযাত্রারও উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি জানান, পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাহাড়ে কোন ধরনের বৃক্ষ, কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, সারা বিশ্বে বিভিন্ন খাতের মধ্যে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের লেখনী, গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও উপস্থাপনা কোনো একটি উদ্যোগকে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। পাহাড়ের সম্ভাবনা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাহাড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনের সঙ্গে বৃক্ষ ও ফুলের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন ফুলের প্রয়োজন হয়। তাই সারা বছর ফুল দেয়– এমন গাছ ও ফুলের চাষের বিষয়েও পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বৃক্ষের গুরুত্ব অনেক। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষ মানুষের জন্য শুধু দিয়ে যায়, কিন্তু প্রতিদানে কিছু নেয় না। প্রত্যেক ধর্মেই প্রকৃতি ও বৃক্ষ সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়ে আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়াঁ, কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ প্রমুখ।

ঢাকাকে সবুজ ও বসবাসযোগ্য করতে দরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে আরও সবুজ এবং বসবাসযোগ্য করতে কোথায় কী ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন, কীভাবে সবুজায়ন বাড়ানো যায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়– এসব বিষয় নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হয়তো আজ ছোট পরিসরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর পরিধি, গুরুত্ব ও গভীরতা অনেক বেশি। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ঢাকা শহরকে আরও বসবাসযোগ্য করতে পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঢাকার সবুজায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার শেকড় এবং গ্রীনওয়াচ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে উন্নতমানের গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, শিশু গাছ বা নিম্নমানের গাছ বড় হওয়ার পর মূলত জ্বালানি কাঠ কিংবা সীমিত পরিসরে কমমূল্যের আসবাব তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভালো ও মূল্যবান প্রজাতির গাছ লাগানো হলে সেগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি থাকে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আজকের আলোচনায় গাছ ও বৃক্ষরোপণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ছাদবাগান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নগরের সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হ্যান্ডবিল, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো যেতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। এমন ধরনের বৃক্ষ ও কৃষিপণ্য নির্বাচন করতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং পাহাড়ের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ে সাধারণত কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এর পাশাপাশি কাজুবাদাম, কফি ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য চাষের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। এসব পণ্য শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে না, রপ্তানির মাধ্যমেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে।
মন্ত্রী বলেন, নরসিংদী থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লটকন উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। পাহাড়েও এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা গেলে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
পাহাড়ে প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতো উচ্চমূল্যের প্রাণিসম্পদ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। এগুলো খামারভিত্তিক কিংবা উন্মুক্ত– দুইভাবেই করা সম্ভব। পাশাপাশি মশলাজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মশলা আমদানি করতে হয়। পাহাড়ে মশলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং তাদের জীবনযাত্রারও উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি জানান, পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাহাড়ে কোন ধরনের বৃক্ষ, কৃষিপণ্য ও প্রাণিসম্পদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও সম্পৃক্ত করা হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, সারা বিশ্বে বিভিন্ন খাতের মধ্যে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের লেখনী, গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও উপস্থাপনা কোনো একটি উদ্যোগকে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। পাহাড়ের সম্ভাবনা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাহাড়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রয়োজনের সঙ্গে বৃক্ষ ও ফুলের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন ফুলের প্রয়োজন হয়। তাই সারা বছর ফুল দেয়– এমন গাছ ও ফুলের চাষের বিষয়েও পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বৃক্ষের গুরুত্ব অনেক। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষ মানুষের জন্য শুধু দিয়ে যায়, কিন্তু প্রতিদানে কিছু নেয় না। প্রত্যেক ধর্মেই প্রকৃতি ও বৃক্ষ সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়ে আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা শেকড়ের ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরাকির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রীনওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়াঁ, কৃষিবিদ ড. মেহেদি মাসুদ প্রমুখ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ কমিটি







