জোর করে সংস্কার করিয়ে বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেন ছাত্রদল নেতা

জোর করে সংস্কার করিয়ে বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেন ছাত্রদল নেতা
সিজেডএন ডেস্ক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়ত থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার বিরুদ্ধে নিজ এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, বাড়ি দখলের চেষ্টা এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ে সড়ক সংস্কারকাজের সুযোগ নিয়ে বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করাতে বাধ্য করেছেন নয়নের অনুসারীরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন তারা। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান ও এমব্রয়ডারি কারখানা থেকেও চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়নকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ডিবি। এর পর আজ শুক্রবার আদাবর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ভাষ্য, নয়ন ও তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। সড়ক খুঁড়ে পানির লাইন স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করিয়েছেন নয়নের অনুসারীরা। পরে কাজের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ওই সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বাড়ির মালিক এ পরিমাণ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক সাজু হোসেন বলেন, বাড়ির মালিক পরিচিত মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চার-পাঁচজন এসে তাদের দিয়েই কাজ করানোর জন্য চাপ দেন। তারা নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক বলে পরিচয় দেন। কাজ শেষে ৫৫ হাজার টাকা বিল করা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
একই সড়কের আরেকটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তাদের বাড়ির একটি লাইনের কাজের জন্য তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এত টাকা দিতে রাজি না হলেও পরে বাধ্য হয়ে দিতে হয়। অন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করালে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যেত বলে জানান তিনি।
বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন ও সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কিছু নেতা-কর্মী এলাকার নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান এবং ছোট-বড় এমব্রয়ডারি কারখানা থেকে চাঁদা আদায় করেন। তাদের দাবি, টাকা না দিলে এলাকায় নির্মাণকাজ ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদাবর থানা ছাত্রদলের এই দুই নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুম বাবুলের আলিফ হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুম বাবুল আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়িটি দখল করতে না পারলেও হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ি দখলের চেষ্টা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মাসুম বাবুলের অনুসারীদের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে তাদের বাড়ির ফটক দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর বাইরে থেকে বাড়িটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ফুটেজে আদাবর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবির হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন এবং ১০০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাদেক হোসেনকে দেখা যায়।
তবে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। চাঁদাবাজি বা দখলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করতে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আদাবর থানা ছাত্রদল কমিটি বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার অধীন ছিল। গত মাসে রাতে মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ বলেন, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, আদাবরে চাঁদাবাজির ঘটনায় নয়নকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কারওয়ান বাজারের একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলায় বলা হয়েছে, কারওয়ান বাজারে চাঁদা তোলার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদাবরে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে সে ঘটনায় মামলা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, নয়নকে ঘিরে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়ত থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার বিরুদ্ধে নিজ এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, বাড়ি দখলের চেষ্টা এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ে সড়ক সংস্কারকাজের সুযোগ নিয়ে বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করাতে বাধ্য করেছেন নয়নের অনুসারীরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন তারা। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান ও এমব্রয়ডারি কারখানা থেকেও চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়নকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ডিবি। এর পর আজ শুক্রবার আদাবর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ভাষ্য, নয়ন ও তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। সড়ক খুঁড়ে পানির লাইন স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করিয়েছেন নয়নের অনুসারীরা। পরে কাজের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ওই সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বাড়ির মালিক এ পরিমাণ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক সাজু হোসেন বলেন, বাড়ির মালিক পরিচিত মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চার-পাঁচজন এসে তাদের দিয়েই কাজ করানোর জন্য চাপ দেন। তারা নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক বলে পরিচয় দেন। কাজ শেষে ৫৫ হাজার টাকা বিল করা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
একই সড়কের আরেকটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তাদের বাড়ির একটি লাইনের কাজের জন্য তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এত টাকা দিতে রাজি না হলেও পরে বাধ্য হয়ে দিতে হয়। অন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করালে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যেত বলে জানান তিনি।
বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন ও সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কিছু নেতা-কর্মী এলাকার নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান এবং ছোট-বড় এমব্রয়ডারি কারখানা থেকে চাঁদা আদায় করেন। তাদের দাবি, টাকা না দিলে এলাকায় নির্মাণকাজ ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদাবর থানা ছাত্রদলের এই দুই নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুম বাবুলের আলিফ হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুম বাবুল আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়িটি দখল করতে না পারলেও হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ি দখলের চেষ্টা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মাসুম বাবুলের অনুসারীদের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে তাদের বাড়ির ফটক দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর বাইরে থেকে বাড়িটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ফুটেজে আদাবর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবির হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন এবং ১০০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাদেক হোসেনকে দেখা যায়।
তবে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। চাঁদাবাজি বা দখলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করতে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আদাবর থানা ছাত্রদল কমিটি বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার অধীন ছিল। গত মাসে রাতে মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ বলেন, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, আদাবরে চাঁদাবাজির ঘটনায় নয়নকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কারওয়ান বাজারের একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলায় বলা হয়েছে, কারওয়ান বাজারে চাঁদা তোলার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদাবরে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে সে ঘটনায় মামলা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, নয়নকে ঘিরে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জোর করে সংস্কার করিয়ে বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেন ছাত্রদল নেতা
সিজেডএন ডেস্ক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়ত থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার বিরুদ্ধে নিজ এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, বাড়ি দখলের চেষ্টা এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ে সড়ক সংস্কারকাজের সুযোগ নিয়ে বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করাতে বাধ্য করেছেন নয়নের অনুসারীরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন তারা। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান ও এমব্রয়ডারি কারখানা থেকেও চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়নকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ডিবি। এর পর আজ শুক্রবার আদাবর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের ভাষ্য, নয়ন ও তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন।
আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। সড়ক খুঁড়ে পানির লাইন স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির দুই পাশে রয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ নিজেদের লোক দিয়ে করিয়েছেন নয়নের অনুসারীরা। পরে কাজের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ওই সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির পানির ও পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বাড়ির মালিক এ পরিমাণ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক সাজু হোসেন বলেন, বাড়ির মালিক পরিচিত মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চার-পাঁচজন এসে তাদের দিয়েই কাজ করানোর জন্য চাপ দেন। তারা নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক বলে পরিচয় দেন। কাজ শেষে ৫৫ হাজার টাকা বিল করা হয়। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
একই সড়কের আরেকটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তাদের বাড়ির একটি লাইনের কাজের জন্য তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এত টাকা দিতে রাজি না হলেও পরে বাধ্য হয়ে দিতে হয়। অন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজটি করালে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই হয়ে যেত বলে জানান তিনি।
বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন ও সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কিছু নেতা-কর্মী এলাকার নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের দোকান এবং ছোট-বড় এমব্রয়ডারি কারখানা থেকে চাঁদা আদায় করেন। তাদের দাবি, টাকা না দিলে এলাকায় নির্মাণকাজ ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদাবর থানা ছাত্রদলের এই দুই নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুম বাবুলের আলিফ হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুম বাবুল আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়িটি দখল করতে না পারলেও হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ি দখলের চেষ্টা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে মাসুম বাবুলের অনুসারীদের সঙ্গে নয়নের অনুসারীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে তাদের বাড়ির ফটক দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর বাইরে থেকে বাড়িটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ফুটেজে আদাবর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবির হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন এবং ১০০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাদেক হোসেনকে দেখা যায়।
তবে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। চাঁদাবাজি বা দখলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করতে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আদাবর থানা ছাত্রদল কমিটি বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার অধীন ছিল। গত মাসে রাতে মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ বলেন, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, আদাবরে চাঁদাবাজির ঘটনায় নয়নকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কারওয়ান বাজারের একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলায় বলা হয়েছে, কারওয়ান বাজারে চাঁদা তোলার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদাবরে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে সে ঘটনায় মামলা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, নয়নকে ঘিরে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








