বারবার ব্যর্থ পরিকল্পনায় আস্থা রাখছে সরকার

বারবার ব্যর্থ পরিকল্পনায় আস্থা রাখছে সরকার
জুবায়ের আহমেদ

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে একাধিকবার। এজন্য কখনও পাঁচ রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা, কখনও ঢাকা নগর পরিবহন, আবার কখনও একক পরিবহন কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো উদ্যোগেরই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি ।
পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞ, বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল, মালিকদের অসহযোগিতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় বারবার হোঁচট খেয়েছে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা। এরপরও এবার রাজধানীর ছয়টি রুটে একটি করে কোম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটে বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার বাস রুট চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বারবার উদ্যোগ, বাস্তবায়নে ব্যর্থতা
ঢাকার বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০০৪ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনায় প্রথম বাস রুট রেশনালাইজেশন বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর সুপারিশ করা হয়। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসে ২০১৬ সালে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সময়ে। তিনি ঢাকার শতাধিক বাস রুট কমিয়ে পাঁচটি রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা করেন। ২০১৭ সালে তিনি মারা যাওয়ায় এই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এরপর ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনকে সভাপতি করে গঠন করা হয় বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটে ২২টি কোম্পানির অধীনে নয়টি ভিন্ন রঙের বাস চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু বছর বছর বৈঠক হলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।
অবশেষে ২০২১ সালে এসে মাত্র তিনটি রুটে ৫০টি বাস নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। পরে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হলেও উদ্যোগটি সফল হয়নি। একই রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলতে থাকায় প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়নি। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের অসহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় যাত্রীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় বছরখানেক বন্ধও থাকে এই সেবা।
২০২৫ সালের আবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই দফায় ঢাকাজুড়ে ৪২টি রুটে ৯টি ভিন্ন রঙের বাস চলার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে ওই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত একটি রুটে ৩৫টি এসি বাস নিয়ে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ আবার চালু করা হয়। ধাপে ধাপে এই রুটের অন্য বাস কোম্পানিগুলোকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একই পথে অন্য বাস চলাচল, বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং তুলনামূলক বেশি ভাড়াসহ নানা সমস্যায় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ সেবা টিকতে পারেনি। এক মাসের মধ্যেই এই উদ্যোগ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে।
ছয় রুট নিয়ে ‘এক রুট এক কোম্পানি’
প্রস্তাবে ঢাকার ভেতরের রুট ১৯টি এবং শহরতলি বা আশপাশের এলাকার রুট ১৩টি। তবে যাত্রীদের চাহিদা ও চলাচলের ধরন বিবেচনায় ছোট, বড় ও চক্রাকার রুট মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি রুটের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে ডিটিসিএ।
নির্বাচিত রুটগুলোর মধ্যে গাজীপুর-বিমানবন্দর-মহাখালী-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত একটি রুট। এই রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ভিআইপি পরিবহন মিলে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপর একটি রুট গাবতলী-শ্যামলী-আগারগাঁও-মহাখালী-রামপুরা-ডেমরা পর্যন্ত। এই রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইচ পরিবহনের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানির বাস চলবে। এছাড়া দুয়ারীপাড়া-টেকনিক্যাল-আসাদগেট-নিউমার্কেট-সদরঘাট রুটে ট্রান্স সিলভা, দিশারী পরিবহন ও মেট্রো লিংক বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে সমন্বয় করে একটি কোম্পানির বাস চলবে।
ঘাটারচর-সায়েন্স ল্যাব-মৎস্য ভবন-মালিবাগ-রামপুরা-ডেমরা রুটে মালঞ্চ পরিবহন, রমজান এন্টারপ্রাইজ, মিডলাইন পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহন মিলে অপর একটি কোম্পানি গঠন করে সেটির অধীনে বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ঘাটারচর-মোহাম্মদপুর-সায়েন্স ল্যাব-কাকরাইল-হানিফ ফ্লাইওভার-চট্টগ্রাম রোড-কাঁচপুর রুটেও একক কোম্পানির বাস পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে মিরপুর-১২-ফার্মগেট-গুলিস্তান-মাওয়া রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহন বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে গঠিত একটি কোম্পানির বাস চলবে।
পাঁচ চক্রাকার রুটেও বাস চালুর সিদ্ধান্ত
একক কোম্পানির অধীনে ছয়টি রুটে বাস চালুর পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার রুট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ। এর মধ্যে ফার্মগেট-পান্থপথ-সায়েন্স ল্যাব-আজিমপুর-পলাশী, মোহাম্মদপুর-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান-আজিমপুর-জিগাতলা-শংকর-মোহাম্মদপুর, গুলশান-২-বনানী-গুলশান-১-আমতলী এবং শুটিং ক্লাব-নাবিস্কো-গুলশান-১ রুটে ঢাকা চাকা নামের একটি কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে কদম চত্বর-হাউজ বিল্ডিং-খালপাড়-পঞ্চবটী রুটে বাস পরিচালনা করবে উত্তরা চাকা নামের আরেকটি কোম্পানি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি চক্রাকার রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালিকদেরই ধারণা নেই
বিকাশ পরিবহন পরিচালনা পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আলাপ হয়নি। আমরা জানি না কী পরিকল্পনা হচ্ছে। আপনাদের মতো আমিও কেবল জেনেছি। যদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো।‘
মিরপুরের শিকড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন আমরা এই ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছি না। দ্বিতীয় ধাপে ডিসেম্বরের পরেও হতে পারে। আমরা এই ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবো। তবে পরিবহন মালিকেরা কীভাবে লাভ পাবেন, কীভাবে কোম্পানির শেয়ার পরিচালিত হবে-এসব বিষয় আমাদের আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।‘
পরিবহন মালিকদের উদ্যোগের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের বক্তব্যে যে অনিশ্চয়তা উঠে এসেছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করকে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এবার আমরা প্রত্যাশা করছি সব কিছুই ঠিক মতো হবে। সরকারও এ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধাপে ধাপেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।‘
বাসস্টপেজ, টিকিট কাউন্টার ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ
বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করতে ডিএমপি ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে একাধিকবার। এজন্য কখনও পাঁচ রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা, কখনও ঢাকা নগর পরিবহন, আবার কখনও একক পরিবহন কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো উদ্যোগেরই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি ।
পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞ, বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল, মালিকদের অসহযোগিতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় বারবার হোঁচট খেয়েছে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা। এরপরও এবার রাজধানীর ছয়টি রুটে একটি করে কোম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটে বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার বাস রুট চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বারবার উদ্যোগ, বাস্তবায়নে ব্যর্থতা
ঢাকার বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০০৪ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনায় প্রথম বাস রুট রেশনালাইজেশন বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর সুপারিশ করা হয়। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসে ২০১৬ সালে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সময়ে। তিনি ঢাকার শতাধিক বাস রুট কমিয়ে পাঁচটি রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা করেন। ২০১৭ সালে তিনি মারা যাওয়ায় এই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এরপর ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনকে সভাপতি করে গঠন করা হয় বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটে ২২টি কোম্পানির অধীনে নয়টি ভিন্ন রঙের বাস চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু বছর বছর বৈঠক হলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।
অবশেষে ২০২১ সালে এসে মাত্র তিনটি রুটে ৫০টি বাস নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। পরে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হলেও উদ্যোগটি সফল হয়নি। একই রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলতে থাকায় প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়নি। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের অসহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় যাত্রীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় বছরখানেক বন্ধও থাকে এই সেবা।
২০২৫ সালের আবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই দফায় ঢাকাজুড়ে ৪২টি রুটে ৯টি ভিন্ন রঙের বাস চলার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে ওই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত একটি রুটে ৩৫টি এসি বাস নিয়ে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ আবার চালু করা হয়। ধাপে ধাপে এই রুটের অন্য বাস কোম্পানিগুলোকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একই পথে অন্য বাস চলাচল, বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং তুলনামূলক বেশি ভাড়াসহ নানা সমস্যায় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ সেবা টিকতে পারেনি। এক মাসের মধ্যেই এই উদ্যোগ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে।
ছয় রুট নিয়ে ‘এক রুট এক কোম্পানি’
প্রস্তাবে ঢাকার ভেতরের রুট ১৯টি এবং শহরতলি বা আশপাশের এলাকার রুট ১৩টি। তবে যাত্রীদের চাহিদা ও চলাচলের ধরন বিবেচনায় ছোট, বড় ও চক্রাকার রুট মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি রুটের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে ডিটিসিএ।
নির্বাচিত রুটগুলোর মধ্যে গাজীপুর-বিমানবন্দর-মহাখালী-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত একটি রুট। এই রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ভিআইপি পরিবহন মিলে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপর একটি রুট গাবতলী-শ্যামলী-আগারগাঁও-মহাখালী-রামপুরা-ডেমরা পর্যন্ত। এই রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইচ পরিবহনের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানির বাস চলবে। এছাড়া দুয়ারীপাড়া-টেকনিক্যাল-আসাদগেট-নিউমার্কেট-সদরঘাট রুটে ট্রান্স সিলভা, দিশারী পরিবহন ও মেট্রো লিংক বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে সমন্বয় করে একটি কোম্পানির বাস চলবে।
ঘাটারচর-সায়েন্স ল্যাব-মৎস্য ভবন-মালিবাগ-রামপুরা-ডেমরা রুটে মালঞ্চ পরিবহন, রমজান এন্টারপ্রাইজ, মিডলাইন পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহন মিলে অপর একটি কোম্পানি গঠন করে সেটির অধীনে বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ঘাটারচর-মোহাম্মদপুর-সায়েন্স ল্যাব-কাকরাইল-হানিফ ফ্লাইওভার-চট্টগ্রাম রোড-কাঁচপুর রুটেও একক কোম্পানির বাস পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে মিরপুর-১২-ফার্মগেট-গুলিস্তান-মাওয়া রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহন বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে গঠিত একটি কোম্পানির বাস চলবে।
পাঁচ চক্রাকার রুটেও বাস চালুর সিদ্ধান্ত
একক কোম্পানির অধীনে ছয়টি রুটে বাস চালুর পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার রুট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ। এর মধ্যে ফার্মগেট-পান্থপথ-সায়েন্স ল্যাব-আজিমপুর-পলাশী, মোহাম্মদপুর-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান-আজিমপুর-জিগাতলা-শংকর-মোহাম্মদপুর, গুলশান-২-বনানী-গুলশান-১-আমতলী এবং শুটিং ক্লাব-নাবিস্কো-গুলশান-১ রুটে ঢাকা চাকা নামের একটি কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে কদম চত্বর-হাউজ বিল্ডিং-খালপাড়-পঞ্চবটী রুটে বাস পরিচালনা করবে উত্তরা চাকা নামের আরেকটি কোম্পানি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি চক্রাকার রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালিকদেরই ধারণা নেই
বিকাশ পরিবহন পরিচালনা পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আলাপ হয়নি। আমরা জানি না কী পরিকল্পনা হচ্ছে। আপনাদের মতো আমিও কেবল জেনেছি। যদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো।‘
মিরপুরের শিকড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন আমরা এই ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছি না। দ্বিতীয় ধাপে ডিসেম্বরের পরেও হতে পারে। আমরা এই ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবো। তবে পরিবহন মালিকেরা কীভাবে লাভ পাবেন, কীভাবে কোম্পানির শেয়ার পরিচালিত হবে-এসব বিষয় আমাদের আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।‘
পরিবহন মালিকদের উদ্যোগের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের বক্তব্যে যে অনিশ্চয়তা উঠে এসেছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করকে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এবার আমরা প্রত্যাশা করছি সব কিছুই ঠিক মতো হবে। সরকারও এ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধাপে ধাপেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।‘
বাসস্টপেজ, টিকিট কাউন্টার ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ
বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করতে ডিএমপি ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বারবার ব্যর্থ পরিকল্পনায় আস্থা রাখছে সরকার
জুবায়ের আহমেদ

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে একাধিকবার। এজন্য কখনও পাঁচ রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা, কখনও ঢাকা নগর পরিবহন, আবার কখনও একক পরিবহন কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো উদ্যোগেরই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি ।
পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞ, বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল, মালিকদের অসহযোগিতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় বারবার হোঁচট খেয়েছে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা। এরপরও এবার রাজধানীর ছয়টি রুটে একটি করে কোম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটে বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার বাস রুট চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বারবার উদ্যোগ, বাস্তবায়নে ব্যর্থতা
ঢাকার বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০০৪ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনায় প্রথম বাস রুট রেশনালাইজেশন বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর সুপারিশ করা হয়। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসে ২০১৬ সালে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সময়ে। তিনি ঢাকার শতাধিক বাস রুট কমিয়ে পাঁচটি রুটে পাঁচ রঙের বাস চালুর পরিকল্পনা করেন। ২০১৭ সালে তিনি মারা যাওয়ায় এই উদ্যোগ আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এরপর ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনকে সভাপতি করে গঠন করা হয় বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটে ২২টি কোম্পানির অধীনে নয়টি ভিন্ন রঙের বাস চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু বছর বছর বৈঠক হলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।
অবশেষে ২০২১ সালে এসে মাত্র তিনটি রুটে ৫০টি বাস নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’। পরে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হলেও উদ্যোগটি সফল হয়নি। একই রুটে অন্য কোম্পানির বাস চলতে থাকায় প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়নি। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের অসহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় যাত্রীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় বছরখানেক বন্ধও থাকে এই সেবা।
২০২৫ সালের আবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই দফায় ঢাকাজুড়ে ৪২টি রুটে ৯টি ভিন্ন রঙের বাস চলার কথা বলা হয়। তবে বাস্তবে ওই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত একটি রুটে ৩৫টি এসি বাস নিয়ে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ আবার চালু করা হয়। ধাপে ধাপে এই রুটের অন্য বাস কোম্পানিগুলোকেও একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একই পথে অন্য বাস চলাচল, বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং তুলনামূলক বেশি ভাড়াসহ নানা সমস্যায় ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ সেবা টিকতে পারেনি। এক মাসের মধ্যেই এই উদ্যোগ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে।
ছয় রুট নিয়ে ‘এক রুট এক কোম্পানি’
প্রস্তাবে ঢাকার ভেতরের রুট ১৯টি এবং শহরতলি বা আশপাশের এলাকার রুট ১৩টি। তবে যাত্রীদের চাহিদা ও চলাচলের ধরন বিবেচনায় ছোট, বড় ও চক্রাকার রুট মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি রুটের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে ডিটিসিএ।
নির্বাচিত রুটগুলোর মধ্যে গাজীপুর-বিমানবন্দর-মহাখালী-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত একটি রুট। এই রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ভিআইপি পরিবহন মিলে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অপর একটি রুট গাবতলী-শ্যামলী-আগারগাঁও-মহাখালী-রামপুরা-ডেমরা পর্যন্ত। এই রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইচ পরিবহনের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানির বাস চলবে। এছাড়া দুয়ারীপাড়া-টেকনিক্যাল-আসাদগেট-নিউমার্কেট-সদরঘাট রুটে ট্রান্স সিলভা, দিশারী পরিবহন ও মেট্রো লিংক বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে সমন্বয় করে একটি কোম্পানির বাস চলবে।
ঘাটারচর-সায়েন্স ল্যাব-মৎস্য ভবন-মালিবাগ-রামপুরা-ডেমরা রুটে মালঞ্চ পরিবহন, রমজান এন্টারপ্রাইজ, মিডলাইন পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহন মিলে অপর একটি কোম্পানি গঠন করে সেটির অধীনে বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ঘাটারচর-মোহাম্মদপুর-সায়েন্স ল্যাব-কাকরাইল-হানিফ ফ্লাইওভার-চট্টগ্রাম রোড-কাঁচপুর রুটেও একক কোম্পানির বাস পরিচালনা করা হবে।
অন্যদিকে মিরপুর-১২-ফার্মগেট-গুলিস্তান-মাওয়া রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহন বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে গঠিত একটি কোম্পানির বাস চলবে।
পাঁচ চক্রাকার রুটেও বাস চালুর সিদ্ধান্ত
একক কোম্পানির অধীনে ছয়টি রুটে বাস চালুর পাশাপাশি পাঁচটি চক্রাকার রুট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ। এর মধ্যে ফার্মগেট-পান্থপথ-সায়েন্স ল্যাব-আজিমপুর-পলাশী, মোহাম্মদপুর-মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-কলাবাগান-আজিমপুর-জিগাতলা-শংকর-মোহাম্মদপুর, গুলশান-২-বনানী-গুলশান-১-আমতলী এবং শুটিং ক্লাব-নাবিস্কো-গুলশান-১ রুটে ঢাকা চাকা নামের একটি কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে কদম চত্বর-হাউজ বিল্ডিং-খালপাড়-পঞ্চবটী রুটে বাস পরিচালনা করবে উত্তরা চাকা নামের আরেকটি কোম্পানি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও তিনটি চক্রাকার রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালিকদেরই ধারণা নেই
বিকাশ পরিবহন পরিচালনা পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আলাপ হয়নি। আমরা জানি না কী পরিকল্পনা হচ্ছে। আপনাদের মতো আমিও কেবল জেনেছি। যদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো।‘
মিরপুরের শিকড় পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন আমরা এই ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছি না। দ্বিতীয় ধাপে ডিসেম্বরের পরেও হতে পারে। আমরা এই ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবো। তবে পরিবহন মালিকেরা কীভাবে লাভ পাবেন, কীভাবে কোম্পানির শেয়ার পরিচালিত হবে-এসব বিষয় আমাদের আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।‘
পরিবহন মালিকদের উদ্যোগের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের বক্তব্যে যে অনিশ্চয়তা উঠে এসেছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করকে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘এবার আমরা প্রত্যাশা করছি সব কিছুই ঠিক মতো হবে। সরকারও এ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধাপে ধাপেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।‘
বাসস্টপেজ, টিকিট কাউন্টার ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ
বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করতে ডিএমপি ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চার উদ্যোগ সরকারের






