এক প্রাঙ্গণে দুই স্কুল, শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকটে আরমানিটোলা বিদ্যালয়

এক প্রাঙ্গণে দুই স্কুল, শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকটে আরমানিটোলা বিদ্যালয়
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে চলছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একদিকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, অন্যদিকে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল। সীমিত জায়গায় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলায় তৈরি হয়েছে অবকাঠামোগত চাপ। এরসঙ্গে রয়েছে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও অপরিচ্ছন্নতার মতো নানা সমস্যা।
সরেজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো ভবনের বেশ কিছু কক্ষ বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রশাসনিক ভবনের কয়েকটি জানালা ভাঙা, কোথাও কোথাও ছাদের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বন্ধ কক্ষগুলো অনেকটাই অযত্নে পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের মাঠেও বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। জমে থাকা পানির আশপাশে পড়েছিলো ময়লা-আবর্জনা। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও স্বাভাবিক খেলাধুলায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বাথরুমের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। নোংরা পরিবেশ ও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। একটি তিনতলা এবং অন্যটি ছয়তলা। এছাড়া অন্য একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামোর ওপর শিক্ষার্থীদের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন একটি পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে শ্রেণিকক্ষের চাপ কিছুটা কমবে। তবে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে, একই জায়গায় রয়েছে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের পাঁচতলা ভবন। অর্থাৎ সীমিত জায়গার মধ্যেই দুইটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও চলাচলের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই স্থানে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
বর্তমানে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফটে পাঠদান চলছে। প্রথম শিফট শুরু হয় সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শিফট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত । সকাল শিফটে আরমানিটোলা স্কুলের ছেলে ও নিউ গভারমেন্ট গার্লস স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা একই সময়ে ক্লাস করে। আর দুপুরের শিফটে শুধু ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অবস্থান করায় সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
শিক্ষকস্বল্পতাও বিদ্যালয়টির অন্যতম বড় সমস্যা। বিদ্যালয়ে মোট ৫৬টি শিক্ষক পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩৬ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের তুলনায় ২০ জন শিক্ষক কম। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান দুই শিফটে পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর পড়ছে বাড়তি দায়িত্ব।

আরমানিটোলা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নেই। ৫৬টি পদের বিপরীতে ৩৬ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দুই শিফটে ক্লাস হওয়ায় শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপও বেশি। শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পুরোনো ভবনের একটি অংশ পরিত্যক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে শিক্ষক সংকট সমাধান না হলে শুধু অবকাঠামো বাড়িয়ে পুরো সমস্যার সমাধান হবে না।
এসব বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা সাহিদা খানম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বৃষ্টির সময় মাঠে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কুকুরের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে এবং কুকুরের উপদ্রব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই জায়গায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহারে চাপ রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে চলছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একদিকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, অন্যদিকে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল। সীমিত জায়গায় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলায় তৈরি হয়েছে অবকাঠামোগত চাপ। এরসঙ্গে রয়েছে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও অপরিচ্ছন্নতার মতো নানা সমস্যা।
সরেজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো ভবনের বেশ কিছু কক্ষ বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রশাসনিক ভবনের কয়েকটি জানালা ভাঙা, কোথাও কোথাও ছাদের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বন্ধ কক্ষগুলো অনেকটাই অযত্নে পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের মাঠেও বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। জমে থাকা পানির আশপাশে পড়েছিলো ময়লা-আবর্জনা। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও স্বাভাবিক খেলাধুলায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বাথরুমের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। নোংরা পরিবেশ ও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। একটি তিনতলা এবং অন্যটি ছয়তলা। এছাড়া অন্য একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামোর ওপর শিক্ষার্থীদের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন একটি পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে শ্রেণিকক্ষের চাপ কিছুটা কমবে। তবে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে, একই জায়গায় রয়েছে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের পাঁচতলা ভবন। অর্থাৎ সীমিত জায়গার মধ্যেই দুইটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও চলাচলের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই স্থানে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
বর্তমানে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফটে পাঠদান চলছে। প্রথম শিফট শুরু হয় সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শিফট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত । সকাল শিফটে আরমানিটোলা স্কুলের ছেলে ও নিউ গভারমেন্ট গার্লস স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা একই সময়ে ক্লাস করে। আর দুপুরের শিফটে শুধু ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অবস্থান করায় সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
শিক্ষকস্বল্পতাও বিদ্যালয়টির অন্যতম বড় সমস্যা। বিদ্যালয়ে মোট ৫৬টি শিক্ষক পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩৬ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের তুলনায় ২০ জন শিক্ষক কম। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান দুই শিফটে পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর পড়ছে বাড়তি দায়িত্ব।

আরমানিটোলা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নেই। ৫৬টি পদের বিপরীতে ৩৬ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দুই শিফটে ক্লাস হওয়ায় শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপও বেশি। শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পুরোনো ভবনের একটি অংশ পরিত্যক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে শিক্ষক সংকট সমাধান না হলে শুধু অবকাঠামো বাড়িয়ে পুরো সমস্যার সমাধান হবে না।
এসব বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা সাহিদা খানম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বৃষ্টির সময় মাঠে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কুকুরের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে এবং কুকুরের উপদ্রব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই জায়গায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহারে চাপ রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এক প্রাঙ্গণে দুই স্কুল, শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকটে আরমানিটোলা বিদ্যালয়
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে চলছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একদিকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, অন্যদিকে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল। সীমিত জায়গায় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলায় তৈরি হয়েছে অবকাঠামোগত চাপ। এরসঙ্গে রয়েছে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও অপরিচ্ছন্নতার মতো নানা সমস্যা।
সরেজমিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো ভবনের বেশ কিছু কক্ষ বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। প্রশাসনিক ভবনের কয়েকটি জানালা ভাঙা, কোথাও কোথাও ছাদের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বন্ধ কক্ষগুলো অনেকটাই অযত্নে পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের মাঠেও বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। জমে থাকা পানির আশপাশে পড়েছিলো ময়লা-আবর্জনা। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল ও স্বাভাবিক খেলাধুলায়ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বাথরুমের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। নোংরা পরিবেশ ও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে। একটি তিনতলা এবং অন্যটি ছয়তলা। এছাড়া অন্য একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামোর ওপর শিক্ষার্থীদের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন একটি পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে শ্রেণিকক্ষের চাপ কিছুটা কমবে। তবে নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি কবে নাগাদ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে, একই জায়গায় রয়েছে নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের পাঁচতলা ভবন। অর্থাৎ সীমিত জায়গার মধ্যেই দুইটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও চলাচলের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই স্থানে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
বর্তমানে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফটে পাঠদান চলছে। প্রথম শিফট শুরু হয় সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শিফট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত । সকাল শিফটে আরমানিটোলা স্কুলের ছেলে ও নিউ গভারমেন্ট গার্লস স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা একই সময়ে ক্লাস করে। আর দুপুরের শিফটে শুধু ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয়। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অবস্থান করায় সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
শিক্ষকস্বল্পতাও বিদ্যালয়টির অন্যতম বড় সমস্যা। বিদ্যালয়ে মোট ৫৬টি শিক্ষক পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩৬ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের তুলনায় ২০ জন শিক্ষক কম। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান দুই শিফটে পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে কর্মরত শিক্ষকদের ওপর পড়ছে বাড়তি দায়িত্ব।

আরমানিটোলা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নেই। ৫৬টি পদের বিপরীতে ৩৬ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দুই শিফটে ক্লাস হওয়ায় শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপও বেশি। শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পুরোনো ভবনের একটি অংশ পরিত্যক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে শিক্ষক সংকট সমাধান না হলে শুধু অবকাঠামো বাড়িয়ে পুরো সমস্যার সমাধান হবে না।
এসব বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা সাহিদা খানম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বৃষ্টির সময় মাঠে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কুকুরের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে এবং কুকুরের উপদ্রব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই জায়গায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহারে চাপ রয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

উচ্ছেদের পর রাত পোহাতেই আগের চেহারায় বাদামতলী







