অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, দুই দাবিতে উত্তাল হোম ইকোনমিকস

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, দুই দাবিতে উত্তাল হোম ইকোনমিকস
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) শিক্ষার্থীরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং আবাসিক হলের আসন বাতিলকে কেন্দ্র করে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সে (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। শুরুতে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করলেও পরে মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্দোলন আরও জোরালো হয়।

এখন অধ্যক্ষের পদত্যাগের পাশাপাশি পুলিশের হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজপথে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ‘এক দুই তিন চার, মেহেরুন্নেসা গদি ছাড়’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, হোম ইকোনমিক্স জেগেছে’, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, জবাব চাই’ এবং ‘আমার বোন আহত কেন, জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমতে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে নন-কলেজিয়েট ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের অসহযোগিতা। কলেজের ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার পর ক্যান্টিন পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও অধ্যক্ষ তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ তাদের।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হল ফেস্টের আয়োজনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, হল ফেস্ট দেরিতে শেষ হওয়ার কারণে এসি ব্যবহারের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ। এ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করা হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে পুলিশ ডেকে এনে তাদের ওপর মারধর ও লাঠিচার্জ করা হয়। বিশেষ করে মধ্যরাতে কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপরই অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও পুলিশের হামলার বিচার দাবিতে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

শিক্ষার্থী আদ্রিতা জামান বলেন, আমাদের দুই দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ এবং পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা। আর মধ্যরাতে কলেজ ও আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ, লাঠিচার্জ ও হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিচার করতে হবে। আমাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকার বলেন, কলেজের অধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে এমন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে পুলিশ উদ্ধার করে।

/এফসি/