জাবিতে আসছে সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার: উপাচার্য

জাবি প্রতিনিধি
জাবি প্রতিনিধি
জাবিতে আসছে সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার: উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সেশনজট কমানো এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় সভাপতিদের সঙ্গে সভা শেষে উপাচার্য জানান, এত দিন বিভিন্ন বিভাগ নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করত। এতে বিভাগগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুষদভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত একাডেমিক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের জন্য যেন অযথা কয়েক মাস অপেক্ষা করতে না হয় এবং সেশনজটের সমস্যা দূর করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন বিভাগগুলো আলাদাভাবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও নতুন পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করে প্রতিটি অনুষদের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হবে।

তিনি জানান, নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডারে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি, ক্লাস শুরুর তারিখ এবং পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা থাকবে। পাশাপাশি কোন বিভাগ আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতির আওতায় আসবে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রাখা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি একটি কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সভাপতিরা সম্মত হয়েছেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ নিজ বিভাগের একাডেমিক প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্য সময়সূচি সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের কাছে জমা দেবেন।

বিভাগগুলো থেকে প্রস্তাবনা পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করবে একটি কেন্দ্রীয় পরিষদ। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের সমন্বয়ে এ পরিষদ গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর একাডেমিক কার্যক্রমের ধরন, সময়ের চাহিদা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিষদটি প্রস্তাবনাগুলো মূল্যায়ন করবে। পরে এসব পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হবে।

উপাচার্য জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে যেসব ব্যাচের কার্যক্রম শুরু হবে, তাদের জন্য শুরু থেকেই একটি অভিন্ন কাঠামো অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহজ ও সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার প্রণয়নের মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি না হয়।

অন্যদিকে, ৫৬তম ব্যাচের আগের ব্যাচগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান একাডেমিক পদ্ধতির ভিন্নতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগে বর্ষভিত্তিক পদ্ধতি, আবার কোনো বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ দুই ব্যবস্থার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি অনুষদের জন্য পৃথকভাবে সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান কাঠামো বজায় রেখেই বিভাগগুলোর কার্যক্রমে সময়সূচিগত সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সভাপতিরা একমত হয়েছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভর্তি, পাঠদান, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেশনজটমুক্ত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন উপাচার্য।

/এমআর/