শিরোনাম

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, আর্জেন্টিনার রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
কেপ ভার্দের বিপক্ষে তৃতীয় গোল করার সময় ক্রিস্টিয়ান রোমেরো

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অভিষিক্ত কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা দলটির বিপক্ষে এমন ঘামঝরানো জয় আলবিসেলেস্তেদের মাঠের পারফরম্যান্স এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

পুরো ম্যাচে দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। এটি লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের রক্ষণভাগের ভঙ্গুর অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর একটি জোরালো হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে অবসান ঘটে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি সতর্ক করেছিলেন, গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করা কেপ ভার্দে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। তবে নবাগত দলটির কাছ থেকে এতটা তীব্র প্রতিরোধ আসবে, তা হয়তো অনেকেই অনুধাবন করতে পারেননি।

গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সেরই জানান দিচ্ছিল। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে কোনোমতে রক্ষা পাওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে দলটিকে নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষের মান নিয়ে আগে থেকেই ফুটবল মহলে প্রশ্ন ছিল। কারণ ২০২২ বিশ্বকাপের পর চলতি বছরের জুনে আইসল্যান্ডই ছিল তাদের প্রথম ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ। ফলে তাদের রক্ষণভাগও দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়েনি। এই পরিস্থিতিকে দলের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন দেশটির সাবেক তারকা ও রিভার প্লেটের সাবেক কোচ মার্সেলো গায়ার্দো। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে তিনি বলেন, যা হয়েছে দলের ভালোর জন্যই হয়েছে এবং এখন খেলোয়াড়দের মাঠে এর মোক্ষম প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।

এদিকে প্রথমার্ধে বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ড ২০তম গোল করা ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসি ম্যাচ শেষে শারীরিক ক্লান্তির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের অর্ধে কার্যকরভাবে প্রেস করতে না পারায় আর্জেন্টিনাকে অনেকটা সময় অতিরিক্ত দৌড়াতে হয়েছে এবং মাঠের লাইনগুলোর মধ্যেও দূরত্ব অনেক বেশি ছিল। তবে কোচ স্ক্যালোনি দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয় এবং দল যেভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আর্জেন্টিনার এ স্বস্তির জয়ের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন চোট কাটিয়ে স্কোয়াডে ফেরা দুই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার। ২০২৫ সালের শুরুতে লিগামেন্টের গুরুতর চোটে পড়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরুতে হাঁটুর চোটে পড়া ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাঠে ফিরেই দলের জয়সূচক গোলের মোক্ষম সুযোগটি তৈরি করে দেন। ম্যাচ শেষে মার্তিনেজ তার কঠিন সময় কাটিয়ে জাতীয় দলে অবদান রাখতে পেরে চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের প্রতি আবেগঘন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

/এমএকে/