
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


রেফারি বাঁশি বাজাতেই যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো আর্জেন্টিনা দল! ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে কেপ ভার্দেকে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ ড্র করে শেষ-৩২ এ জায়গা করে নেয় প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা কেপ ভার্দে। তাদের তিন ড্র যে চমক ছিল না সেটিই যেনো প্রমাণ করলো কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিতে। জয় না পেলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘাম ঝড়িয়েছেন।
মায়ামিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচে ছিল ১-১ সমতা। ২৯ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে যা তার সপ্তম গোল। তাতে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা হয় ২০টি। টুর্নামেন্টে টানা আট ম্যাচে গোলের কীর্তিও গড়েন তিনি। ৫৯ মিনিটে মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেসের পাস ধরে আড়াআড়ি শটে গোল করেন কেপ ভার্দে ফরোয়ার্ড দুয়ার্তে।
আর গোল না হলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। নাটকের তখনো বহু বাকি! অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে ১০৩ মিনিটে মাঠের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে আবার কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান সিডনি লোপেস কাবরাল। ১১১ মিনিটে মেসির কর্নারে রোমেরো হেড করেন গোলের জন্য। তার হেডে বল জালে জড়ানোর আগে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনাই বোর্হেসের হাতে লাগে। অবশ্য বল আর রুখতে পারেননি কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়া। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে জয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
অনেক দিন মনে রাখার মতো এক ফুটবল ম্যাচ উপহার দিয়েছে কেপ ভার্দে। ছিল রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা, আবেগ, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্ত। আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও গোলকিপার ভোজিনিয়াকে মনে থাকবে অনেক দিন। চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে থাকা মেসিকে এই ম্যাচে বেশ কয়েকবার রুখে দেন তিনি। মেসির ফ্রি-কিক আটকান, এছাড়া ওয়ান টু ওয়ানেও সফলতা পান। ভোজিনিয়া ম্যাচে মোট ৮টি সেভ দেন।
ম্যাচে ৬৪ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। কেপ ভার্দের ১৬ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মোহামেদ সালাহর মিসর।

এবার ম্যাচের ১১১ মিনিটে মেসির কর্নারে রোমেরোর হেড করেন গোলের জন্য। তার হেডে বল জালে জড়ানোর আগে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনাই বোর্হেসের হাতে লাগে। অবশ্য বল আর রুখতে পারেননি গোলকিপার ভোজিনিয়া।

অতিরিক্ত সময়ের ১৩ মিনিটে আবার গোল শোধ করে কেপ ভার্দে। মাঠের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বল পেয়ে ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নেন সিডনি লোপেস কাবরাল, বল গিয়ে জড়ায় দূরের পোস্টের ওপরের জালে। গোল করার পর উচ্ছ্বাসে ছুটে যান কাবরাল। গ্যালারিতে লাফ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করেন। তার মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিলো, মুহূর্তটি তিনিও যেনো বিশ্বাস করতে পারছেন না।

অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। কর্নারে বলটি একজনের ছোঁয়ায় শেষ পর্যন্ত এসে পরে দূরের পোস্টে থাকা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে। বাঁ পায়ে বুলেট গতির শট নেন মার্তিনেজ। বল জালে জড়ালে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মাতেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় গোল পেলেন লিসান্দ্রো।
প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ৫৯ মিনিটে মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেসের পাস ধরে আড়াআড়ি শটে গোল করেন কেপ ভার্দে ফরোয়ার্ড দুয়ার্তে। এরপর দ্বিতীয় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা।
তবে শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। এখন ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি তবে সেটি রুখে দেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজেনিয়া।
পুরো ম্যাচে আরও বেশ কয়েকবার মেসিকে হতাশ করেন ভোজিনিয়া।

৭৩ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। ফ্রি-কিক ঠেকানোর প্রস্তুতি তখনও পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি ভোজিনিয়া। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত শট নেন লিওনেল মেসি, বল পাঠাতে চান দূরের পোস্টে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভোজিনিয়া দ্রুত নিজের অবস্থান ঠিক করেন। গোললাইন বরাবর ছুটে গিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় হাত বাড়িয়ে বলটি ফিরিয়ে দেন।
লিওনেল মেসি একা গোলমুখে ছুটে গিয়েছিলেন। গোলের দারুণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল তার সামনে। কিন্তু কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া অসাধারণ দক্ষতায় শরীর ছড়িয়ে দেন এবং মেসির শট ঠেকিয়ে দেন দুর্দান্ত। এই সেভটি ভোজিনিয়া অনেক দিন মনে রাখবেন- ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকতে পারে এটি।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেসের স্কয়ার পাস ধরে আড়াআড়ি শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন কেপ ভার্দে ফরোয়ার্ড দেরয় দুয়ার্তে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে গোলটি করেন মেসি। নিখুঁত এক লম্বা পাস বাড়ান লিসান্দ্রো মার্তিনেস। বলটি গিয়ে পড়ে লিওনেল মেসির দৌড়ের পথে, আর ততক্ষণে তিনি ডিফেন্ডারের থেকে অর্ধ গজ এগিয়ে। প্রথম স্পর্শেই বলকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনেন মেসি। এরপর দ্বিতীয় ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০তম গোল। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচ গোল করার কীর্তি গড়লেন মেসি।
৪৫ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের কাটব্যাকে ফার্নান্দেজ বক্সের ঠিক ওপর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। তবে বাঁ দিকে ঝাপিয়ে সেটা রুখে দেন কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়া। ফলে আর ব্যবধান বাড়েনি প্রথমার্ধে। এর আগে মেসির ফ্রি-কিকও সহজেই নিজের আয়ত্তে নেন কেপ ভার্দের গোলকিপার।
প্রথমার্ধে ৬৪ শতাংশ সময়ে বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে চারটি শট নেয় আর্জেন্টিনা দল, যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে। কেপ ভার্দে একটি শট নিলেও তাতে ভয়ের কিছু ছিলো না।

মাঝমাঠ থেকে লম্বা করে বল বাড়ালেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। বল ধরে বক্সে ঢুকে এক টাচে বলের নিয়ন্ত্রণ নিলেন। পরের টাচেই জালে জড়ালেন বল। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০তম গোল। এই গোলে রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করলেন, যার ৬টি নকআউট পর্বে।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে ফ্রি-কিক নেন মেসি। তবে সেটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আর্জেন্টিনার গোলের অপেক্ষা বাড়ান কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া। পরের মিনিটে কেপ ভার্দের বক্সের ভেতর মেসি দৌড়ে বল ধরতে পারেননি। সেটি ধরতে পারলে হয়তো বিপদ ঘটতো আফ্রিকার দলটির জন্য। বলটি মেসির উদ্দেশ্যে বাড়িয়েছিলেন মলিনা।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম গোলের উদ্দেশ্যে শট নেয় আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢুকে শটটি নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তবে তার দুর্বল শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট ভালোই খেলেছে কেপ ভার্দে। নিজেদের গুটিয়ে না রেখে চেষ্টা করছে আক্রমণে যাওয়ার। যদিও এখনো বলার মতো কোনো সুযোগ কেউই তৈরি করতে পারেনি তারা। আর্জেন্টিনাও এখলো গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলছে বল দখলের লড়াই।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়লেন মেসি। এই ম্যাচটি বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। এটি বিশ্বকাপে মেসির ২৭তম একাদশে শুরু করা ম্যাচ, এটিও আরেক নতুন রেকর্ড।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে আসরের বড় চমক কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লিওনেল স্কালোনি একাদশে ৯ পরিবর্তন এনেছিলেন। লিওনেল মেসিসহ নিয়মিতদের অনেকেই নামেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে। কেপ ভার্দে ম্যাচে তারাসহ শুরুর একাদশে ফিরেছেন চোট কাটিয়ে ফেরা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
এদিকে কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে খেলা সব শেষ ম্যাচ থেকে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে।
আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলকিপার), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেজ।