শিরোনাম

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, আলোচনায় ফখরুল-হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, আলোচনায় ফখরুল-হাফিজ
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হচ্ছে না রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের আয়োজন হতে যাচ্ছে।

গত ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত এবং দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে তার নাম দলীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ফখরুল ও হাফিজ-দুজনেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং দলের ভেতরে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম চূড়ান্ত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা জানানো হবে।

এদিকে, শুরুতে অনাগ্রহ দেখালেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

জামায়াতের ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে। এ বিষয়ে রবিবার (৯ আগস্ট) ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর নাম ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হলেও এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর প্রতিবার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত এবার প্রার্থী দেওয়ায় ৩৫ বছর পর ফের ভোটের মুখে পড়ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় শেষ হাসি তাদের প্রার্থীরই হবে- এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

/এসবি/