যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ: জামায়াত আমির
সেমিনারে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছে, মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না। তেমনি কিছু গোষ্ঠী ও দল আছে, যারা ঘুষ এবং মানুষের উপর জুলুম করা ছাড়াও বাঁচতে পারে না। কিন্তু এই জাতি কি তাদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করবে? প্রশ্নই উঠে না। আমরা হচ্ছি বীরের জাতি। কিন্তু যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ—আমাদের কিসমতই এমন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালেশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশ থেকে কেউ আরব আমিরাতে গেলে, তাকে ভিসা অকার্যকরের কথা বলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একটা দেশের নাগরিকরা এভাবে ফিরে আসবেন এটা শুধু কাজের অধিকার নয়, বরং দেশকেও অপমান করা। নিশ্চয় কোনো কারণ আছে এবং এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব কি? সরকার কি বসে বসে গুনবে যে কতজন ফেরত আসলো? নাকি এই সমস্যার সমাধান করা তাদের দায়িত্ব? সপ্তাহের পর সপ্তাহ অতিবাহিত হলো, কিন্তু এর সমাধান হচ্ছে না কেন?

তিনি বলেন, আমরা চাই মালেশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হোক। তবে এ প্রক্রিয়ায় অসৎ কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান না থাকে। মানুষ তাদের জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যায়।

জামায়াত আমীর বলেন, মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না। তেমনি কিছু গোষ্ঠী ও দল আছে, যারা ঘুষ এবং মানুষের উপর জুলুম করা ছাড়াও বাঁচতে পারে না। কিন্তু এই জাতি কি তাদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করবে? প্রশ্নই উঠে না। আমরা হচ্ছি বীরের জাতি। কিন্তু যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ—আমাদের কিসমতই এমন।

তিনি বলেন, লঙ্কায় যাওয়ার আগে একেকজন দরবেশ হিসেবে আসে। তখন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু যখনই লঙ্কায় যায়, তখন সবকিছুই ভুলে যায়। কিছু আর মনে থাকে না। বর্তমান সরকারও দেশের মানুষের সাথে তাই করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা যতগুলো ওয়াদা করেছে, এখন অবলীলায় সবগুলো অস্বীকার করছে। তারা এখন উল্টো পথে চলছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/