‘নতুন স্বৈরাচারের জন্য জীবন দিইনি’, টাঙ্গাইলের পথসভায় জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘নতুন স্বৈরাচারের জন্য জীবন দিইনি’, টাঙ্গাইলের পথসভায় জামায়াত আমির
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডের পথসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নতুন স্বৈরাচারের জন্য আমরা জীবন দিইনি। নতুন স্বৈরাচারে পথে হাঁটা সরকার আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর দ্বিতীয় কর্মসূচি দেখে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছে। সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া ৭০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে রায় বাস্তবায়ন না করে।

তিনি বলেন, তারা নির্বাচনের আগে বলেছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তারা এখন জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করছেন না। কেন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করছেন না। বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় পথসভা শুরু হয়।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সকল প্রকার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আগামীতে ঢাকার লংমার্চের যোগ দেওয়ার জন্য জনতাকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যখন রাস্তায় নেমেছে, দাবি আদায় হবেই।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচার বসেছে। সামনে আমাদের কঠিন লড়াই। গত সাত মাসে পদে পদে দলীয়করণ করা হয়েছে। কথা ছিল দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত হবে বাংলাদেশ। কিন্তু কর্মসংস্থান হচ্ছে শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের। আমরা এমন বাংলাদেশ হতে দেবো না।

এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমরা নিজস্ব লাভের জন্য আসিনি। আমরা চাই সরকার জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিচ্ছে, তা পূরণ করুক। সরকারকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের মতো যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, এভাবে দেশ চলতে পারে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রমাণ করেছে জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছে। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে যে ভাষায় কথা বুঝতে সে ভাষায় কথা বলা হবে। অধিকার আদায়ের ডাক এলে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে লাখ লাখ জনতার ভালোবাসা নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের জনপদে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।

টাঙ্গাইলের পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয়।

টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে পথে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়; বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেবে এবং সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।

/এফসি/